সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটিতে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের পরামর্শে দুজনকে মনোনীত করার বিধানকে অবৈধ ঘোষণা করেছে উচ্চ আদালত। এ-সংক্রান্ত পৃথক রুল যথাযথ ঘোষণা করে হাইকোর্টের দেওয়া রায়ের অনুলিপি প্রকাশিত হয়েছে। বিচারপতি নাইমা হায়দার ও বিচারপতি কাজী জিনাত হকের হাইকোর্ট বেঞ্চ ২০২২-এর ১৬ আগস্ট এ রায় দেয়।
গতকাল রবিবার রায়ের অনুলিপি হাতে পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা। তারা বলেন, এ রায়ের ফলে সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠনে স্থানীয় এমপিদের পরামর্শ কার্যকর হবে না এবং হলে সেটি অবৈধ হবে।
হাইকোর্টের রায়ে বলা হয়েছে, ‘সংসদ সদস্যরা নির্বাচিত। তারা আইন প্রণেতা এবং সংবিধানের কাছে তাদের দায়বদ্ধতা রয়েছে। তারা তাদের এলাকায় উন্নয়ন নিশ্চিত করবেন এবং জাতীয় স্বার্থগুলো জাতীয় সংসদে তুলে ধরবেন। সংসদ সদস্য হিসেবে তাদের দায়িত্ব অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, এতে কোনো সন্দেহ নেই।’
২০১৯-এর ৬ নভেম্বর এ-সংক্রান্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নীতিমালা উল্লেখ করে আদালত বলে, ‘আমাদের মতামত এই যে, নীতিমালার ২.২ পরিষ্কারভাবে অযৌক্তিক। এটা কোনো অর্থ বহন করে না। এটি বিদ্যালয়ের ম্যানেজিং কমিটির নির্বাচনী প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করে।’
আইনজীবীদের তথ্য মতে, ২০১৩-তে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পরিচালনা কমিটিতে দুজন সদস্য স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শে মনোনীত হবেন বলে নীতিমালায় বলা হয়। এ বিধান চ্যালেঞ্জ করে ২০১৮-তে হাইকোর্টে রিট আবেদন করেন কুমিল্লার মেঘনার রতনপুর প্রাথমিক বিদ্যালয় ম্যানেজিং কমিটির সদস্য মো. শহীদ উল্লাহ। রিট আবেদনের ওপর প্রাথমিক শুনানি নিয়ে একই বছরের ১৬ জুলাই এ বিধানের বৈধতা প্রশ্নে রুল দেয় হাইকোর্ট।
আইনজীবীরা জানান, ২০১৯-এর ৬ নভেম্বর প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিদ্যালয় শাখা-২-এর পৃথক প্রজ্ঞাপনে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ব্যবস্থাপনা কমিটি গঠন এবং কমিটির দায়িত্ব নিয়ে বিষয়ে নীতিমালার কথা বলা হয়। নীতিমালা অনুযায়ী, সভাপতিসহ ১১ সদস্যের কমিটি হবে। আর কমিটির সদস্য সচিব হবেন সংশ্লিষ্ট বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক বা ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক। নীতিমালার ২.২ ধারা অনুযায়ী, কমিটির ১১ জনের মধ্যে বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের অভিভাবকদের মধ্যে থেকে দুজন সদস্য (নারী ও পুরুষ) স্থানীয় সংসদ সদস্যের পরামর্শক্রমে প্রধান শিক্ষক কর্তৃক মনোনীত হবেন। মন্ত্রণালয়ের এ বিধানের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আরেকটি সম্পূরক আবেদন করলে ২০২০-এর ২০ মে রুল দেয় হাইকোর্ট। রুলের ওপর চূড়ান্ত শুনানি নিয়ে এ রায় হয়। আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী তাপস কান্তি বল ও জর্জ চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল অমিত দাশগুপ্ত।
ব্যারিস্টার তাপস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ২০১৩ সালে সংশ্লিষ্ট নীতিমালাতে একই বিষয় ছিল। যখন ২০১৯ সালে নীতিমালাটি আবারও জারি হয়, আমরা বিষয়টি আদালতের নজরে আনার পর রুল ইস্যু হয়। রায়ের রুল যথাযথ ঘোষণা করেছে হাইকোর্ট। হাইকোর্টের রায়ে রিট আবেদনকারীকে সভাপতি ঘোষণা করে ম্যানেজিং কমিটির কার্যক্রম চালাতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, ‘প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এ বিধানের ফলে স্থানীয় সংসদ সদস্যদের হস্তক্ষেপের একটি প্রবণতা ছিল। ফলে এখন আর সেটি থাকবে না। সেখানে তাদের কোনো পরামর্শ বা হস্তক্ষেপ কাজে আসবে না।’
