বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই ২০২৪, ১০ শ্রাবণ ১৪৩১
দেশ রূপান্তর

তাহসানকে নিয়ে যা বললেন প্রিন্স মাহমুদ

আপডেট : ১০ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫০ পিএম

বিসিএস ও বিভিন্ন সরকারি নিয়োগ পরীক্ষায় একটি চক্র প্রশ্নফাঁস নিয়ে সম্প্রতি সংবাদটি প্রকাশের পর আলোচনায় আসেন সরকারি কর্ম কমিশনের চেয়ারম্যানের সাবেক গাড়িচালক সৈয়দ আবেদ আলী।  এদিকে সংগীতশিল্পী তাহসান খানের মা ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম পিএসসির চেয়ারম্যান থাকাকালীন তারও গাড়িচালক ছিলেন এই আবেদ আলী। ড. জিনাতুন নেসার সময়ও হয়েছিল প্রশ্ন ফাঁস কাণ্ড। ফলে তাহসানের মায়ের নামও উঠে আসছে।

গুঞ্জন ছড়িয়েছে মা জিনাতুন নেসার চেয়ারম্যান থাকাকালীন ২৪ তম বিসিএসে পররাষ্ট্র ক্যাডারে প্রথম হয়েছিলেন। কিন্তু সেই পরীক্ষা বাতিল হয়। পরবর্তী ভাইভা অনুষ্ঠিত হলে বাদ পড়েন তাহসান। এরইমধ্যে সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে গুঞ্জনটি।  তাহসানের নাম জড়াতেই নেটিজেনদের একাংশ কটাক্ষ করে যাচ্ছেন গায়ককে। যাচাই না করেই জনপ্রিয় এ গায়ককে নিয়ে আপত্তিজনক মন্তব্য করে যাচ্ছেন তারা। এবার বিষয়টি নিয়ে সরব হলেন জনপ্রিয় সুরকার ও সংগীত পরিচালক প্রিন্স মাহমুদ।

নিজের ফেসবুকে প্রিন্স লিখেছেন, তাহসানের নামে ছড়ানো খবরটি একেবারেই মিথ্যা, সম্পূর্ণ মিথ্যা। এসব খবর নজর অন্য দিকে সরিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্যই। তাহসানের বাবা মা দুইজনেই অত্যন্ত সৎ মানুষ। ছোটবেলা থেকে দেখেছি। সাধারণ সরকারি কর্মকর্তাদের বাচ্চাদের মতো বড় হয়েছে তাহসান। কোনোরকম বিলাসিতা দেখিনি। যা তাহসানের অর্জন সমস্তটা গানের জন্যই। 

তিনি আরও লেখেন, প্রকৃত অসৎদের ধামাচাপা দেয়ার জন্য এগুলো ছড়ানো হচ্ছে। তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি।

প্রিন্স মাহমুদ বলেন, একটু ভুল সংশোধন করে দেই। সবাই একটু যাচাই করে নিন শিল্পী তাহসান ও তার মাকে নিয়ে পোস্ট করার আগে। বাংল‌া‌দেশ পাব‌লিক সা‌র্ভিস ক‌মিশন (BPSC) এর প্রথম নারী ও ৮ম চেয়ারম‌্যান ড. জিনাতুন নেসা তাহমিদা বেগম যিনি সংগীত শিল্পী তাহসানের মা এবং আবেদ আলী (প্রশ্নপুরী) জিনাতুন নেসার ড্রাইভার ছি‌লেন।
সবাই আমরা এতটুকু জানি,বাকিটা একটু শুনেন।


  তিনি বলেন,  জিনাতুন নেসা ম্যাম ২০০২-২০০৭ সাল পর্যন্ত পিএসসির চেয়ারম্যান ছিলেন। আর প্রশ্ন ফাঁসের ঘটনা ঘটেছে ২০১২ থেকে মানে গত একযুগ বা ১২ বছর। তার গাড়ি চালাতো বলেই সে অপরাধী বিষয়টা কিন্তু এমন নয়। তিনি দায়িত্বে থাকার সময় প্রশ্ন ফাঁস হয়েছিলো কিনা বা প্রশ্নফাঁসের সময় থেকে তিনি কোন দায়িত্বে ছিলেন কিনা বা জড়িত ছিলেন কিনা সেটা আগে জানতে হবে। তারপর আশা করি আমরা তাকে দোষারোপ করবো যদি তিনি অপরাধী হন বা তার কোন দায় থাকে।"

এদিকে ২৪তম বিসিএসের প্রশ্নফাঁস কেলেঙ্কারির বিষয়টি উঠে এসেছিল ওই সময়কার জাতীয় দৈনিকগুলোতে। ২০০৩ সালের ৪ মার্চের দৈনিক ইনকিলাব পত্রিকায় শিরোনাম ছিল ‘২৪তম বিসিএস পরীক্ষা বাতিল’।

ওই প্রতিবেদনেও উল্লেখ করা হয়েছে ২৪তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিলের কথা। সেখানে বলা হয়েছে, ‘২৪তম বিসিএস প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। গতকাল (সোমবার) বিকেলে পাবলিক সার্ভিস কমিশনে (পিএসসি) অনুষ্ঠিত এক জরুরি সভায় আকস্মিকভাবেই এই পরীক্ষা বাতিলের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। অবশ্য এর আগে গতকাল সকালেই পিএসসি ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। কিন্তু তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করতে না করতেই রহস্যজনকভাবে পুরো পরীক্ষা বাতিলেরই সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।’

রিউমার স্ক্যানার ও ২০০৩ সালের ৪ মার্চের খবরের কাগজে প্রকাশিত সংবাদ বিশ্লেষণ করে স্পষ্ট হয় ২০০৩ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত ২৪ তম বিসিএসের প্রিলিমিনারি পরীক্ষা বাতিল হয়। ফলে বিসিএসে তাহসানের পররাষ্ট্র ক্যাডারে সুপারিশ পাওয়ার কোনো সুযোগই নেই। এছাড়া ২৪ তম বিসিএসে ভাইবা একবারই হয়েছিল। যার কারণে পুনরায় ভাইবায় অংশগ্রহণের দাবিটিও অমূলক।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত আলোচিত