রোববার, ১৪ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

স্ট্রেচারে শুয়ে হাইকোর্টে

দেয়ালচাপায় পা হারানো শিশু রাসেল ক্ষতিপূরণ চায়

আপডেট : ০৮ জুলাই ২০২৪, ০২:৪৫ এএম

স্ট্রেচারে সোজা হয়ে শুয়ে আছে ৯ বছরের শিশু রাসেল। পরনে সাদা রঙের টি-শার্ট। গাঢ় লাল রঙের একটি গামছায় বুক পর্যন্ত ঢাকা। একটু পরপর ব্যথায় কুঁকড়ে যাচ্ছিল শিশুটি। কোমরের নিচ থেকে ছোপ ছোপ রক্ত। দেয়ালচাপায় কাটা পড়েছে রাসেলের ডান পা। বাঁ পায়ের অবস্থাও ভালো নয়। অসহায় বাবা-মা প্রতিকার চাইতে এ অবস্থায় তাকে নিয়ে এসেছেন হাইকোর্টে। গতকাল রবিবার দুপুরে হাইকোর্টে এমন দৃশ্যের দেখা মেলে। রাসেলের জন্য ক্ষতিপূরণ চেয়ে করা হয়েছে রিট আবেদন। বেলা ২টার পর বিচারপতি কেএম কামরুল কাদের ও বিচারপতি খিজির হায়াতের হাইকোর্ট বেঞ্চে আবেদনটি শুনানির জন্য ওঠে। প্রায় আধা ঘণ্টা শুনানিকালে এজলাসের ভেতরেই স্ট্রেচারে শুয়েছিল রাসেল। আদালত রিট আবেদনটি যথাযথ না হওয়ায় এটি অধিকতরভাবে প্রস্তুত করে আনতে আইনজীবী মোহাম্মদ সালাহ্উদ্দিন সিকদারকে নির্দেশ দেয়। রাসেলের বাবা দেলোয়ার হোসেন দুলাল নির্মাণশ্রমিকের কাজ করেন।

ঘটনাটি গত ১১ মে রাজধানীর ডেমরার কোনাপাড়া এলাকার আবদুল বারেক মজুমদার সড়কের একটি গলিতে। শিশু রাসেল বাবা-মায়ের সঙ্গে ওই এলাকার একটি ভাড়াবাড়িতে থাকে। ওই দিন ২৪৭/ ২ বাড়ির বাউন্ডারির ভেতর মাটি কাটার ভেকু মেশিনের (এক্সকাভেটর) ধাক্কায় নির্মাণাধীন একটি বাড়ির দেয়ালে চাপা পড়ে রাসেলসহ কয়েকজন। ঘটনাস্থলে টুটুল নামে এক পথচারী নিহত হন। আরও এক শিশু আহত হয়। দুই পায়ে গুরুতর আঘাত পাওয়া রাসেলকে প্রথমে নিয়ে যাওয়া হয় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে। সেখান থেকে আগারগাঁও পঙ্গু হাসপাতালে। শিশুটির প্রাণ বাঁচাতে চিকিৎসকরা রাসেলের ডান পা কেটে ফেলেন।

শুনানিকালে আদালত আহত শিশুটিকে কেন এজলাসে আনা হয়েছে, অ্যাডভোকেট সালাহ্উদ্দিন সিকদারের উদ্দেশ্যে এমন প্রশ্ন তোলে। আইনজীবী আদালতের উদ্দেশ্যে বলেন, শিশুটির বাবা, মা অসহায়। তারা সন্তানের কষ্টে আবেগে হাইকোর্টের দারস্থ হয়েছেন। আবেদনে ক্ষতিপূরণের অঙ্ক উল্লেখ না করাসহ আবেদনটি যথাযথ হয়নি বলে এটিকে অধিকতর সংশোধন করে নিয়ে আসতে বলে হাইকোর্ট।

রিটকারীর আইনজীবী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ঘটনাটি খুবই মর্মান্তিক। শিশুটি দরিদ্র পরিবারের। মাদ্রাসায় পড়ে। যার বাসার দেয়াল ধসে এ দুর্ঘটনা, তিনি কেবল ৬০ হাজার টাকা দিয়ে দায় সেরেছেন। কিন্তু এই শিশুর চিকিৎসা ও ভবিষ্যতের নিশ্চয়তা নেই। আগামী সপ্তাহে আবেদনটি সংশোধন করে আবারও উপস্থাপন করা হবে।

রাসেলের বাবা দেলোয়ার হোসেন দুলাল বলেন, ‘আমরা গরিব মানুষ। ছেলেডার জীবনডা চোখের সামনে নষ্ট হইতেছে। দিনরাত ব্যথায় কাঁদে। লাখ টাকার ওপরে খরচ হয়ে গেছে। ঋণ আর ধারদেনা করে চিকিৎসা করাইতেছি। আর পারতেছি না, তাই হাইকোর্টে আসছি।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত