মঙ্গলবার, ২৫ জুন ২০২৪, ১১ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

মরণোত্তর দেহদানকারীর স্বজনদের সংবর্ধনা

আপডেট : ১১ জুন ২০২৪, ০২:৩৬ এএম

দেশের মরণোত্তর দেহদানকারী ব্যক্তিদের স্বজন ও দেহদানের অঙ্গীকারকারী মানুষের মিলনমেলায় রূপ নিয়েছিল গতকাল সোমবার বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (বিএসএমএমইউ)। দেহদানকারী ব্যক্তিদের স্বজন ও অঙ্গীকারকারীদের সংবর্ধনা ও সম্মাননা জানায় বিশ্ববিদ্যালয় কর্র্তৃপক্ষ। সংবর্ধনা নিতে আসা সুন্দর, আলোকিত ও অমৃতময় জীবনের অধিকারী গুণী ও মহৎ ব্যক্তিদের সম্মিলন রূপ নেয় মিলনমেলায়। তাদের সবাইকে ‘সাদা মনের মানুষ’ হিসেবে অভিহিত করা হয়।

ডা. মিল্টন হলে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে আবেগে আপ্লুত হয়ে ওঠেন সবাই। স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে কেঁদে ফেলেন মরণোত্তর দেহদানকারী ব্যক্তিদের স্বজনরা। আর দেহদানে অঙ্গীকারকারী ব্যক্তিরা তাদের দেহদানের অভিজ্ঞতা বর্ণনা করতে গিয়ে তুলে আনেন সামাজিক সংস্কার ও নানা প্রতিকূলতার কথা।

অনুষ্ঠানের শুরুতেই দেহদানে অঙ্গীকারকারী ব্যক্তি ও মরণোত্তর দেহদানকারীর স্বজনদের শ্রদ্ধা জানান বিশ্ববিদ্যালয় উপাচার্য অধ্যাপক ডা. দীন মো. নূরুল হক। তিনি বলেন, আজ আমি সত্যিই অভিভূত। আবেগাপ্লুত। এটা আমার জন্য একটি সুন্দর ও মহৎ দিন। আজ আমি এখানে কিছু মহামানবকে দেখছি। আপনারা ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। মানুষের প্রতি ভালোবাসার অনন্য দৃষ্টান্ত আপনারা স্থাপন করেছেন।

উপাচার্য আরও বলেন, মানুষ হিসেবে আপনাদের স্থান অনেক ঊর্ধ্বে। আপনারা সাদা মনের মানুষ। আপনাদের চারিত্রিক দৃঢ়তা অসীম। মানুষের জন্য শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে যারা কাজ করে যায় আপনারা সেই সুন্দর শ্রেণির মানুষ। আপনাদের পেয়ে আমরা সম্মানিত ও গৌরব বোধ করছি।

এ সময় সংবর্ধিতদের উদ্দেশে অনুষ্ঠানের সভাপতি ও বিএসএমএমইউর অ্যানাটমি বিভাগের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. লায়লা আঞ্জুমান বানু বলেন, কিছু মানুষ যুগ-যুগান্তর বেঁচে থাকেন, কিছু মানুষ সময়কে অতিক্রম করে যান। আপনারা চিন্তা চেতনায় অনেক অগ্রসরমাণ মানুষ। আমরা এমন একটি পশ্চাদপদ সমাজে বাস করি যেখানে কুসংস্কার আছে, ক্ষুধা- দারিদ্র্য আছে। কিন্তু এর মধ্যেও আপনারা এগিয়ে এসেছেন ও আমরা যে ধরনের সাড়া পাচ্ছি তাতে বেশ আশাবাদী। আশা করছি ভবিষ্যতে দেহদানে আরও বেশি মানুষ এগিয়ে আসবে।

এ চিকিৎসক বলেন, যারা তাদের মূল্যবান দেহ দান করছেন, শিক্ষণ ও গবেষণার কাজে সেসব দেহ ব্যবহারে আমাদের সক্ষমতা অর্জন করতে হবে। অনেক দক্ষ হতে হবে।

অধ্যাপক ডা. লায়লা জানান, দেহদানে অঙ্গীকারকারী ও মরণোত্তর দেহদানকারীদের স্বজন মিলে ৪৮ জনকে সংবর্ধনা দেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে গত বছর ১১ জুন থেকে এ বছরের ১০ জুন পর্যন্ত মরণোত্তর দেহদানকারী ব্যক্তি ছিলেন ১০ জন ও বাকিরা দেহদানে অঙ্গীকারকারী।

সংবর্ধনা নিতে এসেছিলেন দেহদানে অঙ্গীকারকারীদের মধ্যে একুশে পদকপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধা মনোরঞ্জন ঘোষাল, বিএসএমএমইউর কার্ডিওলজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক ডা. সজল কৃষ্ণ ব্যানার্জি, সর্ববৃহৎ লম্বা পতাকা তৈরিকারী গিনেস বুক অব রেকর্ডে নামধারী ইমরান শরীফ, গান্ধী আশ্রম ট্রাস্টের সচিব কৃষ্ণ দাস গুপ্ত (মনু গুপ্ত) প্রমুখ। মরণোত্তর দেহদানকারীদের মধ্যে এসেছিলেন জাতীয় পতাকার অন্যতম মূল নকশাকার শিবনারায়ণ দাস, গণজাগরণ মঞ্চের সংগঠক শিপ্রা বোস ও নেত্রকোনা সরকারি কলেজের সাবেক প্রিন্সিপাল অধ্যাপক সুভাষ চন্দ্র রায়ের স্বজনরা।

অনুষ্ঠান শুরু হয় বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ‘আগুনের পরশমণি ছোঁয়াও প্রাণে’ গানটি পরিবেশনের মধ্য দিয়ে। পরে সম্মাননা প্রদান করেন উপাচার্য। স্মৃতিচারণ করেন দেহদানে অঙ্গীকারকারী ও মরণোত্তর দেহনদানকারী ব্যক্তিদের স্বজনরা। দেহদানকারী ব্যক্তিদের মরণোত্তর দেহদানের কার্ড ও সবাইকে সম্মাননা স্মারক দেওয়া হয়।

   
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত