ফেনীতে এনামুলের কোটি টাকার সম্পত্তির কি হবে?

আপডেট : ০৯ জুলাই ২০২৪, ১০:০০ পিএম

ফেনীর সোনাগাজীর গ্রামের বাড়িতে এনবিআর কর্মকর্তা মোহাম্মদ এনামুল হকের কোটি টাকার সম্পত্তির খোঁজ মিলেছে। ঢাকার বসুন্ধরায় একটি ৯ তলা বাড়ি ও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তিনটি ফ্ল্যাট এবং একাধিক বাণিজ্যিক স্পেস জব্দ করা হলেও তার ফেনীর সম্পত্তি নিয়ে কি হবে তা নিয়ে রয়ে গেছে ধোঁয়াশা।

এনামুল সিলেটের কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনার হিসেবে কর্মরত। জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে দুদকের মামলার পর আলোচনায় আসেন এনবিআরের এই কর্মকর্তা। তার পৈত্রিক বাড়ি ফেনীর সদর ইউনিয়নের মনগাজী হলেও নতুন করে বাড়ি করেন সোনাগাজী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের তুলাতলী এলাকায়।

এই এলাকায় তার চারটি বাড়ি রয়েছে। এর মধ্যে একটি ৫তলা, দুটি তিনতলা বাড়ি। বাকিটি দোতলা। কমিশনার হওয়ার পর মাঝে মধ্যে পারিবারিক অনুষ্ঠানে এলেও বেশিক্ষণ এলাকায় অবস্থান না করায় অনেকে তার সম্পর্কে জানেন না।

এনামুলের বিপুল পরিমাণ সম্পদ জব্দ করতে আদেশ দিয়েছেন ঢাকা মহানগরের জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ মোহাম্মদ আসসামছ জগলুল হোসেন। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুলাই) দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি এ আদেশ দেন।

মঙ্গলবার সরেজমিনে গেলে স্থানীয়রা জানান, তাদের এলাকায় চারপাশে বাউন্ডারি দেওয়া চারটি বহুতল ভবন রয়েছে এনামুলের। এর  মধ্যে তৃতীয় তলা বিশিষ্ট নুরে জান্নাত ভবনটি মেয়েকে দিয়েছেন এনামুল। সেখানে বাসা ভাড়ার খোঁজে গেলে বাড়ির কেয়ারটেকার জানান, এ সব সম্পত্তির দেখাশোনা করেন এনামুলের ভগ্নিপতি শরিফ। কিছুদিন আগে তাকে ৩০ লাখ টাকা দামের গাড়ি উপহার দেওয়া হয়েছে।

এ ছাড়াও সোনাগাজীর হাজী স্ট্যান্ড এলাকায় ১২০ শতকের বাউন্ডারি দেওয়া জায়গা রয়েছে। যে সম্পত্তির বর্তমান মূল্য প্রায় ১০ কোটি টাকা। স্থানীয়রা মনে করেন, সরকারি চাকরি করে এত টাকার জমি ক্রয় অবৈধ উপায় ছাড়া সম্ভব নয়। হঠাৎ এত সব সম্পত্তির মালিক বনে যাওয়া নিয়ে এলাকার মানুষের মাঝে বিরূপ প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে।

এনামুলের মা ছালেয়া বেগমের ভাষ্য, সোনাগাজীর চরখোন্দকার মৌজার ১২০ শতাংশ সম্পত্তি ছাড়াও থাক খোয়াজ লামছিতে আছে ১২০ শতাংশ সম্পত্তি। যেটিতে ১০-১২টি সুবিশাল দীঘি রয়েছে। চট্টগ্রামে বাড়ি করেছে, সেটা সাড়ে ৩ কোটি টাকা বিক্রি করে এগুলো করছে।
 
এনামুলের সম্পত্তি দেখাশোনা করেন তারই ভগ্নিপতি শরিফ। এ বিষয়ে জানার জন্য সরেজমিনে গেলে শরীফ কথা বলতে রাজি হননি।

এ নিয়ে এনামুলের প্রতিবেশী ও সোনাগাজী পৌরসভার সাবেক কাউন্সিলর নুরুনবী লিটন বলেন, এনাম ভাই আমার প্রতিবেশী। ভালো জানাশোনা আমাদের নাই। এলাকায় আসা-যাওয়া না করার ফলে তার সাথে কারও সে রকম যোগাযোগ নাই। উনার সম্পত্তি আসলে কীভাবে, কার মাধ্যমে কিনেছেন নির্দিষ্ট করে বলা আমার পক্ষে কঠিন। তবে দুই-চার বছরের মধ্যে উনি ২-৪টি বাড়ি নির্মাণ করেছেন। সেটি উনার ভগ্নিপতিকে দেখাশোনা করতে দেখেছি। উনার বিভিন্ন জায়গায় যে অঢেল সম্পত্তি কীভাবে কার মাধ্যমে কিনেছেন তা আমি জানি না।

দুদকের দায়ের করা ৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় এনবিআর কর্মকর্তা এনামুলের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত। গত বছরের ৩১ জুলাই এনামুলের বিরুদ্ধে ৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকা অবৈধ আয়ের অভিযোগে মামলাটি করেন দুদকের সহকারী পরিচালক মাহবুবুল আলম। চলতি বছরের ৫ জুন আদালত এ মামলায় কমিশনারেট অব কাস্টমস ভ্যালুয়েশন অ্যান্ড ইন্টারনাল অডিটের সাবেক কমিশনার এনামুলের সব স্থাবর সম্পত্তি জব্দ করার নির্দেশ দেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত