করোনা তখনো আতঙ্কের নাম। এরই মধ্যে দরজায় কড়া নাড়ছিল টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। তার আগে প্রস্তুতির জন্য একগাদা স্বাস্থ্যবিধির কঠিন সব শর্ত রেখে ঢাকা সফরে এসেছিল অস্ট্রেলিয়া। ৫ ম্যাচের সেই সিরিজে ম্যাথু ওয়েডের দলকে ৪-১ ব্যবধানে তুলোধুনো করেছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদরা। অস্ট্রেলিয়াকেও সিরিজে হারাতে পারে বাংলাদেশ, এমন নজির তৈরি হয়েছিল। সেই দলটার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের সুপার এইটে খেলতে নামছে। সেরা আট পর্ব শুরুর আগে আলোচনায়, মিরপুরের সেই স্মৃতি কি ফিরবে অ্যান্টিগায়!
বছর তিনেক আগে মিরপুরের সেই সিরিজটা ভুলে যেতে চাইবে অস্ট্রেলিয়া। স্টিভ স্মিথ, ডেভিড ওয়ার্নার, অ্যারন ফিঞ্চরা সেবার না এলেও দলটা কম শক্তিশালী ছিল না। জশ হ্যাজেলউড, অ্যাডাম জাম্পা, মিচেল মার্শরা ঠিকই ছিলেন। ম্যাথু ওয়েডের নেতৃত্বাধীন সেই দলটাকে কাঁপিয়ে দিয়েছিলেন মূলত বাংলাদেশের স্পিনাররা। শেরে বাংলার প্রশ্নবিদ্ধ সেই উইকেটে রাজত্ব করেছিলেন স্পিনাররা। নাসুম আহমেদ, শেখ মেহেদী, সাকিব আল হাসানদের স্পিন রহস্যজনক হয়ে উঠেছিল অজি ব্যাটারদের কাছে। স্পিনবান্ধব উইকেটের সুবিধা নিয়েই সিরিজটা জিতেছিল স্বাগতিকরা।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের উইকেটগুলোও আচরণ করছে মিরপুরের মতো। ওয়েস্ট ইন্ডিজের উইকেটে তো বরাবরই দেখা গেছে স্পিন দাপট। গ্রুপ পর্বে নেপালের বিপক্ষে সেন্ট ভিনসেন্টের উইকেটে মাত্র ১০৬ রান করেও ২১ রানে ম্যাচ জিতে নিয়েছে। তাই অ্যান্টিগাতেও এমন আচরণ করবে বলে ধারণা করছেন অনেকে। তবে অ্যান্টিগার উইকেটের আচরণ কী হবে সেটা আগে থেকে বলাটা খুব কঠিন। কারণ সেখানে প্রভাব ফেলে আবহাওয়া। গ্রীষ্মকালে এক আচরণ, বর্ষায় আবার অন্যরকম। শুধু তাই না, রৌদ্রোজ্জ্বল দিন আর মেঘাচ্ছন্ন দিনেও আলাদা আচরণ দেখা দেয় নর্থ সাউন্ডের এই উইকেটের।
এবারের টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ হচ্ছে ক্যারিবিয়ান দ্বীপপুঞ্জের বর্ষাকালে। দিনের বেশিরভাগ সময় আকাশ ঢাকা থাকছে কালো মেঘে। সঙ্গে আছে উত্তর-পূর্ব দিক থেকে ধেয়ে আসা বাতাসের তীব্রতা। প্রতিদিনই দেখা যাচ্ছে এক দৃশ্য। যা উইকেটের আচরণ বদলাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা নেবে। তাই উইকেট স্পিন নাকি পেসারবান্ধব তা এখনই অনুমান করা যাচ্ছে না।
যদিও পরিসংখ্যান বলে এই মাঠের উইকেট মন্থর। কারণ গড়ে দলীয় সংগ্রহ মাত্র ১২৮। মোট ১৭ টি-টোয়েন্টি ম্যাচে ১৫০ রান তাড়া করে জেতার নজির আছে মাত্র একটিতে। সেটাও আবার কোনো বড় দলের না। তাই বাংলাদেশের ক্রিকেটভক্তদের মনে উঁকি দিচ্ছে ২০২১ সালে মিরপুরের সেই সিরিজ। সেখানে যেমন আচরণ ছিল উইকেটের, এমনটা হবে এবারও। সাকিব আল হাসানের স্পিন কিংবা মোস্তাফিজুর রহমানের কাটারে উড়ে যাবে অস্ট্রেলিয়া। অল্পতেই তাদের বেঁধে ফেলে সহজে জিতে যাবে বাংলাদেশ। কিংবা আগে ব্যাট করে অল্পতে থামলেও বোলাররা ঘুরিয়ে দেবেন মোড়।
তবে বিকেএসপির ক্রিকেট উপদেষ্টা ও বিশ্লেষক নাজমুল আবেদীন ফাহিম সেটা মানতে নারাজ। তার দাবি, মন্থর নয় এখানে হবে রানের খেলা। দেশ রূপান্তরের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় না অ্যান্টিগার উইকেট বাংলাদেশের মতো হবে। ওখানে বাউন্স এবং সিম আছে তাই। বিশ্বকাপের অন্যসব উইকেটের চেয়ে এই উইকেটে সবচেয়ে আলাদা। বাকিগুলোতে রান আদায় করতে সংগ্রাম করা লাগলেও এখানে তা হবে বলে আমি মনে করি না। ব্যাটসম্যানরা স্বাচ্ছন্দ্যে খেলতে পারবে বলেই আমার মনে হয়।’
বিশ্বকাপে এই উইকেটে খেলা হয়েছে গ্রুপ পর্বের দুটি ম্যাচের। একটি অস্ট্রেলিয়া-নামিবিয়া। অন্যটি ওমান-ইংল্যান্ড। দুটো ম্যাচেই শক্তিশালীরা পরে ব্যাট করে তাণ্ডব চালিয়েছিলেন। সেখানেই ফাহিমের কথার মিল পাওয়া যায়।
অজিদের হারাতে শান্তদের টোটকা দিয়ে ফাহিম বলেছেন, ‘আমার কাছে মনে হয় ব্যাটসম্যানরা ছন্দে থাকলে এখানে রান হবে। আর রান তাড়া করতে দায়িত্ব নিতে হবে ব্যাটসম্যানদের, যা আমাদের এখন ভোগাচ্ছে। তবে বোলারদের নিয়ে আমি আশাবাদী। তাদের ধারাবাহিকতা আছে।’ এই ম্যাচে সাকিব আল হাসান ‘ফ্যাক্টর’ হতে পারেন জানিয়ে তিনি বলেন, ‘সাকিব তার চেনা রূপে ধরা দিয়েছে। সে তার সহজাত স্পিন দিয়ে যদি ঘায়েল করতে পারে, তাহলে বড় অ্যাডভান্টেজ হবে সেটা বাংলাদেশের।’
