সোমবার, ১৫ জুলাই ২০২৪, ৩০ আষাঢ় ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

রেলে খণ্ডিত ৫ লাশ হত্যা না দুর্ঘটনা এখনো অজানা

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৪, ০২:০৪ এএম

নরসিংদীর রায়পুরায় রেলপথে পড়ে থাকা খণ্ডিত পাঁচ মরদেহের পরিচয় শনাক্ত না হওয়ায় বেওয়ারিশ হিসেবে দাফন করেছে রেলওয়ে পুলিশ। গত সোমবার রাত ১২টার দিকে নরসিংদী সদর হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে নরসিংদী রেলস্টেশনসংলগ্ন রেলওয়ে কবরস্থানে মরদেহগুলো দাফন করা হয়।

এর আগে সোমবার সকালে রায়পুরা উপজেলার পলাশতলী ইউনিয়নের কমলপুর এলাকায় ঢাকা-চট্টগ্রাম-সিলেট রেলপথে রেললাইনের পাশে পড়ে থাকা পাঁচজনের খণ্ডিত মরদেহ উদ্ধার করে রেলওয়ে পুলিশ। এ ঘটনায় ভৈরব রেলওয়ে থানায় অপমৃত্যুর মামলা করা হয়েছে। সকাল সাড়ে ৮টার দিকে রেলপথের পাশে খণ্ডিত পাঁচটি মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয়রা। খবর পেয়ে রেলওয়ে পুলিশ, পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) এবং রায়পুরা ও জেলা পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল এসে নিহতদের মরদেহ উদ্ধারে কাজ শুরু করেন। নিহত সবাই পুরুষ। তাদের বয়স আনুমানিক ১৫ থেকে ২৫ বছরের মধ্যে হবে বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্র্তৃপক্ষ।

মরদেহগুলো কাদের তা শনাক্ত করতে ফিঙ্গারপ্রিন্ট (হাতের আঙুলের ছাপ) সংগ্রহ করেছে পিবিআই। তবে জাতীয় পরিচয়পত্রের সার্ভারে থাকা তথ্যের সঙ্গে ফিঙ্গারপ্রিন্টগুলো না মেলায় পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। এমনকি কোনো স্বজনও পরিচয় শনাক্ত করতে আসেনি। সব মরদেহ কাছাকাছি পড়ে থাকায় মৃত্যুর কারণ নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

এ ঘটনায় রায়পুরা উপজেলার মেথিকান্দা স্টেশনের স্টেশন মাস্টার আশরাফ আলী বাদী হয় ভৈরব রেলওয়ে থানায় অপমৃত্যুর মামলা করেছেন।

পুলিশের একাধিক কর্মকর্তা বলেন, পাঁচজন নিহতের ঘটনা নিয়ে ধোঁয়াশার সৃষ্টি হয়েছে। এর কারণ উদঘাটনে কাজ করছে পুলিশের একাধিক ইউনিট। কিন্তু এখনো এটি দুর্ঘটনা নাকি হত্যাকাণ্ড, তা কেউ নিশ্চিত করতে পারেনি।

নিহতদের মধ্যে দুজনের বয়স আনুমানিক ১৮ বছরের কম। বাকি তিনজনের বয়স যথাক্রমে আনুমানিক ২৫, ২৩ ও ২০ বছর। তাদের বেশভূষা দেখে পুলিশের ধারণা, তারা সবাই ছিন্নমূল ছিল।

তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো জানায়, সোমবার রাত ৩টা ৪৮ মিনিটে তূর্ণা এক্সপ্রেস, ভোর ৫ টা ২২ মিনিটে উপবন, ৫টা ৪৮ মিনিটে ঢাকা মেইল ও সাড়ে ৬টায় তিতাস ঢাকার উদ্দেশে মেথিকান্দা স্টেশন পার হয়েছে। এর মধ্যে কোনো ট্রেনের চালক বা পরিচালক দুর্ঘটনার কোনো রিপোর্ট করেননি। তদন্তসংশ্লিষ্টদের ধারণা, তূর্ণা এক্সপ্রেস অথবা উপবন ট্রেন থেকে এ ঘটনা ঘটেছে।

ঘটনাস্থলের পাশের অনেকের ধারণা, নিহতরা চলন্ত ট্রেনের ছাদ থেকে পড়ে ট্রেনে কাটা পড়েছে। তবে পুলিশ বলছে, ট্রেনের ছাদ থেকে পড়লে লাইনে কাটা পড়ার সুযোগ কম। আর একই সঙ্গে মাত্র ৫০ গজ এলাকায় সব লাশ পড়া অসম্ভব।

ঘটনাস্থল কমলপুরের একটি নির্জন স্থান। একপাশে জলাশয়ের সঙ্গে খাকচর দক্ষিণপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। অন্য পাশে নরসিংদী-রায়পুরা আঞ্চলিক সড়ক। এ সড়কে সিএনজিচালিত যানবাহন চলাচল করলেও ঘটনাস্থলে স্থানীয় লোকজনের তেমন চলাচল নেই। পাশে ঝোপঝাড়। দুই পাশে প্রায় আধা কিলোমিটারের মধ্যে কোনো বাড়িঘর বা দোকানপাটও নেই। ফলে ওই স্থানে প্রায়ই ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে।

এ কারণে পুলিশের কোনো কোনো কর্মকর্তা ধারণা করছেন, নিহতরা সবাই অপরাধ চক্রের সঙ্গে জড়িত। তারা কোনো অপরাধ সংঘটিত করার আগে রেললাইনে বসে মাদক সেবন করে। মাদকে বুঁদ হয়ে থাকায় ট্রেনে কাটা পড়ে থাকতে পারে। তবে নিহতদের সঙ্গে কোনো মানিব্যাগ, টাকা কিংবা মোবাইল ফোন পাওয়া যায়নি। এতে ঘটনাটি নিয়ে তদন্তকারীদের মধ্যে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে।

নরসিংদী রেলওয়ে পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই মো. শহীদুল্লাহ বলেন, ‘পিবিআই হাতের ছাপ সংগ্রহ করলেও তাদের পরিচয় শনাক্ত করতে পারেনি। ধারণা করা হচ্ছে, তাদের কোনো জাতীয় পরিচয়পত্র নেই। আমরা মরদেহগুলোর ডিএনএ ও ভিসেরা নমুনা সংগ্রহ করেছি। এগুলো ঢাকার মালিবাগে সিআইডির ল্যাবে পাঠানো হবে। ডিএনএ পরিচয় শনাক্ত করতে আর ভিসেরা প্রতিবেদনের মাধ্যমে তারা কোনো মাদক সেবন করেছিল কি না, তা শনাক্ত করা যাবে। এটি হত্যা না দুর্ঘটনা তা ময়নাতদন্তের রিপোর্ট আসলেই বলা যবে। এ ঘটনাটি খুবই গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত