আগামী ৮ থেকে ১১ জুলাই প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চীন সফর হতে পারে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নে চীনের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। সামনে প্রধানমন্ত্রীর সফরে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হবে, সেটি আমরা প্রত্যাশা করছি। আমরা এ সফরের দিকে তাকিয়ে আছি। গতকাল সোমবার দুপুরে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
এর আগে পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন চীনের কমিউনিস্ট পার্টির আন্তর্জাতিক বিভাগের মন্ত্রী লিউ জিয়ানচাও। রাজধানীর ইন্টারকন্টিনেন্টাল হোটেলে এ সাক্ষাৎকালে বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন ও দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
চীনের মন্ত্রীর সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, চীন আমাদের সবচেয়ে বড় উন্নয়ন সহযোগী এবং বড় বাণিজ্য সহযোগী। আমরা বাণিজ্য ঘাটতি নিয়ে আলোচনা করেছি। আমরা চীন থেকে ইমপোর্ট করি প্রায় ১৩ বিলিয়ন। আর এক্সপোর্ট করি পৌনে ১ বিলিয়ন। আমরা বলেছি, ওষুধ, চামড়া ও সিরামিক পণ্যগুলো তারা আমাদের কাছ থেকে নিতে পারে। পাশাপাশি দেশে আশ্রিত প্রায় ১৩ লাখ রোহিঙ্গার নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনে চীনের কার্যকর ভূমিকা বৃদ্ধির জন্য আহ্বান জানানো হয়েছে।
লিউ জিয়ানচাও সাংবাদিকদের বলেন, আমরা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে চীন সফরে স্বাগত জানাই। বাংলাদেশে পণ্য উৎপাদন, বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও অবকাঠামো নির্মাণে আরও সহযোগিতা দিতে চীন প্রস্তুত।
তদন্তের আগে কাউকে দুর্নীতিবাজ বলা যাবে না : পররাষ্ট্রমন্ত্রী এবং আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ড. হাছান মাহমুদ বলেছেন, কয়েকটি গণমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারি প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে দুর্নীতিবাজ বলছে। গতকাল জাতীয় প্রেস ক্লাবে আওয়ামী লীগের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় এ অভিযোগ করেন তিনি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তদন্তের আগে কাউকে দুর্নীতিবাজ বলা যাবে না। কিন্তু কয়েকটি গণমাধ্যম উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সরকারের প্রতিষ্ঠান ও ব্যক্তিকে দুর্নীতিবাজ বলছে। কোনো প্রতিষ্ঠানকে উদ্দেশ্য করে এমন সংবাদ না প্রকাশের অনুরোধ করছি।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ নেতাদের দল নয়, কর্মীদের দল। এখানে দলের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্র আছে। এখানেই অন্য দলের সঙ্গে আওয়ামী লীগের পার্থক্য। সেই কারণে যখনই জননেত্রী শেখ হাসিনাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সাধারণ কর্মীরা আন্দোলনে ঝাঁপিয়ে পড়েছে। আর একজন দুঃখিনী মা যে পরম মমতা দিয়ে পিতৃহারা সন্তানকে আগলে রেখে মানুষ করেন, জননেত্রী শেখ হাসিনা সেভাবে বঙ্গবন্ধুহীন আওয়ামী লীগকে সুসংহত রেখেছেন।
‘বিএনপি মুখে গণতন্ত্রের কথা বলে, কিন্তু তাদের নিজের দলেই গণতন্ত্র নেই, তাদের জন্মটাই অগণতান্ত্রিকভাবে’ উল্লেখ করে হাছান মাহমুদ বলেন, “বিএনপিতে অভ্যন্তরীণ কোন্দল চলে, সেখানে সিদ্ধান্ত আসে দেশের বাইরে থেকে, পদায়ন-মনোনয়ন হয় রাতের আঁধারে। আর পত্রিকায় ‘মহাসচিবের খোঁজে বিএনপি’ শিরোনাম আর মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের কান্নার ছবি ছাপা হয়। যদিও তারা বলে, মির্জা ফখরুল সাহেবের কান্না বেগম জিয়ার অসুস্থতার জন্য, কিন্তু আমরা জানি, বেগম জিয়া তো দীর্ঘদিন ধরেই অসুস্থ।”
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগের ৭৫ বছরের পথচলায় যেসব নেতা বেসুরে কথা বলেছেন, দল ছেড়ে চলে গেছেন, তারা রাজনীতি থেকেও হারিয়ে গেছেন, এটিই রাজনীতির শিক্ষা। ১৯৭৫ সালের পর জিয়াউর রহমান আওয়ামী লীগকে বিভক্ত করার অপচেষ্টা করেছেন। বঙ্গবন্ধুকন্যা শেখ হাসিনা সেই দ্বিধাবিভক্তি থেকে আওয়ামী লীগকে রক্ষা করে সুসংযত করেছেন, গত ৪৩ বছর ধরে দলকে অসামান্য নেতৃত্ব দিয়ে পরপর চারবারসহ পাঁচবার রাষ্ট্রক্ষমতায় নিয়ে গেছেন। দেশকে বিশে^র বুকে অনন্য উচ্চতায় আসীন করেছেন।
বঙ্গবন্ধু সাংস্কৃতিক জোটের সহসভাপতি ও স্বাধীন বাংলা বেতারকেন্দ্রের শিল্পী ডা. অরূপ রতন চৌধুরীর সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক অরুণ সরকার রানার সঞ্চালনায় জাতীয় প্রেস ক্লাবের সভাপতি ফরিদা ইয়াসমিন এমপি, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক শাহে আলম মুরাদ, আওয়ামী লীগ জাতীয় কমিটির সদস্য অ্যাডভোকেট বলরাম পোদ্দার, আওয়ামী লীগ নেতা বীর মুক্তিযোদ্ধা মোবারক আলী শিকদার, এমএ করিম, স্বাধীনতা পরিষদের সাধারণ সম্পাদক শাহাদাত হোসেন টয়েল, কণ্ঠশিল্পী এস ডি রুবেল, সাংবাদিক মানিক লাল ঘোষ, সমীরণ রায় প্রমুখ আলোচনায় অংশ নেন।
ইতালির পররাষ্ট্র সচিবের সৌজন্য সাক্ষাৎ : বিকেলে সফররত ইতালির পররাষ্ট্র সচিব রিকার্দো গুয়ারিগ্লিয়া পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম পশ্চিম ইউরোপের দেশ হিসেবে ইতালির ভূমিকার কথা স্মরণ করেন। পাশাপাশি বাংলাদেশের সঙ্গে ইতালির দ্বিতীয় পলিটিক্যাল কনসালটেশনে কো-চেয়ার হিসেবে যোগ দিতে আসা ইতালির পররাষ্ট্র সচিবকে স্বাগত জানান।
