চিকিৎসক হত্যা মামলার প্রধান আসামি কিশোর গ্যাং নেতা কারাগারে

আপডেট : ২৬ জুন ২০২৪, ০৬:৪১ পিএম

নগরের আকবর শাহ থানাধীন পশ্চিম ফিরোজ শাহ আবাসিক এলাকায় গত ৫ এপ্রিল খুন হওয়া দন্ত চিকিৎসক কুরবান আলী হত্যা মামলার প্রধান আসামি সেই কিশোর গ্যাং নেতা গোলাম রসুল নিশানকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। 

উচ্চ আদালতের জামিনের মেয়াদ শেষে আত্মসমর্পণের জন্য আজ বুধবার (২৬ জুন) বেলা ১১টার দিকে আদালতে আসেন নিশান। সঙ্গে নিয়ে আসেন ৫০/৬০জন কিশোর গ্যাং সদস্য। পরে চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করলে আদালত শুনানি শেষে তার জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

আদেশ শেষে নিশানকে পুলিশ পাহারায় আদালতের নিচতলায় হাজতখানায় নেওয়ার সময় ছবি তুলতে গেলে তার অনুসারীরা বিভিন্ন প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকদের অশালীন ভাষায় গালাগাল করেন। এ সময় সুমন নামে কথিত এক ছাত্রলীগ নেতা প্রথম আলোর এক ফটোসাংবাদিককে হত্যার হুমকিও দেন। ফেসবুকে তার পরিচয় হিসেবে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহসভাপতিলেখা রয়েছে। 

গোলাম রসুল নিশান ছাত্রলীগ চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সহ-সভাপতি। তিনি নিজেকে পরিচয় দেন নগর আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক সাবেক সিটি মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দীনের অনুসারী হিসেবে। নগরের আকবর শাহ থানার পশ্চিম ফিরোজ শাহ এলাকায় তার বাড়ি। নগরের বিভিন্ন থানায় তার (নিশান) বিরুদ্ধে হত্যা, চাঁদাবাজি, মারামারির অভিযোগে সাতটি মামলা রয়েছে। 

চট্টগ্রাম মহানগর দায়রা জজ আদালতের পিপি মো. আবদুর রশিদ বলেন, ‘আসামিরা উচ্চ আদালত থেকে জামিনে ছিলেন। মেয়াদ শেষ হওয়ায় উচ্চ আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আত্মসমর্পণ করে  গোলাম রাসুল নিশান ও আরিফ উল্লাহ নামের দুই আসামি জামিনের আবেদন করেন। আদালত তা নাকচ করে তাদের কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।

নগর পুলিশের অতিরিক্ত উপকমিশনার প্রসিকিউশন মফিজুর রহমান দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর পুলিশ সদস্যরা যখন গোলাম রাসুল নিশানকে হাজতখানায় নিয়ে যাচ্ছিলেন, তখন তার কিছু অনুসারী সাংবাদিকদের বাধা দেন। পরে উপস্থিত পুলিশ সদস্যরা তাদের সরিয়ে দেন। কারা এ ঘটনায় জড়িতদের শনাক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

গত ৫ এপ্রিল নগরের আকবর শাহ থানার পশ্চিম ফিরোজ শাহ আবাসিক এলাকায় দন্ত চিকিৎসক কুরবান আলীকে পিটিয়ে আহত করেন গোলাম রসুলের কিশোর গ্যাংয়ের সদস্যরা। মাদ্রাসাপড়ুয়া ছেলে আলী রেজাকে বাঁচাতে এসে হামলার শিকার হন কুরবান আলী। চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত ১০ এপ্রিল মারা যান তিনি।

এ ঘটনায় ১২ জনের নাম উল্লেখ করে আকবর শাহ থানায় হত্যা মামলা হয়। এরপর পুলিশ তিনজনকে গ্রেপ্তার করে। তারা কারাগারে রয়েছেন। পলাতক রয়েছেন মো. সামি, মো. রিয়াদ ও আকবর। ঘটনার পর পুলিশ গোলাম রসুলের একটি টর্চার সেলেরও সন্ধান পায়।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত