দেশের ২৬ জেলার ১০০ উপজেলা কালাজ্বর-প্রবণ এবং এসব উপজেলার ৩ কোটি ৮০ লাখ মানুষ এই রোগের ঝুঁকিতে রয়েছে। তবে গত ২০১৭ সাল থেকে এখন পর্যন্ত জাতীয় কালাজ্বর কর্মসূচির কারণে উপজেলা পর্যায়ে প্রতি ১০ হাজার জনের মধ্যে একজনের এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার ধারা অব্যাহত রয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার রাজধানীর সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে ‘কালাজ্বর সেন্টার অব এক্সিলেন্স (সিওই)’ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এই তথ্য জানান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগ নিয়ন্ত্রণ শাখার সহকারী পরিচালক ও প্রোগ্রাম ম্যানেজার ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক, ইমেরিটাস অধ্যাপক ডা. এবিএম আব্দুল্লাহ ও সভাপতিত্ব করেন সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. আরিফুল বাশার।
মূল প্রবন্ধে ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান বলেন, বাংলাদেশে জাতীয় কালাজ্বর নির্মূল কর্মসূচি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া আঞ্চলিক কার্যালয়ের কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের মাধ্যমে পর্যায়ক্রমে কালাজ্বর রোগের সংক্রমণ কমিয়ে এনেছে। ২০১৭ সাল থেকে জাতীয় কালাজ্বর নির্মূল কর্মসূচি উপজেলা পর্যায়ে প্রতি ১০ হাজার জনসংখ্যার মধ্যে ১ এর কম রোগী এই ধারা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ ‘জনস্বাস্থ্য সমস্যা হিসেবে কালাজ্বর নির্মূল হয়েছে’ ঘোষণার যোগ্যতা অর্জন করে।
এই কর্মকর্তা আরও জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ২০২৩ সালের ৩১ অক্টোবরে ঘোষণা করেছে যে বাংলাদেশ বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে কালাজ্বর নির্মূলের লক্ষ্য অর্জন করেছে। বাংলাদেশের লক্ষ্য এখন এই নির্মূল অবস্থা বজায় রাখা, ২০২৫ সালের মধ্যে সংক্রমণ বন্ধ করা এবং ২০৩০ সালের মধ্যে কালাজ্বরমুক্ত অবস্থা অর্জন করা। এই লক্ষ্যে জাতীয় কালাজ্বর নির্মূল কর্মসূচি কিছু কর্মকৌশল গ্রহণ করেছে।
অনুষ্ঠানে জানানো হয়, বাংলাদেশে কালাজ্বর উপদ্রুত এলাকায় সব উপজেলায় বিনামূল্যে কালাজ্বর রোগ শনাক্ত করা হয় ও ২৯টি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা প্রদান করা হয়। এর মধ্যে সাতটি রেফারেল হাসপাতালে (ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, সংক্রামক রোগ হাসপাতাল (ঢাকা), বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাকা) এবং ময়মনসিংহের সূর্যকান্ত কালাজ্বর গবেষণা কেন্দ্রে রোগটি নির্ণয় ও চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে।
ডা. এম এম আক্তারুজ্জামান বলেন, কালাজ্বর দ্রুত ও নির্ভুলভাবে শনাক্ত ও রোগটির সঠিক চিকিৎসা দিতে জাতীয় কালাজ্বর নির্মূল কর্মসূচি ও আন্তর্জাতিক সংস্থা ‘ড্রাগস ফর নেগলেক্টেড ডিজিজেস ইনিশিয়েটিভ (ডিএনডিআই) যৌথভাবে সংক্রামক ব্যাধি হাসপাতালে সেন্টার অব এক্সিলেন্স (সিওই) প্রতিষ্ঠা করা হয়। এখানে সব রেফারেল কেন্দ্র ও চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে রেফার করা রোগীদের সর্বোচ্চ পর্যায়ের রোগ নির্ণয় এবং চিকিৎসা দেবে।
এই চিকিৎসক জানান, এই রোগ স্ত্রী স্যান্ডফ্লাই (বেলেমাছি)-এর কামড়ের মাধ্যমে সংক্রমিত হয়। সময়মতো চিকিৎসা না হলে প্রায় ৯৫ শতাংশ কালাজ্বর রোগীর মৃত্যু হয়। এই জ্বরের প্রধান লক্ষণসমূহ অনিয়মিত দীর্ঘমেয়াদি জ্বর, প্লীহা এবং যকৃতের বৃদ্ধি, ওজন হ্রাস এবং রক্তস্বল্পতা। বিশ্বব্যাপী কালাজ্বর একটি এনটিডি অবহেলা ট্রফিকাল রোগ হিসেবে গণ্য হয়ে থাকে। বাংলাদেশে ২০০৮ সালের ৯ মে জাতীয় কালাজ্বর নির্মূল কর্মসূচির কার্যক্রম শুরু হয়।
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্যে রাখেন ডিএনডিআই’র দক্ষিণ এশিয়ার পরিচালক ডা. কবিতা সিং, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি ডা. সাবেরা সুলতানা প্রমুখ।
