জামালপুরের দেওয়ানগঞ্জে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) নির্দেশে পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির কর্মচারীকে ঘরের খুঁটির সঙ্গে বেঁধে নির্যাতনের অভিযোগ উঠেছে। ইউএনওর নির্দেশে আনসার সদস্যরা এ ঘটনা ঘটায় বলে জানিয়েছেন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির ভুক্তভোগী কর্মচারী মো. ইকবাল হোসেন। বিল বকেয়ার কারণে গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরের দিকে উপজেলা পরিষদ চত্বরের আবাসিক কোয়ার্টারের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করতে গেলে এমন পরিস্থিতির শিকার হন তিনি।
মো. ইকবাল হোসেন পল্লীবিদ্যুৎ সমিতির দেওয়ানগঞ্জ কার্যালয়ে লাইন টেকনিশিয়ান হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
সংশ্লিষ্টরা জানান, দুই বছর ধরে দেওয়ানগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চত্বরের আবাসিক কোয়ার্টার বেলী-১, হাসনা হেনা-১ ও আনসার ব্যারাকের পল্লীবিদ্যুতের বিল বকেয়া রয়েছে। পল্লীবিদ্যুতের দেওয়ানগঞ্জ জোনাল অফিসের এজিএম মো. শেখ ফরিদের নির্দেশে মো. ইকবাল হোসেন ও লাইন টু লেভেল-১ শাহজামাল ইয়াছিন গতকাল দুপুরে বকেয়া বিলের জন্য উপজেলা পরিষদ চত্বরে যান। সেখানে খোঁজাখুঁজি করে দায়িত্বশীল কাউকে না পেয়ে পল্লীবিদ্যুৎ কর্মচারীরা এজিএমকে বিষয়টি জানালে তিনি বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেন দেন। মো. ইকবাল ও শাহজামাল বিদ্যুৎ সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার নির্দেশের বিষয়টি আনসার সদস্যদের জানান। পরে আনসার সদস্যরা বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করেন। একপর্যায়ে ইউএনওর নির্দেশে আনসার সদস্যরা ইকবালকে বারান্দার খুঁটির সঙ্গে বেঁধে রাখেন।
ভুক্তভোগী ইকবাল বলেন, ‘ঊর্ধ্বতনের নির্দেশেই আমি ও লাইনম্যান শাহজামাল আনসার ব্যারাকে যাই। সেখানে কর্তব্যরত আনসারদের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা বললে তারা ইউএনও স্যারকে ফোন দেন। কার নির্দেশে ওখানে গিয়েছি তা তিনি (ইউএনও) জানতে চান। একপর্যায়ে তার নির্দেশে ব্যারাকের আনসার সদস্যরা আমাকে বারান্দার খুঁটির সঙ্গে বাঁধেন।’
এ বিষয়ে দেওয়ানগঞ্জ পল্লীবিদ্যুৎ জোনাল অফিসের এজিএম মো. শেখ ফরিদ বলেন, ‘বিষয়টি ঊর্ধ্বতনদের জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে ঊর্ধ্বতন কর্র্তৃপক্ষ ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন।’
এ ব্যাপারে বক্তব্য জানতে দেওয়ানগঞ্জের ইউএনও শেখ জাহিদ হাসান প্রিন্সের মোবাইল ফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।
