উচ্চ মূল্যস্ফীতির এ সময়টায় সাধারণ মানুষকে স্বস্তি দিতে আমদানিতে সামান্য করভার কমানোর উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। চাল, ডাল, গম, খেজুরসহ ১৭টি অত্যাবশ্যকীয় পণ্যে উৎসে কর এক শতাংশ কমিয়ে সরকার আশা করছে আগামী ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বর্তমানের দুই অঙ্কের ঘরে থাকা মূল্যস্ফীতি কমিয়ে সাড়ে ৬ শতাংশে নামিয়ে আনতে পারবে। তবে ভ্যাটের মাধ্যমে প্রায় ১৫ শতাংশ আয় বাড়ানোর যে প্রস্তাব রাখা হয়েছে, তাতে ভেস্তে যেতে পারে সরকারের পরিকল্পনা। আবার অর্থনীতির এমন মন্দার সময়ে টাকার সরবরাহ না বাড়িয়েই মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধি ৬ দশমিক ৭ শতাংশে উন্নীত করার প্রাক্কলন করেছে সরকার, যা বাস্তবসম্মত নয় বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা।
এমন নীতিগত দ্বন্দ্ব নিয়েই গতকাল বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ৭ লাখ ৯৭ হাজার কোটি টাকা ব্যয়ের বাজেট উপস্থাপন করেছেন অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলী। অর্থমন্ত্রীর বাজেট বক্তব্যের শিরোনাম ‘সুখী, সমৃদ্ধ, উন্নত ও স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণে অঙ্গীকার’। তবে সুখী, সমৃদ্ধ ও উন্নত বাংলাদেশ গড়তে স্থানীয় মুদ্রার পাশাপাশি বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। অথচ অর্থমন্ত্রীর বাজেটে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভের সংকট কীভাবে মোকাবিলা করা হবেÑ তার সুস্পষ্ট নির্দেশনা নেই। বরং বিদেশি ঋণ কম পাওয়ার আশঙ্কায় ঘাটতি মেটাতে অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপরই জোর দিয়েছেন তিনি।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনতে কিছু আমদানি পণ্যে সামান্য শুল্ক কমানো হলেও এর সুবিধা প্রান্তিক পর্যায়ে পড়বে না বলে মনে করছেন বাজারসংশ্লিষ্টরা। একদিকে সিন্ডিকেট, অন্যদিকে ভ্যাটের চাপে পণ্যমূল্য আরও বাড়বে। ফলে সরকার মূল্যস্ফীতি কমানোর লক্ষ্য নিলেও তা কতটা কার্যকর করতে পারবে তা নিয়ে সংশয় রয়েছে।
প্রস্তাবিত বাজেটের ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ৫৬ হাজার কোটি টাকা, যা জিডিপির ৪ দশমিক ৬ শতাংশ। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ঘাটতি ধরা হয়েছে জিডিপির ৪ দশমিক ৭ শতাংশ। শতাংশের হিসাবে ঘাটতি কমলেও সংশোধিত বাজেটের তুলনায় আগামী বাজেটে টাকার অঙ্কে তা বেড়েছে। অন্য বছরগুলোতে ঘাটতি মেটাতে বিদেশি ঋণের ওপর নির্ভরতা বাড়লেও এবার কমানো হয়েছে। দেশের সংকটের সময়ে বিদেশি ঋণপ্রাপ্তি কমে যাওয়ায় শেষ পর্যন্ত অভ্যন্তরীণ ঋণ বিশেষ করে ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর নির্ভরতা আরও বেড়েছে।
বর্তমানে তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংকগুলো কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে নিয়মিত ধার করে দৈনন্দিন কার্যক্রম চালাচ্ছে। এই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকেই আগামী বাজেটের জন্য ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়ার পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর ফলে বেসরকারি খাত ঋণ পাবে না। যদিও বাজেটে বেসরকারি বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে।
পরপর দুই বছরের স্থবিরতার পর রাষ্ট্রীয় বিনিয়োগে পরিকল্পিত পতনের প্রভাবের ভারসাম্য বজায় রাখতে সরকার আসন্ন অর্থবছরে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগ বর্তমানের তুলনায় ২৯ শতাংশ বৃদ্ধির লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে। প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা জিডিপির ২৭ দশমিক ৩৪ শতাংশে উন্নীত করা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ২৩ দশমিক ৫১ শতাংশ। সরকারের এমন উচ্চাকাক্সক্ষার জন্য বেসরকারি খাতে আসন্ন বাজেটের জিডিপির আকার অনুযায়ী ১৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি বিনিয়োগের প্রয়োজন হবে।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রস্তাবিত বাজেটে বেসরকারি খাতে বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা অবাস্তব। লক্ষ্যমাত্রা পূরণে ২০২৪-২৫ অর্থবছরে বেসরকারি খাতকে ৩ লাখ ৪৩ হাজার ৫৪১ কোটি টাকা বিনিয়োগ করতে হবে। অথচ এক বছরে আমানতের প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ১০ শতাংশ বাড়তে পারে। এ হিসাবে ১ লাখ ৬০ হাজার থেকে ১ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা আমানত বাড়তে পারে। যার মধ্যে সরকারই ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা নেওয়ার পরিকল্পনা করেছে। ফলে বেসরকারি খাত সর্বোচ্চ ৩০ কোটি টাকা ঋণ পেতে পারে। এত স্বল্প ঋণ নিয়ে বেসরকারি বিনিয়োগের লক্ষ্যমাত্রা কীভাবে পূরণ হবে, তা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে।
এদিকে প্রস্তাবিত বাজেটে সরকারের বিনিয়োগ পরিকল্পনা জিডিপির ৬ দশমিক শূন্য ৮ শতাংশে নামিয়ে আনা হয়েছে, যা চলতি অর্থবছরে ছিল ৭ দশমিক ৪৭ শতাংশ। ব্যাংক থেকে ব্যাপক হারে ঋণের পরিকল্পনার পরও সরকারি বিনিয়োগ কমিয়ে আনা হচ্ছে বিদেশি ঋণ কম পাওয়ার কারণে। এ অবস্থায় সরকারের ৬ দশমিক ৭৫ শতাংশ জিডিপির প্রবৃদ্ধি অর্জন নিয়ে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদরা বলছেন, বাজেট ঘাটতি মেটাতে তারল্য সংকটে থাকা ব্যাংক ব্যবস্থার ওপর সরকারের অতিনির্ভরতা বেসরকারি বিনিয়োগ আরও সংকুচিত করবে, যা ব্যবসা সম্প্রসারণ ও কর্মসংস্থানে বাধা তৈরি করবে। জিডিপির কাক্সিক্ষত প্রবৃদ্ধি অর্জন করতে হলে টাকার সরবরাহ ব্যাপক হারে বাড়াতে হবে, যা আবার মূল্যস্ফীতি উসকে দিতে পারে। এটি আবার কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিকও।
গবেষণা সংস্থা পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের (পিআরআই) নির্বাহী পরিচালক ড. আহসান এইচ মনসুর দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ব্যাংক থেকে টাকা ধার নিয়ে যে সরকার বাজেটের ঘাটতি মেটাচ্ছে, এতে বেসরকারি খাতের অবস্থা খুবই করুণ হবে। আমাদের আর্থিক খাত খুবই দুর্বল। এই দুর্বল আর্থিক খাতে আমাদের আমানতের প্রবৃদ্ধি হচ্ছে ৭ থেকে ৯ শতাংশ। এ বছর হয়তো ১০-১১ শতাংশ হতে পারে। যদি ১১ শতাংশও হয় তারপরও আমাদের সামগ্রিক আমানত বাড়বে হয়তো ১ লাখ ৭০ হাজার থেকে ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে ১ লাখ ৩৭ হাজারই যদি সরকার নিয়ে নেয়, তাহলে আর থাকবে কি?’
তিনি বলেন, জিডিপিতে সরকারের অংশ হচ্ছে ১৩-১৪ শতাংশ আর বেসরকারি খাতের অংশ হচ্ছে ৮৬-৮৭ শতাংশ। ৮৭ শতাংশই যদি ২০ থেকে ২৫ শতাংশ পায় আর সরকার যদি ৮০-৮৫ শতাংশ নিয়ে নেয় তাহলে একটা বড় ভারসাম্যহীনতা তৈরি হবে। সুদহার অনেক বেড়ে যাবে। যদিও সুদহার বেড়ে গেলে মূল্যস্ফীতিতে তা কিছুটা সহায়ক ভূমিকা রাখবে। তবে সাধারণ মানুষের জন্য আগামী ছয় মাস স্বস্তির কিছু থাকবে না। দ্রব্যমূল্য যেটা বেড়েছে সেটা কমবে না। তবে ছয় মাস পর ধীরে ধীরে কমতে পারে।
আহসান এইচ মনসুর আরও বলেন, ‘এবার বাজেটের আকার ছোট রাখা হয়েছে এটা ভালো দিক। তবে চ্যালেঞ্জটা খুব বড়। এখানে সরকার আরেকটু ব্যয় কমাতে পারত। সরকারের অনেক অপ্রয়োজনীয় জায়গা আছে যেগুলোতে ব্যয় কমানো সম্ভব। সরকার এখন যেমন রেমিট্যান্সে, গার্মেন্টস রপ্তানিকারকদের ভর্তুকি দিচ্ছে, এটার দরকার হয় না। প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা কমিয়ে ফেলতে পারে। তাহলে সরকারের ব্যয় কমত।’
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ছাড়াও সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হচ্ছে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ক্ষয় সামাল দেওয়া। তবে প্রস্তাবিত বাজেটে রিজার্ভ কীভাবে সামাল দেওয়া হবে, তার কোনো সুস্পষ্ট দিকনির্দেশনা নেই।
বাজেট প্রস্তাবে অর্থমন্ত্রী বলেছেন, উন্নত বিশ্বে সুদের হার বাড়ায় মূলধনের বহিঃপ্রবাহের গতি বাড়ার পাশাপাশি আন্তঃপ্রবাহ কমার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। ফলে একদিকে আর্থিক হিসাবে ঘাটতি বাড়ছে, অন্যদিকে বিদেশি ঋণপ্রবাহের দায় পরিশোধের চাপ বাড়ছে বলেও স্বীকার করেন অর্থমন্ত্রী। উন্নত বিশ্বে সুদের হার না কমলে এমন ধারা অব্যাহত থাকবে বলে মনে করছেন তিনি।
বর্তমানে বিদেশি মুদ্রার রিজার্ভ ১৯ বিলিয়ন ডলারের নিচে রয়েছে। যদিও ব্যবহারযোগ্য রিজার্ভ ১৩ বিলিয়নের ঘরে। বিপরীতে শুধু বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতেই সরকারের বকেয়া ৫ বিলিয়ন ডলারের বেশি। এর বাইরে অনেক বিদেশি কোম্পানি ও এয়ারলাইনস তাদের মুনাফার অর্থ বাইরে নিয়ে যেতে পারছে না। বিদেশি মুদ্রা সংকটের কারণে দেশে বিদেশি বিনিয়োগও তলানিতে নেমেছে।
এদিকে রিজার্ভ সংকটের কারণে আগামী অর্থবছরেও আমদানিতে বিধিনিষেধ বজায় থাকবে বলে আশঙ্কা রয়েছে। ফলে পণ্য সরবরাহ ও চাহিদায় ভারসাম্য রক্ষা হবে না। এতে করে পণ্যমূল্য আরও বাড়ার শঙ্কা রয়েছে। এ ছাড়া বিদেশি ঋণ ও ঋণ পরিশোধের ব্যয়ও সংকট বাড়িয়ে তুলছে। এক বছরের ব্যবধানে বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধের ব্যয় বেড়ে গেছে। বিভিন্ন প্রকল্পের জন্য নেওয়া ঋণের গ্রেস পিরিয়ড শেষ হয়ে আসায় আগামীতে ঋণ পরিশোধের চাপ আরও বাড়বে।
চলতি অর্থবছরে কাক্সিক্ষত বিদেশি ঋণ না পাওয়ায় সংশোধিত বাজেটে এ খাতের ঋণপ্রাপ্তি কমানো হয়েছে ২৫ শতাংশের বেশি। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১ লাখ ২ হাজার ৪৯০ কোটি টাকা। ঋণের ছাড় আগের তুলনায় খুব একটা না বাড়ায় সংশোধিত বাজেটে এবার বিদেশি ঋণের লক্ষ্যমাত্রা উল্লেখযোগ্য পরিমাণে কমিয়ে ৭৬ হাজার ২৯৩ কোটি টাকায় নির্ধারণ করা হয়েছে, যা মূল বাজেটের চেয়ে ২৫ দশমিক ৫৬ শতাংশ কম। চলতি অর্থবছরের জুলাই-এপ্রিল সময়ে সব মিলিয়ে ৬২৮ কোটি ডলারের ঋণ দেশে এসেছে।
অন্যান্য বছরের মতো এবারও বাজেট ব্যয়ের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ মেটাতে হবে ঋণ করে। ঘাটতি মেটাতে এবারও অভ্যন্তরীণ ঋণের ওপরই নির্ভরতা বেশি। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ৬০ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ব্যাংক খাত থেকে নেওয়া হবে ১ লাখ ৩৭ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। তবে চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে বিদেশি ঋণ কম আসায় ব্যাংক খাত থেকে লক্ষ্যমাত্রার বেশি ঋণ নেওয়া হচ্ছে। চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ব্যাংক থেকে ১ লাখ ৩২ হাজার ৩৯৫ কোটি টাকা ঋণ নেওয়ার লক্ষ্য থাকলেও সংশোধিত বাজেটে তা বাড়িয়ে ১ লাখ ৫৫ হাজার ৯৩৫ কোটি টাকা নেওয়া লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। তাই আগামী বাজেটে সংশোধিত বাজেটের তুলনায় ব্যাংকঋণ কম নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও শেষ পর্যন্ত তা বেড়ে যেতে পারে। আসন্ন বাজেটে সঞ্চয়পত্র থেকে ১৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা ও অন্যান্য উৎস থেকে ৮ হাজার কোটি টাকা নেওয়া হবে।
প্রস্তাবিত বাজেটে সামাজিক সুরক্ষা খাতে বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৬ কোটি টাকা, যা চলতি বাজেটে ছিল ১ লাখ ২৬ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। এ হিসেবে সামাজিক সুরক্ষা খাতে প্রায় ১০ হাজার কোটি টাকা বাড়ানো হলেও এর ৯ হাজার কোটি টাকারও বেশি যাবে আসলে অবসর ভাতায়।
আসন্ন বাজেট প্রস্তাবে সবচেয়ে বেশি প্রভাব ফেলছে আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) শর্ত। ঋণের বিনিময়ে সংস্থাটির শর্ত মানতে গিয়ে যে চাপ তৈরি হচ্ছে, তা মূলত সাধারণ মানুষ ও ব্যবসায়ীদের ঘাড়েই পড়ছে। রাজস্ব আয় বাড়াতে গিয়ে সাধারণের ওপর ভ্যাটের নামে করের বোঝা আরও বাড়াতে হচ্ছে। ব্যবসায়ীদের জন্য শর্তসাপেক্ষে করপোরেট কর আড়াই শতাংশ কমানো হলেও বাস্তবে এ সুবিধা কতগুলো প্রতিষ্ঠান নেবে, তা নিয়েও সংশয় রয়েছে।
চলতি অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) আয়ের যে লক্ষ্যমাত্রা ছিল, তা থেকে ২০ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে আনা হয়েছে সংশোধিত বাজেটে। সবমিলিয়ে ২১ হাজার কোটি টাকা কমেছে কর আয়। ফলে সংশোধিত বাজেটের আকার কমিয়ে ৭ লাখ ১৪ হাজার ৪১৮ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে বাজেটে ব্যয়ের প্রাক্কলন ছিল ৭ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৫ কোটি টাকা।
২০২৪-২৫ অর্থবছরে মোট রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ লাখ ৪৫ হাজার ৪০০ কোটি টাকা, যা চলতি ২০২৩-২৪ অর্থবছরে ছিল ৫ লাখ ৩ হাজার ৯০০ কোটি টাকা। রাজস্ব প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ৮ দশমিক ২৩ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা দেওয়া হয়েছে ৪ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা, যা চলতি অর্থবছরের মূল বাজেটে ছিল ৪ লাখ ৩০ হাজার কোটি টাকা। যদিও সংশোধিত বাজেটে তা কমিয়ে ৪ লাখ ১০ হাজার কোটি টাকায় নামিয়ে আনা হয়েছে। আইএমএফের শর্ত অনুযায়ী, আগামী অর্থবছরে সরকারের ৪ লাখ ৭৮ হাজার কোটি টাকার কর রাজস্ব আদায় করার কথা। সে হিসেবে সরকারের ও আইএমএফের লক্ষ্য কাছাকাছিই থাকছে। আসন্ন বাজেটে এনবিআরবহির্ভূত কর আসবে আরও ১৫ হাজার কোটি টাকা আর কর ছাড়া প্রাপ্তির লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪৬ হাজার কোটি টাকা। বিদেশি অনুদান ধরা হয়েছে ৪ হাজার ৪০০ কোটি টাকা।
প্রস্তাবিত বাজেটে পরিচালন ব্যয় ধরা হয়েছে ৫ লাখ ৬ হাজার ৯৭১ কোটি টাকা, যা চলতি মূল বাজেট থেকে ৬ দশমিক ৬৬ শতাংশ বেশি। চলতি অর্থবছরে আয় কমে যাওয়ায় পরিচালন ব্যয় ২২ হাজার ৩৫ কোটি টাকা কমিয়ে আনা হয়েছে। আগামী অর্থবছরের পরিচালন ব্যয়ের মধ্যে দেশি-বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে ব্যয় হবে ১ লাখ ১৩ হাজার ৫০০ কোটি টাকা, যা পরিচালন ব্যয়ের ২২ দশমিক ৪ শতাংশ।
অতীতের রেকর্ড ভেঙে বাজেটের প্রায় ৬৪ শতাংশ অর্থ পরিচালন ব্যয়ে বরাদ্দ রাখা হয়েছে এবার। একরকম বাধ্য হয়েই আরও ১৪ শতাংশ অর্থ ব্যয় করতে হবে ঋণের সুদ পরিশোধে। ফলে উন্নয়নে অর্থের বরাদ্দ নেমে এসেছে ৩০ শতাংশের আশপাশে।
অর্থ বিভাগ সূত্র জানায়, আগামী অর্থবছরের জন্য বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) আকার ধরা হয়েছে ২ লাখ ৬৫ হাজার কোটি টাকা। চলতি অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে ১৮ হাজার কোটি টাকা কমিয়ে এডিপির আকার করা হয়েছে ২ লাখ ৪৫ হাজার কোটি টাকা।
