গাইবান্ধায় করতোয়া,ঘাঘট, ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বেড়েই চলেছে। গত দুইদিন থেকে ঘাঘট ও ব্রহ্মপুত্র নদের পানি বিপৎসীমা উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। অবিরাম বৃষ্টি ও উজানের ঢলে নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে। অবনতি হচ্ছে বন্যা পরিস্থিতির। দুর্গত অঞ্চলের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হচ্ছেন। তাদের জন্য ১৮১ টি আশ্রয়কেন্দ্র খোলা হয়েছে। অনেকই আশ্রয়কেন্দ্রে যেতে পারেননি।
তারা খাবার ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন। বিশেষ করে, দুর্গম চরাঞ্চলে ও নদী তীরবর্তী এলাকায় পরিস্থিতি আরও বেশি করুণ।
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কার্যালয়ের তথ্যমতে, জেলার চার উপজেলায় ২৭ টি ইউনিয়নে বন্যাদুর্গত পরিবারের সংখ্যা ২৮ হাজারেও বেশি। প্রাকৃতিক দুর্যোগে বিতরণের জন্য ৪০০ মেট্টিক টন (জিআর) চাল ও নগদ ১০ লাখ টাকার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার ৫০ টি শুকনো খাবারের প্যাকেট ও ১৬৫ মেট্টিক টন চাল চার উপজেলায় বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (৫ জুলাই) গাইবান্ধা পাউবোর নিয়ন্ত্রণ কক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, গত ২৪ ঘন্টায় ব্রহ্মপুত্র নদের পানি ফুলছড়ি উপজেলার তিস্তামুখঘাট পয়েন্টে ২৫ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৮৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সঙ্গে ঘাঘট নদীর পানি জেলা শহরের নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৩৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। করতোয়ার পানি গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার চকরহিমাপুর পয়েন্টে ২৩ সেন্টিমিটার বেড়েছে।
অপরদিকে তিস্তার পানি কমতে শুরু করেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় তিস্তার পানি সুন্দরগঞ্জ উপজেলা সংলগ্ন রংপুরের কাউনিয়া পয়েন্টে ২৬ সেন্টিমিটার কমে বিপৎসীমার ৬২ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল নয়টা থেকে আজ শুক্রবার সকাল ৯ টা পর্যন্ত গাইবান্ধায় নদ-নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়েছে।
ফুলছড়ি উপজলোর গুপ্তমনি চর এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন (৫০) জানান, গতকাল থেকে ঘরের ভেতর তিন থেকে চার ফুট পানি। নলকূপ ও শৌচাগার ডুবে গেছে । পানিতে ভেসে গেছে কয়েকটি হাঁস-মুরগি । গরু ও ছাগল নিয়ে মহা বিপদের মধ্যে আছেন । বুধবার সকাল থেকে আজ বৃস্পতিবার সকাল পর্যন্ত তারা শুকনা খাবার খেয়ে আছেন।
গাইবান্ধা পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) নির্বাহী প্রকৌশলী হাফিজুল হক জানিয়েছেন, নদ-নদীর পানি বাড়লেও আপাতত বড় বন্যার সম্ভাবনা নেই। ব্রহ্মপুত্র নদে পানি বাড়ার কারণ উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল। এ পানি ঘাঘট নদীতে প্রবেশ করেছে। একই কারণে করতোয়ার পানিও বৃদ্ধি পাচ্ছে। বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে বৃষ্টির কারণে বাঁধের বিভিন্ন এলাকায় রেইনকাট হয়েছে। সেগুলো মেরামত করা হচ্ছে।
গাইবান্ধা জেলা প্রশাসক কাজী নাহিদ রসুলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার কার্যক্রমের জন্য নৌকা, স্পীড বোট প্রস্তুত রয়েছে। জেলা এবং উপজেলায় নিয়ন্ত্রণ কক্ষ খোলা হয়েছে। ইউনিয়ন ভিত্তিক বন্যা আশ্রয়কেন্দ্র প্রস্তুত রয়েছে। প্রতিটি উপজেলায় মেডিকেল টিম, কৃষি টিম, স্বেচ্ছাসেবক টিম এবং লাইভস্টোক টিম গঠন করা হয়েছে।
