বাস মালিকদের ‘প্রেসক্রিপশনে’ চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রুটে চলাচল করা ‘কক্সবাজার স্পেশাল’ ট্রেন বন্ধ করা হয়েছে বলে অভিযোগ তুলেছে বাংলাদেশ যাত্রী কল্যাণ সমিতি। অবিলম্বে জনপ্রিয় ট্রেন সার্ভিসটি পুনর্বহাল করারও দাবি জানিয়েছে তারা। অন্যথায় এ পথের যাত্রীদের নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে সংগঠনটি।
তবে গতকাল বৃহস্পতিবার রাতে রেলওয়ের মহাপরিচালক সরদার সাহাদাত আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘মূলত ইঞ্জিন ও জনবল সংকটের কারণে সাময়িক সময়ের জন্য ট্রেনটি বন্ধ রাখা হয়েছে। অন্য কোনো কারণ নেই। ঈদের সময় ট্রেনটি আবার চালু হবে।’ গতকাল গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে যাত্রী কল্যাণ সমিতির মহাসচিব মো. মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘১০ থেকে ১২ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ে রেলপথ নির্মাণের পরে শুধু রাজধানীবাসীকে সুবিধা দেওয়ার জন্য ঢাকা থেকে কক্সবাজার দুটি ট্রেন সার্ভিস চালু হয়। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভের সঞ্চার হয়। পরে এলাকাবাসীর দাবির মুখে গত ঈদুল ফিতরের সময়ে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার-চট্টগ্রাম রেলপথে ‘কক্সবাজার স্পেশাল’ নামে একটি ট্রেন সার্ভিস চালু করা হয়। সড়ক পথে নৈরাজ্য, সড়ক দুর্ঘটনার ঝুঁকি, অতিরিক্ত ভাড়া আদায়ের হাত থেকে মুক্তি পেতে যাত্রী সাধারণ সীমিত সুবিধার এই ট্রেনটির প্রতি ঝুঁকছিলেন। অল্প সময়ের মধ্যেই ট্রেনটি ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে যাত্রীবান্ধব বাহনে পরিণত হয়।’
বিবৃতিতে বলা হয়, ‘ট্রেন সার্ভিসটি ঈদের পর নির্ধারিত সময়ে বন্ধ হয়ে যাওয়ার কথা থাকলেও স্থানীয় রেল প্রশাসনের মাঠ জরিপ প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ট্রেনটি চলাচলের সময়সীমা দুই দফা বাড়ানো হয়েছে। চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাত্রীরা যখন এই ট্রেনে নিয়মিত যাতায়াত করছিলেন, তখন বাস মালিকরা একে একে সব পরিবহনে যাত্রী সংকট দেখা দিলে, ‘চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে যাত্রীপ্রতি বাসভাড়া ১০০ টাকা পর্যন্ত কমিয়ে আনতে বাধ্য হয়। তারপরও বাসে যাত্রী না পাওয়ায় বাস মালিকরা রেল প্রশাসনের কর্তৃপক্ষকে ম্যানেজ করে ফেলেছে বলে এ রুটের যাত্রীদের অনেকেই মনে করেন।’
‘রেলের একশ্রেণির কর্মকর্তা-কর্মচারীরা সরকারের আকাক্সক্ষার বাইরে গিয়ে কেবল বাস মালিকদের লাভবান করতে এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছে’ উল্লেখ করে যাত্রী কল্যাণ সমিতির বিবৃতিতে বলা হয়, ‘অনতিবিলম্বে কক্সবাজার স্পেশাল ট্রেন সার্ভিস বন্ধের সিদ্ধান্তপ্রত্যাহার করে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার এলাকার যাত্রী সাধারণকে সরকারের অনন্য অবদান চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেল পরিষেবা গ্রহণের সুযোগ দেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
ইঞ্জিন ও লোকোমাস্টার (চালক) সংকটের কারণ দেখিয়ে গতকাল থেকে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে চলাচলকারী বিশেষ ট্রেনটি। যদিও আগামী ১০ জুন পর্যন্ত ট্রেনটি চলাচল করার কথা ছিল।
রেলওয়ে পূর্বাঞ্চলের সহকারী প্রধান পরিচালন কর্মকর্তা (এসিওপিএস) কামাল আখতার হোসেন স্বাক্ষরিত জরুরি বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘রেলওয়ের মহাপরিচালকের কার্যালয় থেকে কক্সবাজার স্পেশাল-৩ ও ৪ ট্রেনটি আগামী ১০ জুন পর্যন্ত চলাচলের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু যান্ত্রিক বিভাগ থেকে ইঞ্জিন ও লোকোমাস্টারের সংকট থাকার কথা জানানো হয়েছে। এজন্য কক্সবাজার বিশেষ ট্রেন ৩০ মে থেকে ১০ জুন পর্যন্ত বাতিল করা হলো।’
রেলওয়ের তথ্যানুযায়ী, বর্তমানে পূর্বাঞ্চলে রেলপথের দৈর্ঘ্য ১ হাজার ৫০৩ কিলোমিটার। এ পথে আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে ৫৪টি। মেইল, এক্সপ্রেস ও কমিউটার ট্রেন আছে ৭০টি। পণ্যবাহী ট্রেন চলাচল করে প্রতিদিন গড়ে ৮টি। এসব ট্রেনের জন্য প্রতিদিন গড়ে অন্তত ১১৫টি ইঞ্জিনের প্রয়োজন হলেও পাওয়া যায় ১০০টির মতো। কখনো কখনো এর চেয়েও কম ইঞ্জিন পাওয়া যায়।
