বাংলাদেশের রেটিং কমিয়েছে আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা ফিচ রেটিংস। বাংলাদেশের রেটিং ‘বিবি মাইনাস’ থেকে ‘বি প্লাস’-এ নামিয়ে এনেছে সংস্থাটি। তবে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পূর্বাভাস (আউটলুক) স্থিতিশীল বলে উল্লেখ করেছে ফিচ। গতকাল সোমবার বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে নিজেদের ওয়েবসাইটে বিস্তারিত একটি প্রতিবেদনটি প্রকাশ করেছে সংস্থাটি। সেই প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরেছে ফিচ রেটিংস।
এর আগে গত সেপ্টেম্বরে দীর্ঘ মেয়াদে বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রা ইস্যুয়ার ডিফল্ট রেটিং (আইডিআর) স্থিতিশীল থেকে নেতিবাচক (বিবি মাইনাস) করেছিল ফিচ। অর্থাৎ ছয় মাসের মধ্যে আবারও ঋণমান অবনমন করেছে মার্কিন এই প্রতিষ্ঠানটি। বিশ্বে যে তিনটি ঋণমান নির্ধারণী প্রতিষ্ঠান একত্রে ‘বিগ থ্রি’ হিসেবে পরিচিতি, ফিচ তাদের একটি। বাকি দুটি মুডিস ও এসঅ্যান্ডপি।
সংস্থাটি বলছে, বাংলাদেশের রেটিং বি প্লাসে নামিয়ে আনা আসলে দেশটির অর্থনীতির বহিঃস্থ খাতের অবনতির প্রতিফলন। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালের পর থেকে বৈদেশিক মুদ্রার পতন ঠেকাতে নানা পদক্ষেপ নেওয়া হলেও তা যথেষ্ট নয়। ঠেকানো যায়নি ডলারের বিপরীতে টাকার দরপতনও। সম্প্রতি ক্রলিং পেগনীতি চালু করলেও তা বিদ্যমান সমস্যা সমাধানে কতটুকু কার্যকর হবে সেটাও অনিশ্চিত।
ফিচ রেটিংস বলেছে, ঋণমান বি প্লাসে নামিয়ে আনা হয়েছে। কারণ, বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ দীর্ঘ মেয়াদে দুর্বল। বাংলাদেশ রিজার্ভ-ক্ষয় ঠেকাতে অনেক ব্যবস্থা নিলেও এই পরিস্থিতির শিগগিরই উন্নতি ঘটতে যাচ্ছে না। তাই অর্থনীতির বহিঃস্থ খাতে ধাক্কা লাগলে বাংলাদেশ আরও অরক্ষিত হয়ে পড়বে।
ফিচ রেটিংস জানায়, ২০২২ সাল থেকে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের পতন ঠেকাতে বাংলাদেশ যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, তা যথেষ্ট নয়। এসব নীতির কল্যাণে অভ্যন্তরীণ বাজারের ডলার-সংকট মোকাবিলা করাও সম্ভব হয়নি। এখন যে ক্রলিং পেগপদ্ধতি গ্রহণ করা হয়েছে, তাতে মুদ্রার বিনিময় হারের নমনীয়তা বাড়বে। তবে এই নীতির কল্যাণে যে বিদেশি মুদ্রাবাজারের সংকট মোকাবিলা করা যাবে বা রিজার্ভের উল্লেখযোগ্য উন্নতি হবে, তা পরিষ্কার নয়।
ফিচ জানাচ্ছে যে, তাদের স্থিতিশীল পূর্বাভাসের অর্থ হলো, নিকট ভবিষ্যতে বাংলাদেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অপরিবর্তিত থাকবে। এটা যে কারণে সম্ভব হবে সেটা হলো, বহিঃস্থ অর্থায়নের ক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) মতো নির্ভরযোগ্য ঋণদাতার সঙ্গে চুক্তি, সংস্থাটির নির্দেশিত সংস্কারকাজে হাত দেওয়া ও ব্যাংক খাতের সমস্যা মোকাবিলায় ব্যবস্থা নেওয়া, সরকারি ঋণ সীমার মধ্যে রাখা এবং মধ্য মেয়াদে প্রবৃদ্ধির ভালো সম্ভাবনা।
বাংলাদেশের বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ কমে যাওয়ার মূল কারণগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে পুঁজি পাচার হওয়া। এ কথা জানিয়ে ফিচ রেটিংস আরও বলেছে, প্রবাসী আয়ের বড় একটি অংশ অনানুষ্ঠানিক পথে দেশে আসছে। এই পরিস্থিতিতে জানুয়ারির পর দেশের রিজার্ভ কমেছে ১৫ শতাংশ। এখন রিজার্ভ নেমে এসেছে ১৮ দশমিক ৪ বিলিয়ন ডলারে।
ফিচ আশা করছে, কেন্দ্রীয় ব্যাংক সম্প্রতি যেসব ব্যবস্থা নিয়েছে, সে কারণে রিজার্ভ পরিস্থিতি স্থিতিশীল হবে। তবে বিদেশি মুদ্রার ব্যবস্থাপনায় নতুন যেসব পদক্ষেপের কথা বলা হয়েছে, সেগুলো কীভাবে বাস্তবায়ন করা হবে এবং মুদ্রার আনুষ্ঠানিক বিনিময় হার অনানুষ্ঠানিক হারের সমান হবে কি না তা নিয়ে অনিশ্চয়তা আছে।
