অবশেষে পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদের রূপগঞ্জের আনন্দ হাউজিংয়ে থাকা প্রায় ২৪ কাঠার ডুপ্লেক্স বাড়িটি জিম্মায় নিয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলা প্রশাসন। গতকাল শনিবার দুপুরে বাড়িটি জব্দ করা হয়েছে।
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা মামলায় আদালতের আদেশে বিভিন্ন স্থানে বেনজীরের সম্পদ জব্দ করার প্রক্রিয়া চলছে। তারই অংশ হিসেবে রূপগঞ্জের এই বাড়িটিও জব্দ করা হলো।
বাড়িটি ঘিরে জবরদখলের শিকার হওয়া স্থানীয় জমির মালিক ও বাসিন্দাদের মাঝে স্বস্তি ফিরেছে। তারা সরকারকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
পুলিশের সাবেক আইজি বেনজীর আহমেদ দেশের নানা স্থানে অবৈধ স্থাপনা গড়েছেন। নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের দক্ষিণবাগ চোরাবো মোড়ে ডুপ্লেক্স বাড়িও করেছেন তিনি। আনন্দ হাউজিং নামে পুলিশ কর্মকর্তাদের গড়া আবাসিক এলাকায় ২৪ কাঠা জমিতে গড়ে তুলেছেন এই বাড়ি। বেনজীর যেদিন আসতেন এ বাড়িতে আর যতক্ষণ অবস্থান করতেন, বন্ধ রাখা হতো এখানকার রাস্তা। পুলিশের পাহারা থাকত।
স্থানীয় বাসিন্দা আব্দুল হামিদ বলেন, রূপগঞ্জের মুশুরী-ইছাপুরা সড়কের পাশে গুতিয়াবো, মোগলান, দক্ষিণবাগ, জাঙ্গীর মৌজা নিয়ে আনন্দ হাউজিং সোসাইটির অবস্থান। এখানে লেকের পাশে লাল রঙের ডুপ্লেক্স বাড়ি নজর কাড়ে যে কারও।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আট বছর আগে এলাকার প্রয়াত প্রেমানন্দ সরকারের সন্তানদের কাছ থেকে ১ কোটি ৮৩ লাখ টাকায় ৫৫ শতাংশ জায়গা কেনেন বেনজীর আহমেদ। পরে বছর চারেক আগে এই জমিতে ওই বাড়ি করেন তিনি। তার ওই বাড়ি ঘিরে স্থানীয় মানুষদের মধ্যে তৈরি হয়েছে নানা গল্প, রহস্য।
অভিযোগ রয়েছে, একটি জাতীয় দৈনিকে ‘বেনজীরের আলাদিনের চেরাগ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশের পর বাড়ির তত্ত্বাবধায়ক আবদুল্লাহ ভেতরে থাকা মালামাল সরিয়ে ফেলেছেন।
স্থানীয় লোকজন বলছেন, বেনজীরের সঙ্গে মাঝেমধ্যে ওই বাড়িতে আসতেন চেনা-অচেনা সংগীতশিল্পী ও নাটক-সিনেমার অভিনেতা-অভিনেত্রীরা। বাড়িতে গানের আসরও বসত। গানের উচ্চ শব্দে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটত তাদের। কিন্তু কখনোই ভয়ে কিছু বলতে পারেননি তারা।
প্রয়াত প্রেমানন্দ সরকারের ছেলে রামধন সরকার বলেন, তারা চার ভাই পৈতৃক সূত্রে ৫৫ শতাংশ জলাশয় পেয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে না কিনেই আনন্দ হাউজিংয়ের নামে বালু দিয়ে জলাশয়টি ভরাট করা হয়। জমি ভরাটের বছর চারেক পর লোক মারফতে এক কোটি টাকা বিঘা দরে জমিটুকু বিক্রি করেন তারা। তবে টাকা পেয়েই বিক্রির কথা জানালেন জমি বিক্রেতা।
দুদকের নারায়ণগঞ্জ সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপপরিচলাক মঈনুল হাসান রওশনী বলেন, গতকাল দুপুরে রূপগঞ্জের আনন্দ হাউজিং সোসাইটি এলাকায় অবস্থিত ওই বাড়িতে আদালতের নির্দেশে সাইনবোর্ড টানিয়ে দিয়েছে জেলা প্রশাসন।
তিনি আরও বলেন, বাড়িটি তালাবদ্ধ থাকায় তাৎক্ষণিক ভেতরে প্রবেশ করা যায়নি। তবে একটি কমিটি করে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ সদস্য মোরশেদ আলমের হেফাজতে আগামী তিন দিনের জন্য রাখা হয়েছে। পরে এর ভেতরে থাকা মালামালসহ সবকিছুর জব্দ তালিকা করা হবে।
দুদকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত ১২ জুন আদালত তৃতীয় দফায় বেনজীরের আরও বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দের আদেশ দেয়। সেই তালিকায় এ ডুপ্লেক্স বাড়িটিও রয়েছে। এরপর বাড়িটি দেখভালের জন্য জেলা প্রশাসককে রিসিভার নিয়োগ দেয় আদালত। বাংলোটির মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা।
