শনিবার, ১৫ জুন ২০২৪, ১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

জুনের মধ্যে কোটা বাতিল নইলে বড় আন্দোলন

আপডেট : ১০ জুন ২০২৪, ০১:৫৪ এএম

সরকারি চাকরিতে প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে (নবম থেকে ১৩ গ্রেড) মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত বাতিলের দাবিতে চলতি জুন মাস পর্যন্ত সময় বেঁধে দিয়ে আলটিমেটাম দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। এ সময়ের মধ্যে কোটা বাতিল করা না হলে সর্বাত্মক আন্দোলনে নামার ঘোষণা দিয়েছেন তারা। গতকাল রবিবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা তৃতীয় দিনের মতো কোটা পুনর্বহালের প্রতিবাদে বিক্ষোভ শেষে এ ঘোষণা দেন। ঢাবির সাধারণ শিক্ষার্থীদের পক্ষ থেকে একটি প্রতিনিধিদল এ বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অ্যাটর্নি জেনারেলকে স্মারকলিপিও দিয়েছে।

এদিকে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পদ্ধতি বাতিলের সিদ্ধান্ত অবৈধ ঘোষণা করে হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছে রাষ্ট্রপক্ষ। আগামী ৪ জুলাই এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন নির্ধারণ করেছে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত।

ঢাবির শিক্ষার্থীরা গতকাল দুপুরে কেন্দ্রীয় লাইব্রেরির সামনে একত্রিত হয়ে মিছিল নিয়ে কলা ভবন, প্রশাসনিক ভবন, উপাচার্যের কার্যালয়ের প্রবেশপথ ঘুরে রাজু ভাস্কর্যে জড়ো হয়ে বিক্ষোভ সমাবেশ করেন। সমাবেশ শেষে সুপ্রিম কোর্টের অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিনের কাছে স্মারকলিপি দেন শিক্ষার্থীরা।

সমাবেশে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহালের আদেশ ৩০ জুনের মধ্যে বাতিল না করলে লাগাতার আন্দোলন চালিয়ে যাওয়া এবং প্রত্যেক শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে আন্দোলন ছড়িয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। আলটিমেটামের ঘোষণা দিয়ে বাংলা বিভাগের শিক্ষার্থী মাহিন সরকার বলেন, ‘কোটা পুনর্বহালের বিরুদ্ধে যে আন্দোলন শুরু হয়েছে তা প্রয়োজনে রক্ত ঝরার মাধ্যমে শেষ হবে। তবুও এ বৈষম্যমূলক কোটা বাতিলের দাবি শিক্ষার্থীসমাজ আদায় করে ছাড়বে। আমরা ৩০ জুনের মধ্যে এই কোটা পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত বাতিলের আলটিমেটাম জানাই। এর মধ্যে এ সিদ্ধান্ত বাতিল না করা হয়, তাহলে আমরা দেশব্যাপী লাগাতার দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলব।’ ইসলামিক স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী আবদুল হান্নান মাসুদ বলেন, ‘দীর্ঘসময় কোটা বৈষম্য বহাল ছিল। শিক্ষার্থীরা ২০১৮ সালে আন্দোলনের মাধ্যমে তা থেকে ছাত্রসমাজকে মুক্ত করেছিল। আদালতের বৈষম্যমূলক রায় শিক্ষার্থীরা মেনে নেবে না।’

আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের শিক্ষার্থী রিফাত রশিদ বলেন, ‘আমাদের সংবিধানে সুযোগের সমতার কথা বলা হয়েছে। তা নিশ্চিত করতে হবে। আপনারা মেধাবীদের হাতে দেশ তুলে দিন। অধিকার আদায় না করে আমরা ফিরব না। ৩০ জুনের মধ্যে দাবি আদায় না হলে দেশব্যাপী লাগাতার আন্দোলন চলবে।’

কোটা ব্যবস্থা পুনর্বহালের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে গতকাল বিক্ষোভ মিছিল করেছে বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীরা। বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটকের সামনে মানববন্ধন ও বিক্ষোভ মিছিল করেন শিক্ষার্থীরা। এ সময় বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা বরিশাল-পটুয়াখালী মহাসড়ক অবরোধ করেন। পরে একটি বিক্ষোভ মিছিল বিশ্ববিদ্যালয়ের মূল ফটক হয়ে ভোলা রোড প্রদক্ষিণ করে বিশ্ববিদ্যালয়ের গ্রাউন্ড ফ্লোরে এসে শেষ হয়। এ সময় সরকারি চাকরিতে সব ধরনের কোটা বাতিলের দাবি জানান তারা। অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষার্থী ভূমিকা সরকার বলেন, ‘আমরা এখানে মূলত কোটাপ্রথার সংস্কারের দাবিতে এসেছি। আমি একজন নারী, আমি চাই যে নারী কোটা না থাকুক। নারী কোটার মাধ্যমে নারীদের সমাজে আরও বেশি হেয় করা হয়। ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটাসহ অন্যান্য অপ্রয়োজনীয় কোটা ব্যবস্থাগুলোর বাতিল দাবি জানাচ্ছি।’

রায় স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষের আপিল : মুক্তিযোদ্ধা কোটা বাতিল করে সরকারের জারি করা পরিপত্র অবৈধ ঘোষণার রায় স্থগিতের আবেদনের ওপর শুনানি হবে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে। আগামী ৪ জুলাই এ বিষয়ে শুনানির জন্য দিন ধার্য করেছে সুপ্রিম কোর্টের চেম্বার আদালত। গতকাল চেম্বার আদালতের বিচারপতি এম. ইনায়েতুর রহিম এ তারিখ ধার্য করেন। ওই পরিপত্রের বৈধতা নিয়ে করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে ২০২১ সালে দেওয়া রুল গত ৫ জুন যথাযথ ঘোষণা করে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেয়। সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা তখন জানিয়েছিলেন, এ রায়ের ফলে সরকারি চাকরিতে নবম থেকে ১৩তম গ্রেডে ৩০ শতাংশ মুক্তিযোদ্ধা কোটা থাকার বিধান বহাল থাকবে। পরে মুক্তিযোদ্ধা কোটা পুনর্বহাল করা হাইকোর্টের রায় স্থগিত চেয়ে চেম্বার আদালতে আবেদন করে রাষ্ট্রপক্ষ। আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল এএম আমিন উদ্দিন। সঙ্গে ছিলেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ। রিটের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোতাহার হোসেন সাজু। আইনজীবী শেখ মোহাম্মদ মোরশেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমরা এ রায় স্থগিত চেয়ে আবেদন করেছিলাম। বিষয়টিতে আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য ৪ জুলাই ধার্য করেছেন আদালত।’

অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আদালত ৪ জুলাই শুনানির জন্য রেখেছেন। তাই হাইকোর্টের রায়টি আপাতত বহাল আছে।’

প্রতিবেদনটিতে তথ্য দিয়েছেন বরিশাল এবং বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিনিধি

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত