মানিকগঞ্জের সিংগাইর উপজেলার ধল্লা ইউনিয়ন কাউন্সিল উচ্চবিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের বিরুদ্ধে সমাজসেবা অধিদপ্তরের নির্মিত গণমিলনায়তন কেন্দ্রের ভবনটি ভেঙে মালামাল অপসারণ ও ভূমি জবরদখলের অভিযোগে থানায় জিডি করা হয়েছে। সিংগাইর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলাম বাদী হয়ে গত মঙ্গলবার এই সাধারণ ডায়েরি করেন।
জিডি ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ১৯৮৪-৮৫ অর্থবছরে ওই স্কুলসংলগ্ন ২ শতাংশ জায়গায় উপজেলা সমাজসেবা অধিদপ্তরের পক্ষ থেকে গণমিলনায়তন কেন্দ্রটি নির্মাণ করা হয়। কয়েক বছর পর সমাজসেবার জনবলে ঘাটতির কারণে প্রশিক্ষণ এবং সভা-সেমিনার কম থাকায় ধল্লা ইউনিয়ন পরিষদ কিছুদিন ওই কেন্দ্র ব্যবহার করে। পরে ওই ঘরের বড় একটি অংশে স্থানীয় ভূমি অফিসের কাজ পরিচালনা করা হয়ে থাকে। ভূমি অফিসের কার্যক্রম নতুন ভবনে স্থানান্তর করা হলে বেশ কিছুদিন ঘরটি বন্ধ ছিল। ১ জুন ছুটির দিন সুযোগ বুঝে কাউকে না জানিয়ে ওই স্কুলের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদের নেতৃত্বে ভবনটি ভেঙে মালামাল অপসারণ ও জমি স্কুলের দখলে নেওয়া হয়। মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের একজন প্রধান শিক্ষকের এমন কর্মকান্ড নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।
অভিযুক্ত প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘ঘরটি আমাদের স্কুলের জায়গায়। ঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ছাত্ররা ভেঙে ফেলেছে।’ ঘটনাটি পত্রিকায় প্রকাশ না করার জন্য অনুরোধও করেন তিনি।
সিংগাইর উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘সরকারি প্রতিষ্ঠান ভাঙতে হলে একটা নিয়ম আছে। কাউকে না জানিয়ে আমাদের অফিসের গণমিলনায়তন কেন্দ্রটি ভেঙে ফেলায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে থানায় জিডি করেছি।’
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা এবিএম আবদুল হান্নান বলেন, প্রধান শিক্ষকের এ কাজ করাটা ঠিক হয়নি। অপসারণ করতে হলে সিস্টেমের বাইরে যাওয়া যাবে না।
সিংগাইর থানার ওসি জিয়ারুল ইসলাম বলেন, জিডির তদন্ত চলছে। সত্যতা পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
