বিজয় উদযাপনের প্রস্তুতি বিজেপির

আপডেট : ০৪ জুন ২০২৪, ০২:১২ এএম

ভারতের লোকসভার ১৮তম নির্বাচনের চূড়ান্ত ফল ঘোষণা করা হবে আজ মঙ্গলবার। ক্ষমতাসীন বিজেপি আরেকবার ক্ষমতায় থাকার ব্যাপারে আশাবাদী। বুথফেরত সমীক্ষাও তাদের পক্ষে রয়েছে। অবশ্য চূড়ান্ত ফল না পাওয়া অবধি বিরোধীরাও আশা ছাড়ছে না। পশ্চিমবঙ্গের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় বলেছেন, এগুলোর কোনো গুরুত্ব নেই। তার ভাষ্য, সংবাদমাধ্যমের খোরাক হিসেবে দুই মাস আগে কিছু মানুষ ঘরে বসে তৈরি করেছে এসব বুথফেরত জরিপ। এগুলোর কোনো মূল্য নেই। তবে বিজেপি রাজধানী দিল্লিসহ অন্যান্য স্থানে বিজয় উদযাপনের প্রস্তুতি শুরু করে দিয়েছে। দেশবাসীকে খোলা চিঠি লিখেছেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তাতে তিনি তার সরকারের সাফল্যের কথা ফের একবার তুলে ধরেছেন এবং আগামী দিনের ভারতের জন্য নতুন কী সংকল্প নেওয়ার কথা ভাবছেন, তাও জানিয়েছেন।

ভারতের সাত দফার লোকসভা নির্বাচন গত ১৯ এপ্রিল শুরু হয়। শেষ হয় গত ১ জুন। ভোট শেষের দিন সন্ধ্যাতেই বিভিন্ন সংস্থা বুথফেরত জরিপের ফল ঘোষণা করে। একাধিক সংস্থা জানায়, দিল্লির মসনদে ফের ক্ষমতায় আসতে চলেছে বিজেপি।  বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গড়বে বিজেপির নেতৃত্বাধীন এনডিএ জোট। ভোট গণনায় এই পূর্বাভাস সত্য হলে, দেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী জওয়াহেরলাল নেহরুর পরপর তিনবার প্রধানমন্ত্রী হওয়ার রেকর্ড ছুঁয়ে ফেলবেন নরেন্দ্র মোদি।

তাই বিজেপির ভারত জুড়ে বিজয়োৎসবের প্রস্তুতিও এখন তুঙ্গে। এনডিটিভি জানায়, মোদির শপথ অনুষ্ঠানের পর দিল্লির কয়েকটি স্থানে বিজেপি জয় উদযাপন করতে পারে। এর মধ্যে আছে রামলীলা ময়দান, লালকেল্লা, ভারত মণ্ডপম, যশোভূমি, কর্তব্যপথ। তাছাড়া, দিল্লিতে রোড শোও করতে পারে বিজেপি। আর সেই রোড শো করতে পারেন খোদ নরেন্দ্র মোদি। লোককল্যাণ মার্গ থেকে বিজেপি সদর দপ্তর পর্যন্ত হতে পারে রোড শো।

নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি গত সপ্তাহেই রাষ্ট্রপতি ভবনে শুরু হয়েছিল। নতুন সরকারের প্রধানমন্ত্রীসহ অন্য মন্ত্রীদের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠান হবে রাষ্ট্রপতি ভবনে। এনডিটিভি বলছে, নতুন সরকারের শপথ গ্রহণ অনুষ্ঠানে কাদের আমন্ত্রণ জানানো হবে সেই তালিকাই তৈরি করে ফেলেছে মোদি শিবির। সব মিলিয়ে প্রস্তুতি দেখে বোঝা যাচ্ছে, এখন শুধু খাতা-কলমে ফল ঘোষণার অপেক্ষা করছে বিজেপি তথা এনডিএ জোট।

এদিকে বিজয় উদযাপনের এই প্রস্তুতির মধ্যেই প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি দেশবাসীর উদ্দেশে বার্তা লিখলেন। স্মরণ করিয়ে দিলেন ১০ বছরে দেশের মানুষের জন্য কী কী করেছে তার সরকার। সপ্তম দফার ভোটের আগেই স্বামী বিবেকানন্দের স্মৃতিবিজড়িত কন্যাকুমারীতে ধ্যানে বসেছিলেন মোদি। এই সময়কালে তার মধ্যে হওয়া অনুভূতিগুলোই দেশবাসীর সঙ্গে তিনি ভাগ করে নিয়েছেন।

খোলা চিঠিতে মোদি লেখেন, গণতন্ত্রের সবচেয়ে বড় উৎসব, ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন, আজ আমাদের দেশে, গণতন্ত্রের উৎসব সমাপ্ত হচ্ছে। কন্যাকুমারীতে তিন দিনের আধ্যাত্মিক যাত্রার পর, আমি দিল্লির উদ্দেশ্যে বিমানে চড়েছি। দিনভর কাশীসহ আরও বেশ কয়েকটি আসনে মানুষ উৎসাহের সঙ্গে ভোট দিয়েছে।

মোদি বলেন, আমার মন অনেক অভিজ্ঞতা এবং আবেগ দিয়ে ভরা। আমি নিজের মধ্যে শক্তির সীমাহীন প্রবাহ অনুভব করি। ২০২৪ সালের লোকসভা নির্বাচন অমৃত কালের প্রথম। আমি কয়েক মাস আগে স্বাধীনতা যুদ্ধের স্মৃতিবিজড়িত মিরাট থেকে প্রচার শুরু করেছিলাম। তারপর থেকে, আমি দেশের বিভিন্ন প্রান্তে প্রচার করেছি। এই নির্বাচনের চূড়ান্ত সমাবেশ আমাকে পাঞ্জাবের হোশিয়ারপুরে নিয়ে গিয়েছিল, মহান গুরুদের দেশ এবং সন্ত রবিদাস জি-এর সঙ্গে যুক্ত একটি ভূমি। সবশেষে আমি ভারত মায়ের পায়ের কাছে চলে আসি কন্যাকুমারীতে।

চিঠিতে গরিব মানুষের ক্ষমতায়ন থেকে ডিজিটাল ইন্ডিয়ার কথাও তুলে ধরেছেন মোদি। তিনি লেখেন, ‘গরিবের ক্ষমতায়ন থেকে শুরু করে সমাজের প্রান্তিকতম মানুষের কাছে পরিষেবা পৌঁছে দেওয়ার অগ্রাধিকার ও আমাদের প্রচেষ্টা আজ গোটা বিশ্বের কাছে একটি উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

আধুনিক প্রযুক্তির কথা বলতে গিয়ে মোদি ‘ডিজিটাল ইন্ডিয়া’ অভিযানের কথা উল্লেখ করেছেন। তার দাবি, গোটা বিশ্ব প্রযুক্তির এই গণতন্ত্রীকরণকে খতিয়ে দেখছে। প্রধানমন্ত্রী জানান, কোনো দেশের সংস্কার স্বতন্ত্র প্রক্রিয়া হতে পারে না। সে জন্য ভারতে ‘রিফর্ম, পারফর্ম, ট্রান্সফর্ম’ কর্মসূচি নিয়ে চলছে তার সরকার। সংস্কারের দায়িত্ব সরকারকেই নিতে হবে, আমলাতন্ত্র তা বাস্তবায়িত করে।

মোদির ভাষ্য, দেশে পুরনো চিন্তাভাবনা ও কুসংস্কারের পরিমার্জন প্রয়োজন। পাশপাশি সমাজকে নৈরাশ্যবাদীদের হাত থেকে মুক্ত করা প্রয়োজন। কারণ, নেতিবাচকতা থেকে মুক্তিই সাফল্যের শিখরে পৌঁছানোর প্রথম ধাপ।

এদিকে ফল ঘোষণার আগের দিন গণমাধ্যমে কথা বলেছেন দেশটির প্রধান নির্বাচন কমিশনার রাজীব কুমার। তিনি জানান, এবার লোকসভা নির্বাচনে ৬৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন। তার ভাষ্য, ভোটদাতার সংখ্যার দিক থেকে এটা একটা বিশ্ব রেকর্ড। বিশ্বের কোনো দেশে কখনো এত বেশি মানুষ ভোট দেননি। যে ৬৪ কোটি ২০ লাখ মানুষ ভোট দিয়েছেন, তার মধ্যে ৩১ কোটি ২০ লাখ নারী।

নির্বাচন শান্তিপূর্ণ হয়েছে বলেও দাবি করেছেন রাজীব কুমার। আর ভোট গণনায় কোনো ধরনের কারচুপি হওয়ার সুযোগ নেই। তিনি বলেন, ভোটগণনার কাজেও সব ধরনের সতর্কতা নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, রবিবার বেশ কয়েকটি দলের প্রতিনিধি কমিশনের সঙ্গে দেখা করে কিছু দাবি জানিয়েছিলেন। সবগুলো মেনে নেওয়া হয়েছে।

রাজীব কুমার বলেন, তবে ভোট-পরবর্তী সহিংসতার কথা মাথায় রেখে আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি পশ্চিমবঙ্গ, অন্ধ্র ও উত্তর প্রদেশের মতো কয়েকটি রাজ্যে ফলাফল ঘোষণার পরেও কেন্দ্রীয় বাহিনী থাকবে। তারা রাজ্য সরকারের অধীনে থাকবে। তারা সেখানে দরকার হলে নিশ্চিতভাবেই সহিংসতা থামাবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত