রেঞ্জ কর্মকর্তার কল্যাণে বনের জমি ব্যক্তির নামে!

আপডেট : ২৫ মে ২০২৪, ০১:৫৭ এএম

বন বিভাগের ময়মনসিংহ ভালুকা রেঞ্জের বনের হাজার-হাজার একর জায়গার মাটি কেটে জমি বানিয়ে জাল দলিল তৈরির মাধ্যমে ব্যক্তির জমিতে পরিণত করা হচ্ছে। বন বিভাগের কর্মকর্তা ও স্থানীয় ভূমিখোররা যোগসাজশ করে এ কাজ করছেন। পরে অনেক জমি শিল্প গ্রুপের কাছে বিক্রি করা হচ্ছে। বনের জমি বিক্রিসহ বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ উঠেছে ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রইছ উদ্দিনসহ ১০ জন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে। দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এসব অভিযোগ অনুসন্ধান করছে।

দুদকের তথ্যমতে, ভালুকায় হবিরবাড়ী ও মল্লিকবাড়ী ইউনিয়ন পরিষদ এলাকায় বনের জমি দখল করে একের পর কারখানা, বসতবাড়ি, বহুতল ভবন ও মার্কেট নির্মাণ চলছে। একশ্রেণির ভূমিখেকো অসাধু বন কর্মকর্তাদের ম্যানেজ করে জাল দলিল তৈরি করে এসব স্থাপনা নির্মাণ করছে। অনেকে জমি বিভিন্ন শিল্পপ্রতিষ্ঠানের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছে। বনের শত শত একর এলাকা হাত বদলের কারণে বন কর্মকর্তারা কোটি কোটি টাকার মালিক হচ্ছেন। তাদের একজন হলেন ভালুকার রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রইছ উদ্দিন।

জানা গেছে, ২০২৩ সালের ১৮ জুলাই ভালুকা রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রইছ উদ্দিন ও অন্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও বিদেশে অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নামে দুদক। অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদকের ময়মনসিংহ সমম্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচালক মোহা. আবুল হোসেনকে দায়িত্ব দেওয়া হয়। তিনি গত বছরের ডিসেম্বরে পরিচালক পদে পদোন্নতি পেয়ে প্রধান কার্যালয়ে যোগদান করেন। এরপর অভিযোগের অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় ময়মনসিংহ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক মো. শাহাদাতকে।

জানা গেছে, অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে তিনি অভিযুক্ত রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রইছ উদ্দিন, তার স্ত্রী শিউলী আহাম্মদ ও তাদের সন্তানের নামে-বেনামে থাকা তথ্য-উপাত্ত চেয়ে ব্যাংক, বীমা, জাতীয় রাজস্ব বোর্ড, ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস, রাজউক, গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষসহ বিভিন্ন সরকারি প্রতিষ্ঠানে চিঠি দিয়েছেন। ওই চিঠির পরিপ্রেক্ষিতে বিভিন্ন দপ্তর থেকে রেকর্ডপত্র পাঠানো হয়েছে দুদকে। এখন এসবের পর্যালোচনা চলছে।

দুদকের কাছে থাকা অভিযোগে বলা হয়েছে, ভালুকার হবিরবাড়ী মৌজার বনের গেজেটভুক্ত ১৯ নম্বর দাগের শত কোটি টাকা মূল্যের ১০ একর জমি একটি শিল্প গ্রুপ দখল করে সীমানা প্রাচীর নির্মাণ করেছে। এ ছাড়া ৭৭৮ নম্বর ও ১১০ নম্বর দাগের জায়গা দখল করে একাধিক ব্যক্তি বাড়ি ও মার্কেট নির্মাণ করেছে। এসব জায়গা দখল হলেও বন বিভাগের কর্মকর্তারা চুপ রয়েছে। বন কর্মকর্তাদের টাকা দিয়ে রাতের আঁধারে ভেকু দিয়ে মাটি কেটে বনের জায়গাকে জমি বানায় ভূমিখেকোরা। পরে সেই জমিতে স্থাপনা নির্মাণ আবার জাল দলিল তৈরি করে বিভিন্ন শিল্প গ্রুপের কাছে বিক্রি করে।

অভিযোগে আরও বলা হয়, ভালুকা রেঞ্জের হবিরবাড়ী বিটে ৭ হাজার ১০ একর জমি রয়েছে। এর মধ্যে ৪ হাজার ১৪৪ একর জমি দখলে চলে গেছে। কাদিগত বিটে ৪ হাজার ৬৮৬ একর জমির মধ্যে ৩ হাজার ৬০ একর অবৈধ দখলে রয়েছে। এ বিটের পাড়াগাঁও মৌজার ১ হাজার ৬৪৬ একর এবং মল্লিকবাড়ী বিটের ১ হাজার ৫৯৯ একর জমির পুরোটাই অবৈধ দখলে রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত