মঙ্গলবার, ১৮ জুন ২০২৪, ৪ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ঠিক কতক্ষণ এসি চালানো উচিত?

আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ০৫:০৭ পিএম

একসময় এসি ছিল বিলাসপণ্যের তালিকায়, এখন তা হয়ে গেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী। ঘরে কিংবা অফিসে আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করতে ব্যবহৃত হচ্ছে এসি। এসির শীতল পরশে প্রশান্ত হয় শরীর-মন। কর্মব্যস্ততার পর ঘরে ফিরে এসির শীতল পরশে দূর হয় সব ক্লান্তি। কিংবা কর্মক্ষেত্র হয় স্বস্তির। কিন্তু ঠিক কতক্ষণ এসি চালানো উচিত?

বিশেষজ্ঞদের মতে, একটি এসি প্রতিবার ১৫ থেকে ২০ মিনিটের জন্য চালানো উচিত। এ ক্ষেত্রে এসির তাপমাত্রা অনেকটা কমিয়ে ঘর ঠান্ডা করতে হবে। তারপর ২০ মিনিট পর এসি বন্ধ করে দিতে হবে। এতে ঘর অনেকক্ষণ পর্যন্ত ঠান্ডা থাকবে। এ ক্ষেত্রে সচেতন থাকতে হবে কোনো দিক দিয়ে যেন গরম বাতাস ঘরে না ঢোকে। এ জন্য ঘরের জানালা-দরজা বন্ধ রাখতে হবে। আর জানালায় অবশ্যই ভারী পর্দা ব্যবহার করতে হবে। অতিরিক্ত গরমের দিনে প্রয়োজন হলে এসি বেশিক্ষণ চালানো যেতে পারে। তবে চেষ্টা করতে হবে তাপমাত্রা কমিয়ে ঘর দ্রুত ঠান্ডা করে তারপর এসি বন্ধ করে দেওয়ার।

রাতে এসি ২৪ থেকে ২৬ ডিগ্রিতে চালান। তারপর স্লিপ মোড অন করে রাখুন। এই তাপমাত্রায় ধীরে ধীরে বাইরের তাপমাত্রা অনুযায়ী এসি নিজের টেম্পারেচার ঠিক করে নিতে পারে। ফলে ঘুমের মধ্যে আর ঠান্ডা লাগার ভয় থাকে না। তবে সব এসিতে স্লিপ মোড থাকে না। যাদের এসিতে স্লিপ মোড নেই, তারা ভোর বেলায় উঠে এসি বন্ধ করে ফ্যান চালিয়ে দিন। এই কাজটা করলে সুস্থ থাকতে পারবেন। সারা রাত ঘরে এসি চালানোর প্রয়োজন নেই। টাইমার সেট করে রাখতে পারেন, যাতে ভোরবেলা এসি বন্ধ হয়ে যায়।

এসির তাপমাত্রা যত কমাবেন, কম্প্রেসর তত বেশি চলবে এবং বিদ্যুৎও খরচও তত বেশি হবে। আমাদের শরীরের তাপমাত্রা সাধারণত ৩৬-৩৭ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে থাকে। গরমে বাইরের তাপমাত্রা থাকে ৩৪-৪০ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডের মধ্যে। এ সময় ঘরের তাপমাত্রা ১৬ কিংবা ১৮ ডিগ্রি না রেখে ২৪ ডিগ্রি সেন্টিগ্রেডে রাখতে পারেন।

এই গরমে রাস্তায় অনেকটা সময় কাটিয়ে হঠাৎ করে এসিতে ঢুকলে ঠান্ডা লাগার আশঙ্কা বাড়বে। সেক্ষেত্রে গরম থেকে এসি-তে ঢোকার আগে পাঁচ মিনিট একটু অপেক্ষা করুন। এমনকী এসি থেকে রোদে বের হওয়ার আগে একটু ছায়ায় অপেক্ষা করে তারপর বাইরে পা দিন। তাহলে তাপমাত্রার তারতম্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারবে শরীর। ফলে অসুস্থ হওয়ার ঝুঁকি কমবে। 

এসিতে থাকলে ঘাম কম হয়। এ কারণ অনেকে পর্যাপ্ত পরিমাণে পানি খান না। এতে শরীরে পানির ঘাটতি হওয়ার আশঙ্কা বাড়ে। এই সমস্যা এড়িয়ে চলতে চাইলে এসিতে থাকলেও দিনে অন্ততপক্ষে ৩ লিটার পানি পান করুন। তাহলে শরীরে পানির ঘাটতি মিটবে। তবে ক্রনিক কিডনি ডিজিজ থাকলে হঠাৎ করে পানি পান বাড়াবেন না। বরং চিকিৎসকের পরামর্শ মেনে পানি পান করুন।

এসি চালানোর সময় সবচেয়ে বড় ফ্যাক্টর হলো আপনার এসির আকার। বেশি টনের এসির ১০ মিনিট চালালেই ঘর দ্রুত ঠান্ডা হবে। ছোট আকারের এসি ঘর পর্যাপ্ত ঠান্ডা করতে অনেক বেশি সময় নেয়। তাপমাত্রা কমিয়েও যদি ২০ মিনিটের বেশি ধরে এসি ঘর ঠান্ডা করতে না পারে, তাহলে বুঝবেন আপনার ঘর অনুযায়ী এয়ার কন্ডিশনার ছোট আকারের।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত