সাবেক হুইপ সামশুলের চেয়ে স্ত্রীর অবৈধ সম্পদ বেশি

আপডেট : ১০ মার্চ ২০২৬, ০২:৫৫ পিএম

চট্টগ্রাম-১২ (পটিয়া) আসনের সাবেক এমপি ও হুইপ সামশুল হক চৌধুরীর চেয়ে তার স্ত্রী কামরুন নাহার চৌধুরীর অবৈধ সম্পদের পরিমাণ এক কোটি ৬৭ লাখ ১৭ হাজার ৬০৮ টাকা বেশি বলে জানিয়েছেন দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক)।  তিনি ও তার স্ত্রী-কন্যার বিরুদ্ধে মোট প্রায় ১৫ কোটি টাকার অবৈধ সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়।

দুদকের প্রতিবেদনে বলা হয়, সাবেক হুইপ সামশুলের নামে মোট ৬ কোটি ৮৮ লাখ ৭ হাজার ৯৫৭ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ পাওয়া গেছে। বিপরীতে তার গ্রহণযোগ্য ও বৈধ আয় পাওয়া গেছে ৪ কোটি ৯০ লাখ ১৩ হাজার ৯৫৬ টাকা। পারিবারিক ও অন্যান্য ব্যয় বাদে তার প্রকৃত সঞ্চয় হওয়ার কথা ছিল ১ কোটি ৭৯ লাখ ৪৯ হাজার ৩৬২ টাকা।

অর্থাৎ তার আয়ের চেয়ে ৫ কোটি ৮ লাখ ৫৮ হাজার ৫৯৫ টাকার বেশি সম্পদ পাওয়া গেছে যার কোনো বৈধ উৎস মেলেনি। সামশুল হক চৌধুরী সরকারি ক্ষমতার অপব্যবহার করে অসৎ উদ্দেশ্যে এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ অর্জন ও ভোগ-দখলে রেখেছেন। তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশনের ২০০৪ ও ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের মামলার সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানা গেছে।

তাছাড়া সামশুল হক চৌধুরীর স্ত্রী ও কন্যার নামেও বিপুল পরিমাণ অবৈধ সম্পদের হদিস মিলেছে। দুদকের অনুসন্ধানে স্ত্রী কামরুন নাহার চৌধুরীর নামে ৭ কোটি ২১ লাখ ৫৪ হাজার ৭৮৬ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। অথচ তার বৈধ আয় ও সঞ্চয় অনুযায়ী সম্পদের পরিমাণ হওয়ার কথা ছিল মাত্র ৪৫ লাখ ৭৮ হাজার ৫৮৩ টাকা। ফলে তার নামে ৬ কোটি ৭৫ লাখ ৭৬ হাজার ২০৩ টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জনের তথ্য মিলেছে। অর্থাৎ সাবেক হুইপ সামশুল হক চৌধুরী থেকে তার স্ত্রী কামরুন নাহারের ১ কোটি ৬৭ লাখ ১৭ হাজার ৬০৮ টাকার অবৈধ সম্পদ বেশি।

এদিকে, তার কন্যা তাকলিমা নাছরিন চৌধুরীর নামে ৩ কোটি ১ লাখ ৮১ হাজার ৯৬৯ টাকার সম্পদ পাওয়া গেছে। যেখানে অসঙ্গতিপূর্ণ বা অবৈধ সম্পদের পরিমাণ ২ কোটি ৯৪ লাখ ৮৮ হাজার ৭২৩ টাকা দুদকের কাছে প্রাথমিকভাবে মনে হয়েছে।

দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) চট্টগ্রামের উপপরিচালক রিয়াজ উদ্দীন জানান, সামশুল হক চৌধুরীর বিরুদ্ধে

জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের অভিযোগে নিয়মিত মামলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের বিরুদ্ধে আরও কিছু প্রক্রিয়া শেষে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত