চলমান কোটাবিরোধী আন্দোলন ও পেনশন স্কিম নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষকদের আন্দোলনে বিএনপির সমর্থনের পেছনে দুরভিসন্ধি আছে বলে দাবি করেছেন আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের। এ ব্যাপারে নেতাকর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশনা দিয়ে তিনি বলেন, ‘অরাজনৈতিক’ এ আন্দোলনে উসকানি দিয়ে সারা দেশে যাতে বিশৃঙ্খলা তৈরি করতে না পারে, সেটি খেয়াল রাখতে হবে।
গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর বঙ্গবন্ধু অ্যাভিনিউয়ে আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে যৌথসভার সূচনা বক্তব্যে ওবায়দুল কাদের এসব কথা বলেন।
ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ, ঢাকা জেলা আওয়ামী লীগ ও সহযোগী-ভ্রাতৃপ্রতিম সংগঠনের শীর্ষ নেতাদের নিয়ে এই যৌথসভা হয়েছে।
ওবায়দুল কাদের বলেন, ‘একটা ব্যাপারে আমাদের সতর্কতা, এটা অবশ্যই রিলেটেড বিষয়, অরাজনৈতিক আন্দোলন, শিক্ষকদের আন্দোলনও অরাজনৈতিক এবং শিক্ষার্থীদের আন্দোলনও অরাজনৈতিক। এই অরাজনৈতিক আন্দোলনে বিএনপি ও তাদের সমমনাদের রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। এই অশুভ মহলটি শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের উসকানি ও ইন্ধন দিয়ে যাতে সারা দেশে বিশৃঙ্খলার আবহ তৈরি করতে না পারে সেজন্য রাজধানী ও দেশে সর্বত্র সাবধান ও সতর্ক থাকতে হবে।’
বিএনপির প্রতি ইঙ্গিত করে আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক বলেন, ‘নিজেরা আন্দোলন করতে পারে না। ২০১৮ সালে কোটাবিরোধী আন্দোলনে ভর করেছিল। এবারও তারা নিজেরা আন্দোলনে ব্যর্থ, হেরে যাওয়ার ভয়ে নির্বাচনে যায়নি। এখন কোটা সংস্কার আন্দোলনের ওপর ভর করে সরকার হটানোর অভিসন্ধি-দুরভিসন্ধি বাস্তবায়ন করা তাদের লক্ষ্য। অশুভ শক্তির ব্যাপারে আমাদের সতর্ক পাহারায় থাকতে হবে।’
শোকের মাস আগস্টের দলীয় কর্মসূচি ঠিক করতে এই যৌথসভা আহ্বান করা হলেও সূচনা বক্তব্যের পর মাত্র ২০ মিনিট স্থায়ী হয় সভা। তবে শোকের মাসের কর্মসূচি নিয়ে তেমন কোনো আলোচনাই হয়নি দাবি করেন সভায় উপস্থিত থাকা দলের নেতারা।
সূচনা বক্তব্যে ছাত্রলীগকে সতর্কভাবে পরিস্থিতি মোকাবিলা করার নির্দেশনা দিয়ে কাদের বলেন, ‘কোনো অবস্থায় উসকানি দেওয়া যাবে না। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকেও নেত্রী নির্দেশ দিয়ে গেছেন তাদের পক্ষ থেকেও যাতে উসকানি না দেওয়া হয়।’ যৌথসভা শেষে শিক্ষকদের আন্দোলনের বিষয়ে সরকারের দৃষ্টি আছে উল্লেখ করে তিনি সাংবাদিকদের বলেন, ‘তাদের সঙ্গে আমাদের যোগাযোগ আছে। কিন্তু আনুষ্ঠানিক বৈঠক হয়নি। সেটা খুব বেশি জটিল সমস্যা নয়, সমাধানের অযোগ্য নয়। অচিরেই সেটাও সমাধান হয়ে যাবে।’ কোটাবিরোধী আন্দোলনকারীদেরও তিনি ধৈর্য ধরতে বলেন।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কামরুল ইসলাম, মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, দীপু মনি, সাংগঠনিক সম্পাদক বিএম মোজাম্মেল হক, এসএম কামাল হোসেন, অর্থ সম্পাদক ওয়াসিকা আয়শা খান, কৃষি সম্পাদক ফরিদুন্নাহার লাইলী, আন্তর্জাতিক সম্পাদক শাম্মী আহমেদ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি সম্পাদক আবদুস সবুর, উপ-দপ্তর সম্পাদক সায়েম খান প্রমুখ।
