পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ ও তার স্ত্রী-সন্তানের নামে থাকা সম্পদের হিসাব দাখিলের জন্য নোটিস দিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এ ছাড়া জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সদস্য মো. মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিস দিয়েছে সংস্থাটি। গতকাল মঙ্গলবার এ নোটিস জারি করা হয়েছে। দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন বিষয়টি সাংবাদিকদের নিশ্চিত করেছেন।
দুদক সচিব বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে বেনজীর আহমেদ, তার স্ত্রী জীশান মীর্জা, বড় মেয়ে ফারহীন রিশতা বিনতে বেনজীর ও মেজো মেয়ে তাহসীন রাইসা বিনতে বেনজীরের নামে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের প্রাথমিক তথ্য-প্রমাণ পাওয়া গেছে। তাদের নামে ও বেনামে দেশ-বিদেশে আরও সম্পদ রয়েছে বলে তথ্য রয়েছে। এ কারণে দুদক তাদের সম্পদ বিবরণী দাখিলের জন্য পৃথক নোটিস জারি করেছে।
দুদকের তথ্যমতে, অবসরে যাওয়া পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীরের ও তার পরিবারের ব্যাংক হিসাবের লেনদেনের তথ্য চেয়ে গত ২৪ এপ্রিল বাংলাদেশ ব্যাংকের গোয়েন্দা ইউনিটে চিঠি পাঠায় দুদক। পরদিন ২৫ এপ্রিল স্থাবর ও অবস্থাবর সম্পদের তথ্য চেয়ে রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (রাজউক), গাজীপুর উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, রিয়েল এস্টেট অ্যান্ড হাউজিং অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (রিহ্যাব), সিটি করপোরেশন, ভূমি অফিস, রেজিস্ট্রি অফিস, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডসহ বিভিন্ন দপ্তরে চিঠি দেওয়া হয়।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালতের আদেশে এখন পর্যন্ত বেনজীর ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ৬৯৭ বিঘা জমি, ১৯টি কোম্পানির শেয়ার, ঢাকায় ১২টি ফ্ল্যাট, ৩০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র, ৩৩টি ব্যাংক হিসাব এবং তিনটি শেয়ার ব্যবসার বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট (বিও অ্যাকাউন্ট) জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
গত ২৮ মে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য বেনজীর ও তার স্ত্রী-সন্তানকে নোটিস দেওয়া হয়েছে। নোটিসে বেনজীরকে ৬ জুন এবং তার স্ত্রী ও সন্তানকে ৯ জুন দুদকে হাজির হতে বলা হয়। পরে সময় বাড়ালেও তারা হাজির হননি।
দুদকের তথ্যমতে, চলতি বছর ৩১ মার্চ বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের বিষয়ে একটি জাতীয় দৈনিকে প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। পরে আরও কয়েকটি গণমাধ্যমে এ সংবাদ প্রকাশিত হয়। এরপর কমিশন গত ১৮ এপ্রিল বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগ অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগটি অনুসন্ধান করে প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দুদকের উপপরিচালক মো. হাফিজুল ইসলামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করা হয়। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন সহকারী পরিচালক নিয়ামুল হাসান গাজী এবং জয়নাল আবেদীন।
মতিউর ও তার পরিবারের সদস্যদের সম্পদের নোটিস : আলোচিত এনবিআর সদস্য বর্তমানে অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগে সংযুক্ত মতিউর, তার প্রথম স্ত্রী নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চেয়ারম্যান লায়লা কানিজ (লাকী), প্রথম পক্ষের সন্তান আহমেদ তৌফিকুর রহমান (অর্ণব) ও ফারজানা রহমান (ঈপ্সিতা) এবং দ্বিতীয় স্ত্রী শাম্মী আখতারের (শিবলী) সম্পদ বিবরণী দাখিলের নোটিস দিয়েছে দুদক। দুদক সচিব খোরশেদা ইয়াসমীন এ বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
দুদকের অনুসন্ধানে মতিউর ও তার স্বজনদের নামে অন্তত ৬৫ বিঘা (২ হাজার ১৪৫ শতাংশ) জমি, আটটি ফ্ল্যাট, দুটি রিসোর্ট ও পিকনিক স্পট এবং তিনটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানের তথ্য পাওয়া গেছে। এর মধ্যে তার প্রথম স্ত্রী লায়লা কানিজের নামে ঢাকা, গাজীপুর, নরসিংদী, যশোর ও নাটোরে মোট ৮৪৮ দশমিক ৩৩ শতাংশ (২৫ দশমিক ৭০ বিঘা) জমি রয়েছে। আর ঢাকাতেই তার নামে চারটি ফ্ল্যাট রয়েছে। অভিযোগের সুষ্ঠু অনুসন্ধানের স্বার্থে মতিউর রহমান ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে থাকা ব্যাংক হিসাব, মোবাইল ফোনে আর্থিক সেবার (এমএফএস) হিসাব ও শেয়ারবাজারের বেনিফিশিয়ারি ওনার্স অ্যাকাউন্ট (বিও) হিসাব জব্দ করা হয়েছে। গত ২৪ জুন মতিউর ও তার প্রথম পক্ষের স্ত্রী ও সন্তানের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা দিয়েছে আদালত।
