নতুন অধ্যায়ের দ্বারপ্রান্তে যুক্তরাজ্য

আপডেট : ০৪ জুলাই ২০২৪, ১২:৫৭ এএম

যুক্তরাজ্যের সাধারণ নির্বাচন আজ। ক্ষমতাসীন কনজারভেটিভ পার্টি ও লেবার পার্টির মধ্যেই মূলত লড়াই হতে যাচ্ছে সেখানে। তবে ১৪ বছর ধরে ক্ষমতায় থাকা কনজারভেটিভ পার্টির এবার ভরাডুবি হতে যাচ্ছে বলে আভাস দিয়েছে বিভিন্ন জরিপ সংস্থা। বেশিরভাগ জরিপেই বলা হয়েছে, আগাম নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক যে চমক দেখাতে চেয়েছিলেন ভোটের পরে হয়তো তিনিই চমকে যাবেন। দলের ভরাডুবির পাশাপাশি নিজের আসনেই ধরাশায়ী হতে পারেন সুনাক। দেশটির সংবাদমাধ্যমগুলো বলছে, ব্রিটিশ ভোটাররা দেশে ১৪ বছরের কনজারভেটিভ শাসনের অবসান দেখার জন্য একরকম প্রস্তুত।

বিবিসি এক প্রতিবেদনে বলেছে, ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী ঋষি সুনাক তার নানা চ্যালেঞ্জে ভরা প্রধানমন্ত্রিত্বের আমলে সবচেয়ে বড় জুয়াটি খেলেছেন আগাম নির্বাচন ডেকে। কিন্তু জরিপগুলোতে কনজারভেটিভ দলের সমর্থনে যে ধস দেখা গেছে, তার মোড় ঘুরাতে সুনাককে হিমশিম খেতে হয়েছে এবং তিনি পরাজয়ের দ্বারপ্রান্তে আছেন এমনটিই দেখা যাচ্ছে। অথচ লেবার নেতা স্টারমারকে তেমন কোনো ক্যারিশমা এবং তারকাগুণ ছাড়াই বিপুল জয়ের দ্বারপ্রান্তে থাকতে দেখা যাচ্ছে। তার দলের আগের সব প্রধানমন্ত্রী মার্গারেট থ্যাচার কিংবা টনি ব্লেয়ারের মতো ক্যারিশম্যাটিক ব্যক্তিত্ব স্টারমারের না থাকলেও তিনি লেবার পার্টিকে নির্বাচনে জয় পাওয়ার যোগ্য করে গড়ে তুলেছেন। কনজারভেটিভ পার্টির প্রধানমন্ত্রীর নানা ব্যর্থতার প্রেক্ষাপটে লেবার দলকে ওপরে টেনে তুলেছেন তিনি। ভোটারদের বারবারই সেসব ব্যর্থতা স্মরণ করিয়ে দিয়েছেন তিনি। গত শনিবারই এক সমাবেশে ভোটারদের তিনি বলেছেন, তারা কী করেছে সেটি ভুলে যাবেন না। পার্টিগেট কেলেঙ্কারি ভুলে যাবেন না, কভিড কন্ট্রাক্ট, মিথ্যাচার, ঘুষের কথা ভুলে যাবেন না। এভাবে বেশকিছু মানুষের ভোট দলে টেনেছেন স্টারমার। লেবার নেতা করবিনের আমলে দলে যে ইহুদি বিদ্বেষের শেকড় ছিল তাও তিনি উপড়ে ফেলেছেন।

বর্তমান জরিপগুলো তার দলের জয়ের যে পূর্বাভাস দিচ্ছে, তা যদি সত্য হয় তাহলে শেষ পর্যন্ত কনজারভেটিভ দলের ১৪ বছরের শাসনের যবনিকাপাত ঘটেই যাবে। আর সে জায়গায় শুরু হবে সাবেক ব্যারিস্টার কিয়ার স্টারমারের মধ্যবাম দলের নেতৃত্বাধীন সরকারের নতুন অধ্যায়।

নির্বাচনী প্রচারে স্টারমার ভোটারদের বলছেন, আপনারা পরিবর্তন চাইলে লেবারকে ভোট দিন। যুক্তরাজ্যের ভবিষ্যৎ আপনার হাতে। আমরা পরিস্থিতির মোড় ঘোরাতে পারি। আমরা ব্রিটেনকে পুনর্গঠন করতে পারি। প্রধানমন্ত্রী সুনাক নির্বাচন ঘোষণার পরপরই স্টারমার বলেছিলেন, এই ভোট দেশকে ভালো ভবিষ্যতের দিকে টেনে নেওয়ার একটি সুযোগ।

ইংল্যান্ডের নটিংহ্যাম বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজনৈতিক ইতিহাসের অধ্যাপক স্টিভেন ফিল্ডিং বলেন, স্টারমারের উদ্দেশ্য হচ্ছে, মানুষ যাতে লেবারের বিরুদ্ধে ভোট দেওয়ার কোনো কারণ খুঁজে না পায় সেই চেষ্টা করা এবং তিনি এতে খুবই সফল হয়েছেন।

অন্যদিকে কনজারভেটিভরা (টোরি) ভোটারদের ‘সিøপ ওয়াক’ না করা এবং লেবারকে ‘বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠ’ ভোট না দেওয়ার আহ্বান জানাচ্ছে। টোরিদের এই পাল্টা প্রচারের মুখে নির্বাচনের আগ মুহূর্তে দলটি মানুষের সমর্থন টানার জন্য খুব একটা ঔদ্ধত্য দেখাতে চাচ্ছে না।

সে কারণে লেবার পার্টি প্রকাশ্যে সতর্কভাবে পা ফেলছে। কিন্তু দলের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ভেতরে ভেতরে বেশ আশাবাদী, এমনকি তারা উদ্দীপনাও বোধ করছেন। যদিও গত ছয় সপ্তাহে যে কোনো গড়বড় হয়নি তা নয়। আবার কিয়ার স্টারমার রাজনৈতিকভাবে এবং ব্যক্তিগতভাবে খুব বেশি সতর্ক বলে অভিযোগও উঠেছে। তবে পার্টির নেতারা তারপরও সন্তুষ্ট যে, লেবার পার্টির প্রচারের যে মূল চালিকাশক্তি সেটি গতিপথ থেকে ছিটকে পড়েনি। তারা জরিপে এগিয়ে থাকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য ধরে রাখতে পেরেছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত