ফুটবলের জার্মান যন্ত্রের সামনে আজ ‘সুইস চিজ’

আপডেট : ২৩ জুন ২০২৪, ০৯:৩০ পিএম

ফুটবলের অন্যতম এক পরাশক্তি ছিল জার্মানি। যেকোনো আসরেই তারা ‘শেষ চারে’, এটা যেন তাদের জন্যই বরাদ্দ ছিল। কিন্তু ২০১৪ সালে বিশ্বকাপ জেতার পর থেকেই ধার কমে তাদের খেলায়। শেষ দুটি বিশ্বকাপে বিদায় নিয়েছে তারা গ্রুপ পর্ব থেকেই। সবশেষ ইউরোতেও তারা কোনোরকমে উঠেছিল শেষ ষোলোয়। কিন্তু বেশিদূর এগোতে পারেনি। তবে হারানো সেই গৌরব এবারের ইউরো থেকেই যেন শুরু করল তারা। দাপটের সঙ্গে প্রথম দুই ম্যাচ জিতে জায়গা করে নিয়েছে নকআউট পর্বে। আজ গ্রুপ পর্বে তাদের শেষ ম্যাচটা তাই নিয়মরক্ষার, প্রতিপক্ষ সুইজারল্যান্ড।

ফ্রাঙ্কফুর্টে আজ রাতের খেলায় জার্মানি চাইলে তাদের রিজার্ভ বেঞ্চ বাজিয়ে দেখতে পারে। যেহেতু ম্যাচটা তাদের কাছে শুধুই আনুষ্ঠানিকতার। তবে সুইজারল্যান্ডের কাছে মোটেও সেটা নয়। তাদের ভাগ্য এখনো ঝুলে আছে। শেষ ষোলোয় যেতে হলে এই ম্যাচ থেকে পয়েন্ট আদায় করতেই হবে। হেরে গেলেই সমীকরণের মারপ্যাঁচে বাদ পড়ে যাওয়ার শঙ্কা। তবে আপাতত সেই আশঙ্কাটা নেই তাদের।

হাঙ্গেরিকে ৩-১ গোলে হারিয়ে দাপটের সঙ্গে ইউরোতে এবার যাত্রা শুরু করেছিল সুইসরা। জার্মানির কাছে ৫-১ গোলের বড় ব্যবধানে হারা স্কটিশরা ছিল তাদের দ্বিতীয় ম্যাচের প্রতিপক্ষ। সেই দলটার কাছে আবার অবিশ্বাস্যভাবে ১-১ সমতায় শেষ করে ম্যাচটি। তাতে ৪ পয়েন্ট নিয়ে তালিকার দুই নম্বরে আছে সুইজারল্যান্ড। আজ রাতে জার্মানিকে হারালে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন হয়ে তারা পৌঁছে যাবে শেষ ষোলোয়। অন্যদিকে স্বাগতিক জার্মানি হবে রানার্স-আপ।

তবে সুইজারল্যান্ড যদি ড্র করে। তাহলে ৫ পয়েন্ট নিয়ে তারা যাবে শেষ ষোলোয়। সেক্ষেত্রে তারা হারাবে গ্রুপ সেরা হওয়ার সুযোগ। আর ৭ পয়েন্ট নিয়ে জার্মানি হবে গ্রুপ চ্যাম্পিয়ন। আবার যদি সুইসরা হেরে যায়, তবুও নকআউট পর্বে যাওয়ার সুযোগ থাকবে তাদের।

সুইসদের এখন লড়াইটা স্কটল্যান্ডের সঙ্গে। তাদের পয়েন্ট ১। আজ রাতে জার্মানির কাছে সুইজারল্যান্ড হেরে গেলে আর স্কটিশরা হাঙ্গেরির বিপক্ষে জিতে গেলে উভয়ের পয়েন্ট হবে সমান চার। তখন গোল ব্যবধানের পরিসংখ্যানে যে এগিয়ে থাকবে সেই যাবে পরের ধাপে। সুইসরা প্রতিপক্ষের জালে এখন পর্যন্ত ৪ বার বল জড়াতে পেরেছে। আর হজম করেছে ২ বার। গোল ব্যবধানও তাই ২। কিন্তু স্কটিশরা ২ গোল দিলেও হজম করেছে ৬টি। তাই গোল ব্যবধান মাইনাস ৪। হাঙ্গেরিয়ানদের বড় ব্যবধানে হারাতে না পারলে তাই স্কটিশদের আর কোনো সম্ভাবনা থাকবে না। গোল ব্যবধানের হেরফের না হলে সুইজারল্যান্ডেরও শেষ ষোলোয় যেতে কোনো বাধা থাকবে না।

সুইজারল্যান্ডের গোলকিপার ইয়ান সোমারই তাদের মূল ভরসার নাম। জার্মানির ক্লাব বায়ার্ন মিউনিখের হয়ে খেলেন তিনি। বলা যায় ঘরের ছেলেই তিনি। গত আসরের শেষ ষোলোয় টাইব্রেকারে কিলিয়ান এমবাপ্পের শট ফিরিয়ে দিয়েছিলেন তিনি। তাতে নিশ্চিত হয়েছিল সুইসদের কোয়ার্টার ফাইনাল। আর ফেভারিট ফ্রান্স বিদায় নিয়েছিল শেষ আটে জায়গা পাওয়ার আগেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত