লিবিয়ায় দুই ভাইকে জিম্মি, মুক্তিপণ নিতে এসে গ্রেপ্তার ২

আপডেট : ০৩ জুলাই ২০২৪, ০২:২৭ এএম

বগুড়ার দুপচাঁচিয়ার দুই ভাই পাপ্পু খন্দকার ও সাঈদ খন্দকার স্বপ্ন দেখেছিলেন লিবিয়ায় গিয়ে ভালো বেতনে চাকরি করার। এজন্য দালালদের ১১ লাখ টাকা দিয়েছিলেন তারা। তাদের লিবিয়ায় হাসপাতালে ভালো বেতনে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন দালালরা। এরপর একে একে দুই ভাইকে লিবিয়ায় পাঠান তারা। তবে, দুই ভাইয়ের ভাগ্যে চাকরি জোটেনি। উল্টো আটকে রেখে তাদের ওপর ভয়াবহ নির্যাতন চালান বাংলাদেশি মুক্তিপণ আদায়কারী চক্রের সদস্যরা। গত ৮ জুন মুক্তিপণ আদায় চক্রের বগুড়ায় অবস্থানরত দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর লিবিয়া থেকে অপহরণের শিকার সাঈদ খন্দকারকে মুক্ত করে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়।

আরেক অপহৃত পাপ্পু খন্দকারের জন্য গত সোমবার মুক্তিপণ নিতে এসে চক্রের আরও দুই সদস্য গ্রেপ্তার হন। এরপর পাপ্পু খন্দকারকেও অপহরণকারী চক্রের কবল থেকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়। গতকাল মঙ্গলবার বগুড়ার পুলিশ সুপারের কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব তথ্য জানান জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (পুলিশ সুপার পদে পদোন্নতিপ্রাপ্ত) স্নিগ্ধ আখতার।

তিনি বলেন, দুপচাঁচিয়ার দুই ভাই পাপ্পু খন্দকার ও সাঈদ খন্দকারকে ভালো বেতনে লিবিয়ায় চাকরি দেওয়ার প্রলোভন দেখায় উপজেলা সদরের বাসস্ট্যান্ড এলাকার উজ্জল হোসেন। তার কথামতো ১১ লাখ টাকা দিলে গত বছরের ১২ ডিসেম্বর পাপ্পু খন্দকারকে এবং চলতি বছরের ১৭ জানুয়ারি সাঈদ খন্দকারকে লিবিয়ায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়। লিবিয়ায় অবস্থানরত উজ্জলের পূর্বপরিচিত সাব্বির হোসেনের ওই দুজনকে লিবিয়ার হাসপাতালে চাকরি পাইয়ে দেওয়ার কথা ছিল। লিবিয়ায় পৌঁছানোর পর দুই ভাইকে কোনো চাকরি না দিয়ে বসিয়ে রাখেন সাব্বির। পরে চাকরির ব্যবস্থা হয়েছে বলে গত ২৫ মার্চ তাদের আলাদা দুই শহরে নিয়ে আটকে রাখেন। এরপর তাদের মাধ্যমে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে ১০ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়। টাকা না দিলে দুই ভাইকে মানব পাচারকারী চক্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার হুমকি দেয় চক্রটি। এ ঘটনায় ৮ জুন মামলা করার পরপরই গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) অভিযান চালিয়ে উজ্জল হোসেন (৩৫) ও সফাত মণ্ডল (৩২) নামে দুজনকে আটক করে। তাদের আটকের পর সাঈদ খন্দকারকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়। গত ২৩ জুন সাঈদকে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। তবে ওই চক্রের হাতে আটক অন্য ভাইয়ের কোনো সন্ধান মিলছিল না। সম্প্রতি অপহরণকারী চক্র পাপ্পু খন্দকারকে মুক্তি দিতে চার লাখ টাকা দাবি করে যোগাযোগ করে। টাকা পাঠানোর জন্য তারা ডাচ্-বাংলা ব্যাংকের একটি ব্যাংক হিসাব নম্বর দেয়। অপহৃতের পরিবার সেখানে এক লাখ টাকা জমা দেওয়ার পর অবশিষ্ট টাকা দিতে চাপ দেয় ওই চক্র। তখন পুলিশের পরামর্শে হাতেনাতে নগদ টাকা দিতে চায় পাপ্পুর পরিবার। গত সোমবার সন্ধ্যায় সেই টাকা নিতে এলে পুলিশের হাতে আটক হয় জেলার সোনাতলা উপজেলার পাপ্পু ও শিপলু। পরে তাদের মাধ্যমে যোগাযোগ করে অপহৃত পাপ্পুকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়া হয়।

স্নিগ্ধ আখতার জানান, গত ৮ জুন দুপচাঁচিয়া থানায় মানব পাচার দমন ও প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন অপহৃতদের ভাই রাব্বী খন্দকার।

এদিকে ভিডিওকলে লিবিয়ায় থাকা পাপ্পু জানান, তিনি দ্রুত দেশে ফিরে আসতে চান। পুলিশের সহায়তায় এখন নিরাপদে আছেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার স্নিগ্ধ আখতার বলেন, দ্রুতই পাপ্পু খন্দকারকে দেশে ফিরিয়ে আনতে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

বগুড়ার গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মোস্তাফিজ হাসান জানান, গত সোমবার আটক করা পাপ্পু ও শিপলুকে আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রিমান্ডের আবেদন করা হয়েছে।

জেলা কর্মসংস্থান ও জনশক্তি অফিস বগুড়ার সহকারী পরিচালক মো. আতিকুর রহমান বলেন, ‘বৈধ রিক্রুটিং এজেন্সির মাধ্যমে বিদেশে যেতে হবে, জেনে-বুঝে বিদেশে গেলে অর্থ ও সম্মান দুই-ই মিলবে।’ বিদেশে গমনে ইচ্ছুকদের তিনি সরকারি প্রতিষ্ঠানের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানান।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত