দীর্ঘদিন ধরেই যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমাদের বিরুদ্ধে গিয়ে নতুন একটা বিশ্বব্যবস্থার স্বপ্ন দেখে চীন-রাশিয়া। ইতিমধ্যে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন বিভিন্ন জোট ও সংস্থার বিকল্পও তৈরি করেছে তারা। তবে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারি মাসে ইউক্রেনে হামলা করার পর থেকে অনেকটা স্বয়ংক্রিয়ভাবেই বিশ্বরাজনীতিতে নতুন মেরূকরণ শুরু হয়েছে। রাজনৈতিক, সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও মজবুত হয়েছে মস্কো ও বেইজিংয়ের মধ্যে। এবার তাদের লক্ষ্য দুদেশের সম্পর্ক ও তাদের অভিন্ন লক্ষ্যকে আরও বাস্তবায়নের দিকে নিয়ে যাওয়া। এই লক্ষ্যেই কাজাখস্তানের আস্তানায় শুরু হয়েছে দুদিনের সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশন (এসসিও) আঞ্চলিক সম্মেলন। গত বুধবার শুরু হওয়া এ সম্মেলনে যোগ দিয়েছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন ও চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং।
বিশ্লেষকরা বলছেন, এসসিওর সদস্য দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বাড়ানোর বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে চীন-রাশিয়া। দুদেশের শীর্ষ নেতাই এসসিও সম্মেলনকে মধ্য এশিয়ায় তাদের কৌশলগত স্বার্থ বৃদ্ধির গুরুত্বপূর্ণ ফোরাম হিসেবে দেখেন। এছাড়া তারা মনে করেন, নতুন বিশ্বব্যবস্থা তৈরির যে দুটি মূল খুঁটি তার একটি হলো এসসিও এবং অন্যটি ব্রিকস। তাই এই সম্মেলন চীন-রাশিয়ার জন্য অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বার্তা সংস্থা এএফপি বলছে, বুধবার শুরু হওয়া এই সম্মেলনে যোগ দিতে সেদিনই আস্তানায় পৌঁছান রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন। আর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং সেখানে যান আরও একদিন আগে, গত মঙ্গলবার। ২০০১ সালে ইউরেশীয় রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ও প্রতিরক্ষা সংস্থা হিসেবে রাশিয়া ও চীনের উদ্যোগে গঠিত ৯ সদস্যের এই জোটের স্থায়ী সদস্য দেশগুলো হলো কাজাখস্তান, ভারত, চীন, কিরগিজস্তান, পাকিস্তান, রাশিয়া, তাজিকিস্তান, উজবেকিস্তান ও গত বছরে যুক্ত হওয়া ইরান। এ বছর এতে সদস্য হিসেবে যুক্ত হতে পারে বেলারুশ।
সম্মেলন উপলক্ষে গত বুধবার ক্রেমলিনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এবারের সম্মেলনে এসসিও সদস্য দেশগুলোর নেতারা পরস্পরের মধ্যে বহুমুখী সহযোগিতা আরও গভীর করার ও এসসিওর কার্যক্রম উন্নত করতে আলোচনা করবেন। এর বাইরে রুশ প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিন দেশগুলোর নেতাদের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করবেন। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসেরও দুদিনের শীর্ষ সম্মেলনে ভাষণ দেওয়ার কথা।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাও নিং চলতি সপ্তাহের শুরুতে বলেছিলেন, বেইজিং বিশ্বাস করে, এসসিও শীর্ষ সম্মেলন সব পক্ষের মধ্যে ঐকমত্য গড়ে তুলতে এবং সদস্য দেশগুলোর নিরাপত্তা, স্থিতিশীলতা ও উন্নয়নে অবদান রাখতে সহায়তা করবে। অবশ্য এএফপি বলছে, রাশিয়া ও চীনের মধ্যে সীমাহীন কৌশলগত সম্পর্কের ঘোষণা এলেও মধ্য এশিয়ায় স্বার্থ ও প্রভাব নিয়ে দুদেশের মধ্যে প্রতিযোগিতাও রয়েছে।
কাজাখস্তান, কিরগিজস্তান, তাজিকিস্তান, তুর্কমেনিস্তান ও উজবেকিস্তান এই পাঁচ দেশের সঙ্গে মস্কোর ঐতিহ্যগত সম্পর্ক থাকলেও এসব দেশে চীনের অর্থনৈতিক শক্তি ও বিনিয়োগ বাড়ছে।
