আজ অনুষ্ঠিত হচ্ছে পবিত্র হজ। এছাড়া পবিত্র ঈদুল আজহা উদযাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছে সারা বিশ্বের মুসলমানরা। মুসলিম অধ্যুষিত দেশগুলোতে এখন উৎসবের আমেজ। কিন্তু ঈদের সময়েও প্রাণ বাঁচানোর লড়াই করছে ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ ভূখণ্ড গাজার বাসিন্দারা।
ঈদ আনন্দ ও উৎসবের হলেও গাজার শিশু ও বাসিন্দাদের জন্য এবারের ঈদ যেন শোক ও যন্ত্রণার আরেক নাম। কারণ সেখানে নেই বিশুদ্ধ খাবার পানি, নেই পর্যাপ্ত খাবার ও বাসস্থান। প্রতি মুহূর্তে বোমা ফেলছে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনী।
জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির ডেপুটি নির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ বলেছেন, পরিষ্কার পানি বা পয়ঃনিষ্কাশন সুবিধাবিহীন অবস্থায় গাজার দক্ষিণে আটকে পড়েছেন কমপক্ষে ১০ লাখ বাস্তুচ্যুত মানুষ। সেখানে ধ্বংসযজ্ঞের মাত্রা হতাশাজনক।
যুগযুগ ধরেই ইসরায়েলি আগ্রাসন ও হত্যার বিরুদ্ধে স্বাধীন রাষ্ট্রের জন্য লড়াই করে চলেছেন ফিলিস্তিনিরা। তবে এবার যেন সেই আগ্রাসন ছাড়িয়ে গেছে অতীতের সব মাত্রা। পার করেছে অত্যাচার ও গণহত্যার সব সীমারেখা।
দীর্ঘ আট মাসের চলমান যুদ্ধের মধ্যেই পবিত্র রমজান ও ঈদুল ফিতর পার করেছেন গাজাবাসীরা। এবার দরজায় কড়া নাড়ছে ঈদুল আজহা। কিন্তু দিন যত যাচ্ছে হামলার তীব্রতা বাড়াচ্ছে ইসরায়েল। আটকে দিয়েছে ত্রাণ সরবরাহ। এতে করে ঈদের খুশি তো দূরে থাক অনাহারে প্রতি মুহুর্তে প্রাণ বাঁচাতে ব্যস্ত ফিলিস্তিনিরা।
গাজায় ইসরায়েলি নৃশংসতা শুধু ফিলিস্তিনিদের প্রাণই কেড়ে নেয়নি, সেখানে দেখা দিয়েছে খাবার ও পানির তীব্র সংকট। উপত্যকাটিতে প্রয়োজনীয় ত্রাণ ঢুকতে দিচ্ছে না ইসরায়েল। এতে চরম দুর্দশায় রয়েছেন সেখানকার লাখ লাখ বাসিন্দা। বিশেষ করে অসহনীয় কষ্টে ভুগতে হচ্ছে শিশুদের।
আল জাজিরার প্রতিবেদনে বলা হয়, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে শেয়ার করা একটি ভিডিওতে গাজার একজন শিশুকে বলতে শোনা যায়, ‘গাজায় ঈদ উদ্যাপন বা আনন্দ করার মতো কোনো কিছুই আর অবশিষ্ট নেই।’
ফিলিস্তিনি শিশুটির ভাষ্যমতে, ‘আমরা আশা করেছিলাম যে যুদ্ধ কয়েক দিন বা সপ্তাহ স্থায়ী হবে, তবে মাস নয়। আমরা ইতিমধ্যে পবিত্র রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতর পার করেছি এবং আমরা সেগুলি উদযাপন করতে পারিনি’।
শিশুটি আরও বলে, “এখন ঈদুল আজহা প্রায় কাছাকাছি এবং আমাদের কাছে কিছুই নেই। কোরবানির জন্য পশু বা নতুন পোশাক কেনার জন্য অর্থ নেই। হত্যা আর ধ্বংস ছাড়া আমাদের আর কিছুই নেই। শোক আর যন্ত্রণার মাঝেই এলো ঈদ।”
গত বছরের ৭ অক্টোবর থেকে শুরু হওয়া গাজায় ইসরাইলি বাহিনীর বর্বর হামলায় কমপক্ষে ৩৭ হাজার ২৬৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু। এ ছাড়া হামলায় আহত হয়েছেন ৮৫ হাজারের মতো।
গাজায় ইসরায়েলের ভয়াবহ হামলায় সবচেয়ে ঝঁকিপূর্ণ সময় পার করছে শিশুরা। এ হামলায় উপত্যকাটির এ পর্যন্ত সাড়ে ১৫ হাজারের বেশি শিশু নিহত হয়েছে আর পিতা-মারা হারা হয়েছে ১৭ হাজার শিশু। এছাড়া ইসরায়েলের হামলায় অন্তত ৩ হাজার শিশু পঙ্গু হয়েছে। এ পঙ্গুত্বের ভার সারা জীবন বইতে হবে শিশুগুলোর।
হজের রীতিনীতির পেছনে যে ইতিহাস