দুই দফা দাবিতে আন্দোলনরত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সঙ্গে বিদ্যুৎ বিভাগের বৈঠক ফলপ্রসূ হয়নি দাবি করে কর্মবিরতি অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন সমিতির নেতারা। সমস্যা সমাধানের জন্য প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা।
এর আগে গতকাল শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর আব্দুল গণি রোডে বিদ্যুৎ ভবনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে বৈঠকে বসে সারা দেশে ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৪০ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারীদের প্রতিনিধিরা।
এ সময় বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান, বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড আরইবি চেয়ারম্যান অজয় কুমার চক্রবর্তীসহ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড ও পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিকে একীভূত করে অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন এবং চুক্তিভিত্তিক কর্মচারীদের নিয়মিতকরণের দুই দফা দাবিতে কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।
বৈঠক শেষে আন্দোলনরত পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির এজিএম প্রকৌশলী রাজন কুমার দাস দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৈঠকে আমরা আমাদের দুই দফা দাবি উত্থাপনের পাশাপাশি আরইবির নানা অনিয়ম-দুর্নীতি তুলে ধরি। কিন্তু সচিব মহোদয় আমাদের কোনো কথা না শুনে আরইবির পক্ষে কথা বলেছেন। বৈঠকে কোনো সমাধান না হওয়ায় আমরা আশাহত। আমাদের আন্দোলন চলবে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর হস্তক্ষেপ কামনা করছি।’
আরইবি ও এর অধীন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতিগুলো একীভূত করে অভিন্ন চাকরিবিধি বাস্তবায়ন এবং সব চুক্তিভিত্তিক ও অনিয়মিত কর্মচারীদের চাকরি নিয়মিত করার দাবিতে ১ জুলাই থেকে কর্মবিরতিতে নেমেছেন পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির প্রায় ৪০ হাজার কর্মী।
অনির্দিষ্টকালের এই কর্মবিরতিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎসেবা ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা করছে গ্রাহকরা। তবে আন্দোলনকারীরা বলছেন, বিশেষ ব্যবস্থায় জরুরি বিদ্যুৎসেবা চালু রেখেই কর্মবিরতি পালন করছেন তারা।
আন্দোলনকারীদের মুখপাত্র রাজন কুমার দাস জানান, আরইবির স্বেচ্ছাচারিতা, অদক্ষতা, দুর্নীতি এবং সমিতির কর্মীদের ওপর শোষণ, নিপীড়নের কারণে টেকসই বিদ্যুৎ ব্যবস্থা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। নানা বৈষম্য এবং দমন-নিপীড়নের কারণে সমিতির কর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেওয়ায় গত ৫ মে থেকে বিদ্যুৎ সরবরাহ ঠিক রেখে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি শুরু করেন তারা। একপর্যায়ে বিদ্যুৎ বিভাগের সিনিয়র সচিব (রুটিন দায়িত্ব) এবং মন্ত্রণালয় ও আরইবির কর্মকর্তারা আন্দোলনকারীদের সঙ্গে গত ১০ মে বৈঠক করেন। ওই সভায় আরইবির প্রতি সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের কোনো আস্থা না থাকার কথা বলা হয়।
রাজন কুমার আরও জানান, সেদিনের আলোচনার একপর্যায়ে তাদের দাবি মেনে নেওয়ার আশ্বাসে দুই শর্তে কর্মবিরতি স্থগিত করেন তারা। শর্ত দুটি হলো এই ইস্যুতে বরখাস্ত, সংযুক্ত, স্ট্যান্ড রিলিজকৃত কর্মকর্তা-কর্মচারীদের অব্যাহতি দিয়ে স্ব স্ব কর্মস্থলে পুনর্বহাল করা এবং ১৫ দিনের মধ্যে দাবি-দাওয়া নিয়ে আলোচনা সভার আয়োজন করা। সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে পরবর্তী সাত দিনের মধ্যে নিজেদের ন্যায্য দাবি-দাওয়া উল্লেখ করে দেশের ৮০টি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির ৩৭ হাজার ৫৪২ জন কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাক্ষর সংবলিত চিঠি বিদ্যুৎ বিভাগসহ আরইবিতে জমা দেওয়া হয়। এরপর প্রায় দুই মাস পার হলেও প্রস্তাবনার আলোকে কোনো ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। সাময়িক বরখাস্ত দুজন এবং স্ট্যান্ড রিলিজ থাকা দুজন কর্মকর্তাকে এখনো পর্যন্ত অব্যাহতি দিয়ে নিজ কর্মস্থলে পুনর্বহাল করা হয়নি। বিষয়টি নিয়ে আন্দোলনকারীরা একাধিকবার আরইবির চেয়ারম্যানের শরণাপন্ন হলেও তিনি দেখা করেননি বা কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং এই ইস্যুতে প্রতিটি পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি থেকে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা বা হয়রানির উদ্দেশে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের তালিকা সংগ্রহ করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সামগ্রিক বিষয়ে সুরাহা না হওয়ায় সমিতির কর্মীরা আবারও কর্মবিরতিতে যেতে বাধ্য হয়েছেন।
ভুক্তভোগীদের ভাষ্য, আরইবিকে একাধিকবার লিখিতভাবে জানানো হলেও সমিতির নিয়ন্ত্রকের ভূমিকায় থাকা আরইবি কোনো সমাধান না করে উল্টো দমন, নিপীড়ন, শোষণের অংশ হিসেবে সমিতির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তসহ নানা ধরনের হয়রানি করা হচ্ছে।
