সোমবার, ১৭ জুন ২০২৪, ২ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

ইমাম রেজার মাজারে রাইসির শেষ ঠিকানা

আপডেট : ২৩ মে ২০২৪, ০৮:২০ পিএম

দ্বাদশবাদী শিয়া মুসলমানদের বারো ইমামের অন্তর্ভুক্ত অষ্টম ইমাম আলী রেজার মাজার  ইরানের মাশহাদে অবস্থিত। এই মাজারেই দাফন করা হবে ইরানের প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসিকে। তাই শহর মাশহাদ থেকে ইমাম রেজার পবিত্র মাজার রাইসির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় যোগদানকারীদের মাধ্যমে পরিপূর্ণ।

এরই মধ্যে বৃহস্পতিবার রাইসির মরদেহ বহনকারী বিমান মাশহাদের হাশেমিনেজাদ বিমানবন্দরে পৌঁছেছে। এখন চলছে রাইসিকে শেষ বিদায় জানানোর প্রক্রিয়া। তাকে শেষ বিদায় জানাতে জড়ো হয়েছেন লাখ লাখ মানুষ।

মাশহাদে বসবাসরত বিদেশী কূটনীতিকদের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশের কর্মকর্তারা রাইসির অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া অনুষ্ঠানে যোগ দিতে আজ মাশহাদে যাত্রা পৌঁছেছেন। খবর ইরনার।

ইরাক, আফগানিস্তান, পাকিস্তান, তুর্কিয়ে, তুর্কমেনিস্তান, সৌদি আরব এবং জাতিসংঘের মতো দেশগুলোর মাশহাদে সক্রিয় কনস্যুলেট এবং প্রতিনিধি অফিস রয়েছে। জানাজা অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণকারী বিদেশি কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন ইরাকের ন্যাশনাল উইজডম মুভমেন্টের নেতা সাইয়িদ আম্মার আল-হাকিম।

৬৩ বছর বয়সী সদ্য প্রয়াত এই প্রেসিডেন্টের জন্ম ও বেড়ে ওঠা ইরানের উত্তর পূর্বাঞ্চলীয় শহর মাশহাদে। বৃহস্পতিবার (২৩ মে) এই শহরের শিয়াদের মূল সমাধি ইমাম রেজার পবিত্র মাজারে তাকে দাফন করা হবে। এর আগে বুধবার (২২ মে) সকালে তেহরান বিশ্ববিদ্যালয়ে রাইসি ও তার সঙ্গীদের জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। জানাজায় ইমামতি করেন দেশটির সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি।

বর্ষীয়ান এই নেতাকে শেষবারের মতো শ্রদ্ধা জানাতে দেশটির রাজধানী তেহরানে ঢল নামে লাখো মানুষের। সে সময় তেহরানে ৫০ দেশের ৬৮ জন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা মরদেহের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। এতে অংশ নেন কাতার, ইরাক, পাকিস্তান ও সিরিয়া, তুর্কমেনিস্তানের জাতীয় নেতাসহ বিশিষ্টজনেরা।

এরপর রাইসিসহ নিহতদের মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় আজাদ স্কয়ারে। শ্রদ্ধা জানাতে দিনভর সেখানেই রাখা হয় তাদের। পরে রাইসির প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানান তুরস্কের প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইপ এরদোয়ান, কাতারের আমির শেখ তামিম বিন হামাদ আল থানিসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার, রাষ্ট্রপ্রধান ও শীর্ষ কর্মকর্তারা।

গত রোববার ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেইন আমির আব্দুল্লাহিয়ান উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় পূর্ব আজারবাইজান প্রদেশে হেলিকপ্টার দুর্ঘটনায় নিহত হন।

ঘন কুয়াশার কারণে দীর্ঘ ১৬ ঘণ্টার টানা অভিযান শেষে বিধ্বস্তের পরদিন সোমবার হেলিকপ্টারটির খোঁজ পায় উদ্ধারকারী দল। হেলিকপ্টারটি বিধ্বস্ত হওয়ার ঘটনায় ইরানের প্রেসিডেন্টসহ নয়জন নিহত হন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত