সর্বজনীন পেনশনের ‘প্রত্যয় স্কিম’ বাতিলের দাবিতে আন্দোলন করে যাচ্ছেন পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা। শিক্ষকদের ক্লাস-পরীক্ষা বর্জন করে টানা আন্দোলনে কার্যত অচল দেশের ৩৫ পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের ন্যায় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরাও আন্দোলনে নেমেছেন। আন্দোলনরত শিক্ষকদের একজন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতির সাবেক সভাপতি ও বর্তমান সামাজিক বিজ্ঞান অনুষদের ডিন অধ্যাপক ড. আবুল হোসেন।
সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালুর পরেই ড. আবুল হোসেন সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থার সুবিধা নিয়ে লেখালেখি করেন। ড. আবুল হোসেনের একটি পত্রিকায় প্রকাশিত লেখার শিরোনাম ছিলো ‘সর্বজনীন পেনশন ব্যবস্থা চালু: বঙ্গবন্ধু প্রতিশ্রুত কল্যাণ রাষ্ট্রের অভিমুখে অগ্রযাত্রার মাইলফল’। এ লেখায় তিনি পেনশন ব্যবস্থার নানা সুবিধার কথা তুলে ধরেন। কিন্তু নতুন পেনশন ব্যবস্থার ‘প্রত্যয় স্কিমে’ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকদের যুক্ত করার পরেই বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আন্দোলন শুরু হয়। বাদ যায়নি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ও। এক সময়ে পেনশনের পক্ষে লেখা শিক্ষককে হঠাৎ আন্দোলনের প্রথম সারিতে দেখা যায়। তারপরেই ওই শিক্ষকের লেখাটি স্যোশাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। বিষয়টি নিয়ে স্যোশাল মিডিয়ায় নানা সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
এ বিষয় জানতে চাইলে আবুল হোসেন বলেন, ২০২২ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পেনশন সংক্রান্ত একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন। সেখানে তিনি ক্লিয়ারলি বলেছিলেন, যারা সরকারি চাকরির বাহিরে আছেন তাদের জন্য একটা পেনশন ব্যবস্থা চালু করতে চাই। যাদের জন্য এই ব্যবস্থা তারা হলেন রিক্সাচালক,মুড়ি বিক্রেতা, শ্রমজীবী মানে সাধারন মানুষগুলো। যখন তাদের কাজ থাকে না, ভিক্ষাবৃত্তি বা অন্য কাজ করে জীবিকা চালাতে হয় মূলত তাদের জন্যই সর্বজনীন একটা পেনশনের ব্যবস্থা করে।
তিনি আরও বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন, সরকারি চাকুরিজীবিরা যেহেতু পেনশন পাচ্ছে তারা এখানে যুক্ত হবে না। তাদের বাহিরে যারা আছে তাদের নিয়ে সর্বজনীন পেনশন স্কিম চালু হবে। তখন আমরা সাধুবাদ জানাই। এটা একটা ভালো প্রস্তাব। দেশ এগিয়ে যাচ্ছে, বৃদ্ধদের জন্য ভাতা সরকারের উন্নত ফর্মুলা। এর পরে দুইবছর শিক্ষকদেরকে না জানিয়ে প্রত্যয় নামে একটা স্কিম চালু করে আমাদের অন্তর্ভুক্ত করেন সরকার। প্রত্যয় স্কিম নিয়ে যদি আমাদের সঙ্গে আলোচনা করতো তাহলে যে পরিমাণ ভুল তারা করেছে তা করতো না। অথবা জানি না তাদের উদ্দেশ্য কি। আমরা একটা করে স্টেপ অনুযায়ী প্রথমে কর্মবিরতি এখন সর্বাত্মক আন্দোলন করছি। কেন করছেন এই প্রশ্নের উত্তরে তিনি বলেন, প্রত্যয় স্কিমের মাধ্যমে শিক্ষকদের সুযোগ সুবিধা অনেক কমে যাচ্ছে। মানে এটা অনেকটা ডিপিএসের মতো, তুমি টাকা দিবা, রেখে দিবে তারপর সরকার আমাদের পেনশন দিবে।
তিনি আরও বলেন, ৬৫ তে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকরা অবসরে যাবেন, অফিসাররা ৬২ আর কর্মচারীরা ৬০ বছর বয়সে অবসরে যাবেন, এই সংক্রান্ত কোনো কথা প্রত্যয় স্কিমে নেই। আমরা যে সুবিধাটুকু পাই যেমন ইদ বোনাস, পহেলা বৈশাখে একটা বোনাস , তাছাড়া ৫% যে ইনক্রিমেন্টটুকু পাই সেটার কোনো কথা এই প্রত্যায় স্কিমে উল্লেখ নেই। সার্বিকভাবে আমরা অর্থনৈতিক লসের মধ্যে পড়েছি।
এছাড়া ক্লাস পরীক্ষা বন্ধ রেখে আন্দোলন প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘হ্যাঁ শিক্ষার্থীরা বলছে তারা ক্ষতির সম্মুখীন। কিন্তু প্রত্যয় স্কিম চালু হবে ৩০ জুনের পর থেকে। এর আগে আমরা যারা জয়েন করেছি তারা তো প্রত্যয় স্কিমের অন্তর্ভুক্ত না। নতুন যারা জয়েন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হবেন,তারা ব্যাপক ক্ষতির সম্মুখীন হবে। আমাদের জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশে বাংলাদেশ ব্যাংক তারাও স্বায়ত্তশাসিত কিন্তু তারা আন্দোলন করছে না, আমরা করছি কেন? কারণ ভবিষ্যৎ প্রজন্মে যদি সুযোগ সুবিধা আরও কমে যায় তাহলে ক্লাসে ফাস্ট হওয়া শিক্ষার্থী আর বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হতে চাইবে না।
সর্বজনীন পেনশন স্কিমের পক্ষে লেখালেখি করে এখন কেন বিপক্ষে আন্দোলন করছেনএই প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী যখন বক্তব্য দিলেন তারপরই আমি লেখাটা লিখি। প্রধানমন্ত্রী বলেছিলেন যারা এইখানে আছে তারা সর্বজনীন পেনশনে অন্তর্ভুক্ত হবে না তাহলে আমাদের সাথে কোনো আলোচনা না করে প্রত্যয় নালে একটা স্কিম আমাদের উপর চাপিয়ে দিচ্ছে। এইটা তো প্রধানমন্ত্রীর বক্তব্যে ছিলো না। আমাদের প্রত্যয়ে এনে অনেক সুযোগ সুবিধা বাদ দেওয়া হচ্ছে। আমার প্রকাশিত ওই লেখা আর এখনকার অবস্থান সাংঘর্ষিক না। তখন ওইরকম পেনশন ব্যবস্থার প্রতি সাধুবাদ জানিয়েছি কিন্তু এখন আমাদের না জানিয়ে প্রত্যয়ে অন্তর্ভুক্ত করা। এই বিষয়ে এখনো প্রধানমন্ত্রী কিছু বলেনি,সরকারি আমলারা এইটাকে নিয়ন্ত্রণ করছে। ২০২২ সালে যা বলেছি এখনও তাই বলছি। মানুষ আমার আর্টিকেলটা পড়ছে না আবার প্রধানমন্ত্রী বক্তব্যটাও শুনছে না, ট্রল শুরু করেছে।
