ইউপি চেয়ারম্যানের ভয়ে মার্কেটের ৩০ দোকান বন্ধ

আপডেট : ০৩ জুন ২০২৪, ০৭:০৯ পিএম

মুন্সীগঞ্জের পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের ভয়ে একটি মার্কেটের প্রায় ৩০টি দোকান বন্ধ রয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। একই সঙ্গে ওই ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবির অভিযোগ তোলা হয়েছে।

পঞ্চসার ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ এনে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন ইউনিয়নের মুক্তারপুর পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন লায়লা প্লাজা নামে নির্মাণাধীন মার্কেটের মালিক রিয়াদ হোসেন (৫৫)। তিনি গতকাল রবিবার রাতে মুন্সীগঞ্জ সদর থানায় ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফাসহ ৪ জনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাত পরিচয়ের আরো ৪-৫ জনের নামে লিখিত এ অভিযোগ দায়ের করেন।

রিয়াদ হোসেন জানান, পঞ্চসার ইউনিয়নের মুক্তারপুর পেট্রোল পাম্প সংলগ্ন নিজেদের সম্পত্তিতে সাত তলাবিশিষ্ট একটি মার্কেট নির্মাণ শুরু করেন তার বাবা। লায়লা প্লাজা নামে এ মার্কেট নির্মাণের শুরু থেকেই পঞ্চসার ইউপির চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা তার বাবার কাছে চাঁদা দাবি করে আসছিলেন। ইউপি চেয়ারম্যানের ভয়ভীতিতে ২০২৩ সালের ১১ আগস্ট তার বাবা আমির হোসেন স্ট্রোক করে মারা যান। ইতোমধ্যে মার্কেট ভবনের নীচতলা নির্মাণকাজ শেষ হয়েছে। নীচতলায় কাপড়, কসমেটিক ও ক্রোকাড়িজের ৩০টি দোকান ভাড়া দেওয়া হয়েছে। চলতি বছরের ২৭ মে ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা দলবল নিয়ে মার্কেট ভবনে গিয়ে অস্ত্রসস্ত্র প্রদর্শন করে দোকানদারদের হুমকি দেন। একই সঙ্গে ৫ কোটি টাকা চাঁদা দাবি করেন। ইউপি চেয়ারম্যানের হুমকির ভয়ে সোমবার পর্যন্ত মার্কেটের দোকানগুলো বন্ধ রেখেছেন দোকানদাররা।

ভুক্তভোগী রিয়াদ হোসেন বলেন, সামনে ঈদুল আজহা। মার্কেটের ভাড়া নেওয়া দোকানদারা এতে বিপাকে পড়েছেন। দোকান বন্ধ থাকায় ঈদের সামনে তাদের বেচাকিনিতে ক্ষতি হচ্ছে। ইউপি চেয়ারম্যানের ভয়ে তারা দোকাপাট খুলতে সাহস পাচ্ছে না। এ অবস্থায় আমি ইউপি চেয়ারম্যানের হাত থেকে বাঁচতে থানা পুলিশের দ্বারস্ত হয়েছি। আমি এর প্রতিকার চাই।

এদিকে ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা বন্ধ থাকা দোকানদারদের দোকান না খোলার জন্য হুমকি প্রদান আসছে। দোকান খুললেই তাদের লাখ টাকা জরিমানা দিতে হবে বলে ইউপ চেয়ারম্যান তাদের হুমকি দিয়েছে। এতে দোকানদাররা ইউপি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে কথা বলতে সাহস পাচ্ছেন না।

এ ব্যাপারে ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফা সাংবাদিকদের বলেন, রিয়াদ হোসেনের বাবা আমির হোসেন জীবিত থাকা অবস্থায় মার্কেট বিক্রি নিয়ে আমার সঙ্গে লেনদেন হয়েছিল। এ সময় আমি আমির হোসের ব্যাংক অ্যাকাউন্টে ১ কোটি ৯০ লাখ টাকা নিয়েছিলাম। কিন্তু উনি মারা যাওয়ার পর তার ছেলে রিয়াদ বিষয়টি মানছেন না।

সদর থানার ওসি আমিনুল ইসলাম বলেন, ইউপি চেয়ারম্যান গোলাম মোস্তফার বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ পেয়েছি। ঘটনার তদন্ত করা হচ্ছে। প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত