টেলিগ্রাম বেশি ব্যবহার করছেন সাইবার অপরাধীরা

আপডেট : ০৭ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৫ এএম

সাইবার অপরাধীদের টেলিগ্রামের ব্যবহার বাড়ছে। রিপোর্ট অনুযায়ী, ২০২৪ সালে প্রতারকদের মধ্যে টেলিগ্রামের ব্যবহার বেড়েছে ৫৩ শতাংশ। যা উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে ব্যবহারকারীদের মনে। অনলাইন ব্যবহারকারীর সংখ্যা যত বাড়ছে ততই মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে সাইবার প্রতারণার ঘটনা। বিভিন্ন সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাপের মাধ্যমে নিরীহ ব্যবহারকারীদের টার্গেট করা হচ্ছে। নানা কৌশলে প্রতারণা করা হচ্ছে তাদের সঙ্গে। সাইবার সিকিউরিটি ফার্ম কধংঢ়বৎংশ-এর ফুটপ্রিন্ট ইনটেলিজেন্স রিপোর্ট অনুযায়ী, সাইবার প্রতারণার জন্য টেলিগ্রামকে বেছে নিচ্ছেন অপরাধীরা। হ্যাকিং, স্প্যামিং ইত্যাদি কাজকর্মের জন্য টেলিগ্রামে নানা গ্রুপ তৈরি করে সেখানে অ্যাক্টিভ থাকছে অপরাধীরা। সেসব গ্রুপ ফ্রড স্কিম, ফাঁস হওয়া ডেটাবেস আলোচনা করা হচ্ছে।

সিকিউরিটি ফার্মের মতে, ২০২৪ সালের গত দু’মাসে এসব ডেটার পরিমাণ ৫৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, যা বেশ উদ্বেগজনক বলে মনে করা হচ্ছে। বর্তমানে ইনস্ট্যান্ট মেসেজিং অ্যাপ হিসেবে হোয়াটসঅ্যাপের পরই রয়েছে টেলিগ্রাম। এই প্ল্যাটফর্মে ছবি শেয়ারিং, ভিডিও ভয়েস কলসহ একাধিক সুবিধা রয়েছে।

টেলিগ্রামে এবার এআই ফিচার, কো-পাইলটের সুবিধা দিতে চলেছে মাইক্রোসফট। টেলিগ্রামে সাইবার অপরাধ বৃদ্ধি পাওয়ার  পেছনে একাধিক কারণ দেখছেন বিশেষজ্ঞরা। তারা মনে করছেন, সবার প্রথম টেলিগ্রাম ৯০ কোটি মাসিক ইউজারের একটি বিরাট ইউজার বেস তৈরি করে। তারপর নিরাপদ ও প্রাইভেট প্ল্যাটফর্ম হিসেবে নিজেদের মার্কেট করেছে। টেলিগ্রামের দাবি, ইউজারের ব্যক্তিগত তথ্য সংগ্রহ করা হয় না। কিন্তু বাস্তব সম্পূর্ণ উল্টো।

এসব প্রতিশ্রুতি দিয়ে সাইবার অপরাধীদের চোখে ধুলো দেওয়ার চেষ্টা করা হলেও, টেলিগ্রাম সেই প্রচেষ্টায় অনেকটাই ব্যর্থ বলে মনে করছেন সাইবার ফার্মটি। কারণ এই প্ল্যাটফর্মে চ্যানেল খোলা খুবই সহজ এবং সেখানে নানাভাবে ভুয়া তথ্য ছড়ানো হয়। পাশাপাশি ভুয়া লিঙ্ক পাঠিয়ে ইউজারদের জালিয়াতি করা হয়।

ডার্ক ওয়েব নিয়ে সাইবার অপরাধীদের নানা দাবিতেই টেলিগ্রামের প্রসঙ্গ থাকে। শুধু সাইবার অপরাধ নয়, হ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপগুলোর জন্য প্রিয় প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে এই টেলিগ্রাম। হ্যাক্টিভিস্ট গ্রুপগুলোর সক্রিয়তা বাড়ছে টেলিগ্রামে। যা নিয়ে ভীষণ উদ্বিগ্ন সাধারণ ইউজাররা। কারণ ভারতে টেলিগ্রামের অ্যাক্টিভ ইউজার সংখ্যা বেশ ভালো। টেলিগ্রাম ইউজারদের এ ক্ষেত্রে সতর্ক থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। যে কোনো তথ্য বা লিঙ্ক সত্যি ভেবে তাতে ক্লিক করার আগে দশবার ভাবুন। এর ফলে ফোনে ম্যালওয়্যার ভাইরাস প্রবেশ করতে পারে। নানা কৌশলে হ্যাক হতে পারে স্মার্টফোন ও ব্যাঙ্কিং তথ্য। তাই ভুয়া কিংবা সন্দেহ হলে টেলিগ্রাম গ্রুপ এড়িয়ে চলার পরামর্শ দিয়েছেন সাইবার বিশেষজ্ঞরা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত