ব্যবসার শুরুতে কী কী লাগে

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৪, ১২:০৪ এএম

হাজার রকমের ব্যবসা রয়েছে দেশে। একদিকে রয়েছে অতিক্ষুদ্র, ক্ষুদ্র, মাঝারি, বড় আকারের ব্যবসা। অন্যদিকে রয়েছে উৎপাদনশীল, ট্রেডিং ব্যবসা। কেউ আবার বিদেশ থেকে পণ্য আমদানি করে দেশীয় বাজারে তা বিক্রি করেন। আবার কেউ দেশে উৎপাদন করে বিদেশের বাজারে রপ্তানি করেন। কী ব্যবসা শুরু করতে চান, তা ব্যবসা যিনি করবেন, তাকেই ঠিক করতে হবে।

টাকার সংস্থান

উদ্যোক্তা ছোট হোক বা বড় হোক, যে ধরনের ব্যবসার পরিকল্পনা করছেন, তা বাস্তবায়ন করতে গেলে কী পরিমাণ মূলধন লাগবে, তা আগেই তাকে ঠিক করতে হবে। তার পরের চিন্তা টাকা আসবে কোথা থেকে। নিজের কাছে থাকলে তো কথাই নেই। না থাকলে কতটা নিজের, কতটা ব্যাংকঋণ, কতটা গয়না বিক্রি, কতটা আত্মীয়স্বজন থেকে ধার পাবেন তার ছক করে নিতে হবে। নতুন কোনো ব্যবসা করতে গেলে সবার আগে লাগে ধৈর্য। ধৈর্য ধরে লেগে থাকতে হবে। ধৈর্য হারালেই ব্যবসা শেষ।

লাভক্ষতির হিসাব জানা জরুরি

ব্যবসা কিন্তু ব্যবসাই। এর প্রথম ও শেষ কথা হলো মুনাফা। আগে যাচাই করতে হবে মুনাফাটা হবে কি না। আর সে জন্যই অঙ্কটা দরকার। আপনি যদি কাপড়ের ব্যবসায় নামেন, হিসাব করুন আগে কাপড় কোথা থেকে আনবেন। কাপড়  আনার পরিবহন খরচ এবং কর্মচারীর মজুরিও মাথায় রাখুন। পুঁজি বিনিয়োগের একটা খরচ আছে। আছে বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ বিল ইত্যাদি। সব খরচ হিসাব করে মুনাফা কত হবে জেনে নিন। ব্যবসা করতে গেলে এর ভিতর-বাহির জানা থাকাটা আগে জরুরি। কোথায় কাঁচামাল কম দামে কোথায় পাওয়া যায়, কোথায় বিক্রি করলে মুনাফা বেশি পাওয়া যায় ইত্যাদি।

লাইসেন্স বাধ্যতামূলক

ব্যবসার অবস্থান অনুযায়ী ইউনিয়ন পরিষদ, পৌরসভা বা সিটি করপোরেশন থেকে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে। যদি অংশীদারি ব্যবসা হয় বা লিমিটেড কোম্পানি হয়, তাহলে নিবন্ধন নিতে হবে যৌথ মূলধন কোম্পানি ও ফার্মসমূহের নিবন্ধকের কার্যালয় (আরজেএসসি) থেকে। আমদানি বা রপ্তানি করতে চাইলে নিবন্ধন নিতে হবে প্রধান আমদানি রপ্তানি নিয়ন্ত্রকের কার্যালয় থেকে। কোম্পানি করতে গেলেই আরজেএসসির নিবন্ধন লাগবে। তার আগে অবশ্য নামের ছাড়পত্রের আবেদন করতে হয়।

ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব

ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাব থাকলেও ব্যাংকে ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব খোলা জরুরি। ব্যবসা বড় করতে চাইলে ব্যাংক থেকে ঋণ নিতে হয়, ব্যাংক তখন লেনদেনের পরিমাণ ও প্রবণতাটা দেখে। এটা ভালো হলে ব্যাংকঋণ দেয়। ব্যাংক হিসাব খোলার ক্ষেত্রে এখন অবশ্য বিআইএন লাগে। বিআইএন হচ্ছে ব্যবসা শনাক্তকরণ নম্বর (বিজনেস আইডেনটিফিকেশন নম্বর)। ব্যবসায়িক ব্যাংক হিসাব না থাকলে কেউ ব্যবসা করতে পারবেন না। ব্যবসার শুরু থেকেই ব্যাংকে লেনদেন করা ভালো।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত