একটা সময় ওয়ানডে বিশ্বকাপ ছিল তুমুল জনপ্রিয়। এক মাস ভক্তরা বুদ হয়ে থাকতেন টুর্নামেন্টটি ঘিরে। ছোটো দলগুলি কখনও কখনও চমক দেখাত বড় দলের বিপক্ষে। তবে সেই প্রতিযোগিতার জনপ্রিয়তায় এখন ভাটা পড়েছে। জনপ্রিয়তার শীর্ষে উঠে গেছে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ। ওয়ার্ল্ড ক্রিকেটার্স অ্যাসোসিয়েশনের (ডব্লিউসিএ) সাম্প্রতিক এক জরিপে উঠে এসেছে এই তথ্য।
২০১৯ সালে ৮৫ শতাংশ খেলোয়াড় ৫০ ওভারের বিশ্বকাপকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করেছিলেন, মাত্র ১৫ শতাংশ ছিলেন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের পক্ষে। তবে ৫ বছরের ব্যবধানে সেই সংখ্যায় এসেছে নাটকীয় পরিবর্তন। ২০২৪ সালের জরিপ শেষে ওয়ানডে বিশ্বকাপকে ৫০ শতাংশ শীর্ষ আসর মনে করলেও ৩৫ শতাংশ এখন টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপকে বেছে নিয়েছেন।
মূলত ক্রিকেটের একটি নতুন প্রজন্মের আগমনের মাধ্যমে এসেছে এই পরিবর্তন। ২৬ বছরের কমবয়সী খেলোয়াড়দের ক্ষেত্রে টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের প্রতি ঝোঁক উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এই বয়সী ক্রিকেটারদের ৪১ শতাংশই ৫০ ওভারের বিশ্বকাপের চেয়ে কুড়ি ওভারের সংস্করণকে পছন্দ করেন। ফলে ওয়ানডে বিশ্বকাপের প্রতি ঝোঁক এসে নেমেছে ৪৯ শতাংশে।
সব মিলিয়ে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের জনপ্রিয়তা বেড়েছে। ২০১৯ সালে ৮২ শতাংশ খেলোয়াড় টেস্ট ক্রিকেটকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরম্যাট হিসেবে দেখলেও ২০২৪ সালে সেই সংখ্যা কমে দাঁড়িয়েছে ৪৮ শতাংশে। এদিকে ৩০ শতাংশ খেলোয়াড় এখন টি-টোয়েন্টিকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফরম্যাট বলে মনে করেন।
১৩টি দেশের প্রায় ৩৩০ জন পেশাদার খেলোয়াড়ের সঙ্গে কথা বলে ডব্লিউসিএ’র জরিপ চালানো দলটি। যাদের বেশিরভাগই ছিলেন বর্তমান আন্তর্জাতিক ক্রিকেটার। যেখানে ভারত, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তানের খেলোয়াড়দের সঙ্গে কথা বলা হয়নি।
টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের এই সংস্করণে, ভারত ও পাকিস্তানের মধ্যে বহুল প্রত্যাশিত লড়াইটি কেবল ভারতেই ২৫৬ মিলিয়ন ঘন্টা দেখা হয়েছে, যা টি-টোয়েন্টির ক্রমবর্ধমান জনপ্রিয়তা এবং গুরুত্বকে তুলে ধরে। সবাই যেমন ভাবছে, টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলোয়াড় ও সমর্থক উভয়ের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। যা আন্তর্জাতিক ক্রিকেটের ভবিষ্যতকে রূপদান করতে চলেছে।
এদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও ওয়েস্ট ইন্ডিজে চলমান টি-টোয়েন্টি বিশ্বকাপের আসর শেষ হবে আজ শনিবার। বার্বাডোজে বাংলাদেশ সময় রাত সাড়ে ৮টায় ফাইনালে ভারতের মুখোমুখি হবে দক্ষিণ আফ্রিকা।
