ঢাকা- চট্টগ্রাম মহাসড়কের ফেনীর দেবীপুরে হাইওয়ে রাস্তার পাশে ফেনী প্রাইভেট হাসপাতালে ডা. আকিফা সুলতানা টুম্পা নামে এক রোগীর ল্যাপারোস্কপিক সার্জারী করার সময় ভুল অ্যানেস্থেসিয়ায় মৃত্যুর অভিযোগ ওঠেছে। এ ঘটনায় শনিবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের ভারপ্রাপ্ত মহা-পরিচালকের নির্দেশনায় মৃত্যুর বিষয়টি তদন্ত করার জন্য পাঁচ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।
ডা.আকিফা সুলতানা টুম্পা, এমএমসি ৩৯ ব্যাচের,৩১ বিসিএস, শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজে সিনিয়র ক্লিনিক্যাল প্যাথলজিস্ট হিসেবে কর্মরত ছিলেন।
জানা যায়, ডা.আকিফা সুলতানার ডায়াগনোসিস ছিল (Intramural fibroid (24 weeks corresponding size)। তিনি ঢাকায় অনেক গাইনোকোলজিস্ট দেখিয়েছিলেন। তারা বলেছেন, ওপেন অপারেশন করতে হবে। যেহেতু তিনি অবিবাহিত ছিলেন, সেহেতু ডা.আকিফা ল্যাপারোস্কপিক করতেই আগ্রহী ছিলেন। তার এক আত্মীয় ডা. নিলুফা সুলতানা তাকে ফেনীতে প্রফেসর ডা. কাইয়্যুম এটা করতে পারবে বলে জানান। এই কথায় তিনি ফেনীতে এসে ডা. কাইয়্যুমকে দেখান।
গত শুক্রবার সন্ধ্যায় অপারেশন করার জন্য ফেনী প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ল্যাপারোস্কপি সেন্টারে ভর্তি হন ডা.আকিফা। তাকে (ডা.আকিফা) ৪র্থ চেষ্টায় ইনটিউবেট করা গেছে, এর মধ্যে তিনি কয়েকবার কার্ডিয়াক এরেস্টে হয়েছেন (ভেজিটেটিভ স্টেজে ছিলেন)। এরপর তাকে চট্রগ্রাম মেডিকেলের ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে (আইসিইউ) শিফট করা হয়। শনিবার বিকালে সেখানেই মারা যান।
ফেনী সদর হাসপাতালের জুনিয়র কনসালটেন্ট-অ্যানেস্থেসিয়া ডা. মো. আরিফুল হক জানান, অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ডা. আব্দুর রহমান অ্যানেস্থেসিয়া দেওয়ার সময় প্রথমবার ইনটিউবেশন ফেইল হয় এবং সাক্সামিথোনিয়াম এর কার্যকারিতা শেষ হয়ে যাওয়ায় রোগীর জ্ঞান ফিরে আসে, তখন আবার তিনি সিডেশন দিয়ে এবং সাক্সামিথোনিয়াম দিয়ে পুনরায় চেষ্টা করেন, আবার ইনটিউবেশন ফেইল হয় এবং এরই মধ্যে রোগীর spo2- ৫০% এর নিচে নেমে আসে, এ অবস্থায় ফেনী সদর হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার ডা. আসিফ দায়িত্ব নেন।
ফেনী প্রাইভেট হাসপাতাল এন্ড ল্যাপারোস্কপি সেন্টারের মালিক অধ্যাপক ডা. আবদুল কাইয়্যুম বলেন, অভিজ্ঞ অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট আব্দুর রহমানের সাথে ডাক্তার আসিফও ছিলেন। ডা. আসিফ রোগীর দায়িত্ব নিয়ে লং টাইমের ইন কিওরণ দেন। যার মেয়াদ ৪০ মিনিট থেকে এক ঘণ্টা থাকে। এই লং টাইমের ওষুধ টাই রোগীর ক্ষতি করেছে। এটা সব এনালসিস্টরা জানে, এটা নাম হলো নন কিওরণ এটাই তার ক্ষতি করেছে। এ ব্যাপারে ডা. আসিফ ইকবালের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি তদন্ত কমিটিকে সব জানাবেন বলে সাংবাদিকদের এড়িয়ে যান।
ডাক্তারের মৃত্যুর ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটিতে আছেন, ডা. মো. জালাল হোসেন, ডা. মো. কামরুজ্জামান, ডা. তৌহিদুল ইসলাম, ডা. তাহিরা খাতুন, ডা. মো. ইলিয়াছ ভুঞা। এই তদন্ত কমিটিকে আগামী পাঁচ দিনের মধ্যে বিষয়টি তদন্ত পূর্বক প্রতিবেদন দাখিল করার জন্য বলা হয়েছে।
