সাবেক সেনাপ্রধান জেনারেল আজিজ আহমেদের দুই ভাইয়ের জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) জালিয়াতির ঘটনায় জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করা হবে বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিব শফিউল আজিম। গতকাল বুধবার ইসি সচিবালয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
ইসি সচিব বলেন, ‘একটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে। তারা (আজিজ আহমেদের দুই ভাই) প্রথমে কীভাবে ভোটার হয়েছিলেন, কোন তথ্যগুলো এখানে এসেছে, একেবারে আদ্যোপান্ত শুরু কীভাবে হলো, কোথায় ওলট-পালট হলো, ডিটেইল তারা তদন্ত করেছে। তদন্ত কমিটি আমাদের কাছে আরও সময় চেয়েছে। আমি মনে করি, আরও সময় লাগতে পারে। আমরা আরও বিস্তারিত ও নিখুঁতভাবে তদন্তটা করতে চাই, যাতে কোনো ধরনের ফাঁকফোকর না থাকে।’
তিনি আরও বলেন, ‘তদন্ত কমিটির ওপর আমাদের আস্থা আছে। আপনাদের আরেকটু অপেক্ষা করতে হবে। আরও দুই সপ্তাহ সময় চেয়েছে। কারণ তারা তথ্য জোগাড় করা, পরীক্ষা করা, সোর্সে গিয়ে এগুলো আবার ভ্যারিফাই করবে। আমরা চাচ্ছি বৈজ্ঞানিকভাবে যাতে কোনো ধরনের কোথাও খুঁত না থাকে।’
সন্দেহের আওতায় ইসির কর্মকর্তারা বা তাদের যোগসাজশ আছে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে ইসি সচিব বলেন, ‘যেই থাকুক কেউ সন্দেহের ঊর্ধ্বে নয়। আমরা সবাইকে সন্দেহ করছি। আবার এটা তদন্তেই প্রমাণ করতে হবে। এতটুকু কথা দিতে পারি, বিন্দুমাত্র কারও যদি এখানে সংশ্লিষ্টটা থাকে, তার আইন অনুযায়ী যে সর্বোচ্চ শাস্তি সেটা আমরা নিশ্চিত করব।’
আজিজ আহমেদের দুই ভাই হারিছ আহমেদ ও তোফায়েল আহমেদ (জোসেফ) নিজেদের নামের পাশাপাশি বাবা-মায়ের নামও পরিবর্তন করেছেন। হারিছ আহমেদ তার নাম পরিবর্তন করে হয়েছেন মোহাম্মদ হাসান। আর জোসেফ নাম পরিবর্তন করে হয়েছেন তানভীর আহমেদ তানজীল। তাদের এনআইডির তথ্য পরিবর্তনে আজিজ আহমেদ সুপারিশ করেন বলে অভিযোগ ওঠে।
এদিকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আত্মস্বীকৃতি খুনি রিসালদার মোসলেম উদ্দিনের সন্তানদের এনআইডিতে পিতার নাম পরিবর্তনের বিষয়ে ইসি সচিব বলেন, ‘বঙ্গবন্ধু হত্যাকাণ্ডের পরে বিভিন্ন নামে তিনি কিন্তু আত্মগোপনে ছিলেন। বিভিন্ন নাম ধারণ করেছেন বলে আমাদের তদন্তে বেরিয়ে এসেছে। কোথায় কোথায় তিনি ছিলেন, কী কী কাজে সেই নামগুলো ব্যবহার করেছেন, তার আত্মীয়-স্বজন এটা কোথায় কোথায় ব্যবহার করেছেন; সব তথ্য নিয়ে আসার প্রক্রিয়া চলছে। তদন্ত কমিটি এ নিয়ে রাত-দিন পরিশ্রম করছে। পুরোদমে একজন যুগ্ম সচিবের নেতৃত্বে তদন্ত কমিটি কাজ করছে।’
সম্প্রতি অনুষ্ঠিত নারায়ণগঞ্জের কাঞ্চন, বরিশালের গৌরনদী ও জামালপুরের মেলান্দহ পৌরসভার নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতিতে খুশি জানিয়ে শফিউল আজিম বলেন, ‘তিন পৌরসভায় ইভিএমে ভোট হয়েছে। এর মধ্যে কাঞ্চনে ৭২ দশমিক ১, গৌরনদীতে ৪২ দশমিক ৩ ও মেলান্দহে ৬৯ দশমিক ৪৩ শতাংশ ভোট পড়েছে। এতেই বোঝা যায় ভোটারদের অংশগ্রহণ বেড়েছে।’
এ সময় ইসির অতিরিক্ত সচিব অশোক কুমার দেবনাথ উপস্থিত ছিলেন।
