দুই মাসে খরচ করতে হবে সোয়া লাখ কোটি

আপডেট : ২৮ মে ২০২৪, ১২:২৬ এএম

দেশের অর্থসংকটের এ সময়ে উন্নয়ন কার্যক্রম প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। অর্থসংকটের কারণে অনেক প্রকল্পে অর্থের সংস্থান করাও কঠিন হয়ে পড়েছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে (জুলাই-এপ্রিল) বরাদ্দের ৪৯ দশমিক ২৬ শতাংশ বা ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে সরকার। গত অর্থবছরের (২০২২-২৩) একই সময়ে সংশোধিত এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৫০ দশমিক ৩৩ শতাংশ এবং তার আগের অর্থবছরে এ হার ছিল ৫৪ দশমিক ৫৭ শতাংশ।

গতকাল সোমবার পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন, পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের (আইএমইডি) প্রকাশিত হালনাগাদ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জানা গেছে।

আইএমইডির হালনাগাদ প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি অর্থবছরের প্রথম ১০ মাসে এডিপি বরাদ্দের ৪৯ দশমিক ২৬ শতাংশ বা ১ লাখ ২৫ হাজার ৩১৫ কোটি ৬৮ লাখ টাকা ব্যয় করেছে সরকার। এই অর্থবছরে মোট বরাদ্দ ২ লাখ ৫৪ হাজার ৩৯১ কোটি টাকা। ফলে দুই মাসে খরচের টার্গেট ১ লাখ ২৯ হাজার ৭৬ কোটি টাকা। গত তিন অর্থবছরের মধ্যে সর্বনিম্ন এডিপি বাস্তবায়ন হয়েছে এ সময়ে।

আইএমইডি জানায়, একই সময়ে ২০২২-২৩ অর্থবছরে ৫০ দশমিক ৩৩, ২০২১-২২ অর্থবছরে ৫৪ দশমিক ৫৭, ২০২০-২১ অর্থবছরে ৪৯ দশমিক শূন্য ৯ এবং ২০১৯-২০ অর্থবছরে এডিপি বাস্তবায়নের হার ছিল ৪৯ দশমিক ১৩ শতাংশ।

গত ১০ মাসে এডিপি বাস্তবায়নে এগিয়ে রয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক), বাস্তবায়নের হার ৯৬ দশমিক ৮৫ শতাংশ। এ ছাড়া জ¦ালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয় ৮৩ দশমিক ১৪, ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৬৬ দশমিক ৪৭, তথ্য ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৬৭, বিদ্যুৎ বিভাগ ৬৮ দশমিক ২৯, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিবিষয়ক মন্ত্রণালয় ৫৯ দশমিক ৭৮ এবং বেসরকারি বিমান ও পর্যটনবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের এডিপি বাস্তবায়নের হার ৫৪ দশমিক ৪৯ শতাংশ।

কৃষি মন্ত্রণালয় ৫৮ দশমিক ৮১ শতাংশ এডিপি বাস্তবায়ন করেছে। তবে, সবচেয়ে বেহালদশা দেখা গেছে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে, এডিপি বাস্তবায়নের হার মাত্র ১৭ শতাংশ। এ ছাড়া নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে এডিপি বাস্তবায়নের হার মাত্র ২২ দশমিক ৮৮ শতাংশ।

দেশের অর্থসংকটের চাপ পড়েছে উন্নয়ন বাজেটের গতিতে। বর্তমান সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকেই সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল যোগাযোগ ও অবকাঠামোয়। দেশের নীতিনির্ধারক ও অর্থনীতিবিদদের পরামর্শ ছিল পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকে গুরুত্ব দিয়ে প্রকল্প হাতে নেওয়ার। কিন্তু প্রতিবারই পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকে বাদ দিয়ে অন্যান্য অনুৎপাদনশীল খাতে বরাদ্দ বেশি রাখা হয়েছিল। তবে এবার এ ক্ষেত্রে কিছুটা নমনীয় সরকার। অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনাকে কিছুটা প্রাধান্য দিয়ে বিদ্যুৎ ও যোগাযোগে বরাদ্দ কমিয়ে শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও কৃষিতে কিছুটা বাড়ানো হয়েছে।

এবারের উন্নয়ন বাজেটের (এডিপি) জন্য মন্ত্রণালয়গুলোর চাহিদা ছিল ২ লাখ ৭৬ হাজার কোটি টাকা, কিন্তু অর্থ বিভাগ অর্থসংকটের কারণ দেখিয়ে তা অনুমোদন করে মাত্র ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা; যা চলতি অর্থবছরের মূল এডিপির তুলনায় মাত্র ২ হাজার কোটি টাকা বেশি। শতাংশের বিচারে বরাদ্দ বেড়েছে মাত্র শূন্য দশমিক ৭৬ শতাংশ! তবে এবার বিদ্যুৎ, যোগাযোগে কিছুটা বরাদ্দ কমিয়ে বাড়ানো হয়েছে শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে।

অর্থসংকটের প্রভাবে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে সরকারের কাছ থেকে এডিপিতে সহায়তা কমেছে। চলতি অর্থবছর, অর্থাৎ ২০২৩-২৪-এ মূল এডিপি ছিল ২ লাখ ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকারের অর্থায়ন ছিল ১ লাখ ৬৯ হাজার কোটি টাকা। কিন্তু চলতি অর্থবছর সরকার যে বরাদ্দ দিয়েছিল, প্রস্তাবিত এডিপিতে তা-ও দিতে পারছে না সরকার। গত বছর যা দিয়েছিল তার চেয়েও ৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ কমিয়ে ১ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ অনুমোদন করেছে অর্থ বিভাগ।

সরকারি অর্থায়ন না পেয়ে এবার নির্ভর করতে হচ্ছে বিদেশি ঋণের ওপর। প্রস্তাবিত এডিপিতে বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ১ লাখ কোটি টাকা, যেটি চলতি অর্থবছরের মূল এডিপিতে ছিল ৯৪ হাজার কোটি টাকা; অর্থাৎ আগের বছরের চেয়ে ৬ হাজার কোটি টাকা বেশি বিদেশি ঋণ আনতে হচ্ছে উন্নয়ন বাস্তবায়নের জন্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত