ভিয়েতনাম থেকে সমন্বয় বাংলাদেশে প্রতারণা

আপডেট : ২৬ মে ২০২৪, ০৬:৩৯ এএম

স্বাস্থ্যমন্ত্রী সামন্ত লাল সেনের নামে খোলা হয় ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট। সেই আইডি থেকে দেওয়া হয় হেয়ার টনিকসহ রূপচর্চার নানা হারবাল পণ্যের বিজ্ঞাপন। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর নাম ব্যবহারের কারণে মানুষ বিশ্বাস করে এসব পণ্যের অর্ডার করে। এমন চটকদার বিজ্ঞাপন দিয়ে হারবাল পণ্য বিক্রির রমরমা কারবারে জড়িত একটি চক্রের সন্ধান পেয়েছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।

শুধু স্বাস্থ্যমন্ত্রী নয়, সেলিব্রিটি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম-ছবি ব্যবহার করে ফেসবুক পেজে বিজ্ঞাপন দিয়ে প্রতারণা করে আসছে চক্রটি। পেজে যাবতীয় কাজ সমন্বয় করা হয় ভিয়েতনাম থেকে। দেশটি থেকে মি. ডং নামে একজন পেজ পরিচালনা করেন।

এই চক্রের প্রতারণায় হওয়া একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভিয়েতনামি এক নাগরিকসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিবি। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার ডিবিপ্রধান মোহাম্মদ হারুন অর রশীদ।

গ্রেপ্তাররা হলেন ভিয়েতনামি নাগরিক ট্রান-আনহ-থো ওরফে টনি ও নুরুল আমিন ওরফে ইয়ামিন। গত শুক্রবার রাতে রাজধানীর গুলশান এলাকায় ডিবির সাইবার ক্রাইম বিভাগের (দক্ষিণ) অভিযানে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তাদের কাছ থেকে তিনটি ফোন, চারটি ল্যাপটপ ও প্রতারণায় ব্যবহৃত বিভিন্ন চাইনিজ ও ভিয়েতনামি পণ্য জব্দ করা হয়।

ডিবিপ্রধান বলেন, ‘স্বাস্থ্যমন্ত্রীর ব্যক্তিগত সহকারীর শাহবাগ থানায় করা একটি মামলার পরিপ্রেক্ষিতে ভুয়া ফেসবুক আইডি নিয়ে ডিবি কাজ শুরু করে। এর সূত্র ধরে গুলশান এলাকায় ইউনিক শিপিং এজেন্সি নামে একটি প্রতিষ্ঠানের সন্ধান পাওয়া যায়। তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ দেশের বিভিন্ন সেলিব্রিটি ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বদের নাম-ছবি ব্যবহার করে ভিয়েতনাম ও চীন থেকে নিম্নমানের পণ্য এনে বিক্রি করে আসছে।’

প্রতারণার বিষয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ট্রান-আনহ-থো ও নুরুল আমিন প্রতারণা চক্রের মূল এজেন্ট। তারা স্বাস্থ্যমন্ত্রীসহ বিভিন্ন সেলিব্রিটির নাম-ছবি ব্যবহার করে ভুয়া ফেসবুক পেজ খুলে বিজ্ঞাপন দেয়। এই ভুয়া ফেসবুক পেজগুলো ভিয়েতনাম থেকে মি. ডং নামে একজন পরিচালনা করেন। তাদের চটকদার বিজ্ঞাপন দেখে সাধারণ মানুষ পেজে অর্ডার করে। এরপর ভিয়েতনামে থাকা এই চক্রের মার্কেটিং গ্রুপ থেকে ইউনিক শিপিং এজেন্সি নামের প্রতিষ্ঠানে বাংলাদেশি কর্মরত ব্যক্তিদের কাছে তথ্য পাঠানো হয়। সেখান থেকে ভুয়া নামে রেজিস্ট্রেশন করা নম্বর থেকে গ্রাহককে কল দিয়ে অর্ডার নিশ্চিত করে কুরিয়ারে পণ্য পৌঁছে দেওয়া হয়।

হারুন অর রশিদ বলেন, ‘এসব নিম্নমানের পণ্য ভিয়েতনাম-চীন থেকে আনা হলেও বাংলাদেশে বিপণনের বৈধতা নেই। এসব বিজ্ঞাপন দেখে পণ্য কেনা থেকে সাধারণ মানুষকে সতর্ক থাকতে হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত