মদের দোকানে গিয়ে চাইলেন তিন লাখ টাকা, অবরুদ্ধ মাদক কর্মকর্তা 

আপডেট : ৩০ মে ২০২৪, ০৯:১৭ পিএম

একটি চা বাগানের লাইসেন্সধারী দেশিও মদের দোকানে (পাট্টায়) গিয়ে পরিদর্শনের নামে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার অভিযোগে জেলা মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের উপপরিচালক মিজানুর রহমান শরীফসহ ৫ জনকে প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখে বাগানবাসী। 

বুধবার (২৯ মে) সন্ধ্যার দিকে মৌলভীবাজারের কুলাউড়ায় উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়ের লংলা চা বাগানে এ ঘটনা ঘটে। পরে পুলিশ গিয়ে তাদের উদ্ধার করে।

স্থানীয় ও মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বুধবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে মৌলভীবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের উপপরিচালক মিজানুর রহমান শরীফ ও মাদকদ্রব্যের সহকারী প্রসিকিউটর এস এম সোয়েব রহমানের নেতৃত্বে ৫ জনের একটি টিম উপজেলার টিলাগাঁও ইউনিয়নের লংলা চা বাগানে পরিদর্শনে যান। এ সময় মদ্যপ কয়েকজনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করে উপপরিচালক। এতে উপস্থিত মদপায়ী চা শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের ওই টিমকে একটি ঘরে প্রায় ৩ ঘণ্টা অবরুদ্ধ করে রাখেন।

স্থানীয় ও দোকানমালিক মিটুন কালোয়ারের দাবি, উপপরিচালক মিজানুর রহমান লাইসেন্সধারী দেশিও মদের দোকানে (পাট্টায়) গিয়ে দোকানমালিক মিটুনের কাছে ৩ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। একপর্যায়ে দোকানমালিকের সাথে কথা কাটাকাটি হলে তার উপর চড়াও হন মাদকদ্রব্যের ওই কর্মকর্তা। পরে রাত বুধবার ১০টার দিকে কুলাউড়া থানার এসআই আমির উদ্দিনের নেতৃত্বে একদল পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে উত্তেজিত শ্রমিকদের শান্ত করে তাদেরকে উদ্ধার করেন।

এদিকে মাদকের এই কর্মকর্তাকে নিয়ে গত ২৮ মার্চ ‘ঘুরে বেড়ান আর চাঁদা তোলেন মাদক কর্তা’ এই শিরোনামে দেশ রূপান্তর পত্রিকায় একটি সংবাদ প্রকাশ হয়।

এ ব্যাপারে অভিযুক্ত মৌলবীবাজার মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের উপপরিচালক মিজানুর রহমান শরীফ বলেন, বুধবার দিনব্যাপী জেলার কয়েকটি পাট্টা পরিদর্শন ও মাদকবিরোধী সভা করা হয়। পরে সন্ধ্যা সাড়ে ৫টার দিকে লংলা চা বাগানে গিয়ে মদ্যপ কয়েকজনের ছবি ও ভিডিও ধারণ করায় শ্রমিকরা ক্ষিপ্ত হন। পরে তাদের কথামতো ছবি ও ভিডিও মোবাইল থেকে ডিলিট করা হয়।

দোকান মালিক মিটুনের কাছে চাঁদা দাবির বিষয়ে জানতে চাইলে, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণের উপপরিচালক মিজানুর রহমান শরীফ চাঁদা দাবির কথা অস্বীকার করেন।

মৌলভীবাজার জেলা প্রশাসক ড. উর্মি বিনতে সালাম জানান, বিষয়টি জানি না। কুলাউড়ার ইউএনওকে বিষয়টি তদন্ত করা জন্য বলব।
 

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত