বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ‘সরকার তো পরিপত্র জারি করেছিল যে কোটা থাকবে না। আবার আদালত থেকে এটা হলো কেন? আমাদের কাছে তো মনে হয় প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে আদালতের যেন একটা টেলিপ্যাথিক সম্পর্ক আছে। অর্থাৎ শেখ হাসিনা যেটা ভাবেন, আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে সেটা চলে আসে।’
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে নয়াপল্টনে নিখোঁজ ছাত্রদল নেতা আতিকুর রহমান রাসেলের সন্ধান দাবিতে ছাত্রদল আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে রিজভী এসব কথা বলেন।
রিজভী বলেন, ‘আমরা দেখছি সরকার যেটা চায়, সেটা আদালতের রায়ের মধ্য দিয়ে চলে আসে। এই টেলিপ্যাথিক সম্পর্কটা হয় কী করে? কোমলমতি শিক্ষার্থীরা তাদের ক্লাস ছেড়ে প্রতিদিন রাজপথে নেমে আসছে। এটা কি অন্যায়? অন্যায্য?’
তিনি বলেন, ‘রাসেলের সন্ধান দাবিতে তার বাবার যে আকুতি শুনলাম, এভাবেই বাংলাদেশের আকাশে প্রতিনিয়ত সরকার অসংখ্য উল্কাপাত ঘটিয়েছে। কোন দেশে বাস করি, যেখানে কোমলমতি ছাত্রদের, তরুণদের ধরে নিয়ে নিরুদ্দেশ করে দেবে।’
কোটাবিরোধী আন্দোলনকে সমর্থন জানিয়ে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের পক্ষ থেকে বলা হয়, ‘অতিসীমিত সংখ্যা কোটা আর বাংলাদেশে এখন আর কোনো কোটার প্রয়োজন নেই।’
সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির বলেন, ‘২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনে ছাত্রদল নৈতিক সমর্থন দিয়েছিল। এই আন্দোলনেও আমরা সমর্থন দিচ্ছি। বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন ব্যক্তিদের অতি সীমিতসংখ্যক কোটা ছাড়া বাংলাদেশে এই মুহূর্তে আর কোনো কোটার প্রয়োজন নেই। এটি আমাদের অফিশিয়াল বক্তব্য। ছাত্রলীগ ও যুবলীগের সন্ত্রাসীদের রুখে দিয়ে এই আন্দোলন সফল হবে ইনশাহ আল্লাহ।’
ছাত্রদল সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, ‘ঢাকা কলেজের যেসব নেতা কোটাবিরোধী আন্দোলনের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, তাদের বলছি, আপনাদের কলেজের সহপাঠী আতিকুর রহমান রাসেলকে গুম করা হয়েছে, তার সন্ধানের দাবি আপনারা জানাবেন সেটা প্রত্যাশা করি।’
গত ১ জুলাই আজিমপুর এলাকা থেকে রাসেলকে সাদা পোশাকধারী সদস্যরা তুলে নিয়ে যায়। বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘১২ দিন ধরে আমাদের সহযোদ্ধা গুম হয়ে আছেন। প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কোনো সাড়াশব্দ করছে না, একটা কথাও বলছে না। রাসেলকে আমাদের মাঝে ফিরিয়ে দেওয়া না হলে আগামী দু-এক দিনের মধ্যেই ঢাকাসহ সারা দেশে এর প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করব।’
এ সময় রাসেলের বাবা আবুল হোসেন সরদার তার ছেলের সন্ধান দাবি করে বলেন, ‘আমি ১১ দিন ধরে খুব অসুস্থ, খাওয়া-দাওয়া করতে পারছি না। আমার দুটি ছেলে, একটা বিদেশে থাকে আর একটা ঢাকায় থেকে পড়াশোনা করে। আমি লালবাগ থানায় জিডি করেছি। ছেলের মোবাইল বন্ধ। পুলিশের উচ্চপর্যায়েও গিয়েছি, ফলাফল শূন্য। আমার সন্তানকে বুকে ফেরত চাই। আমি জানি না, আমার বাবা কী করেছে? কী অপরাধ আমার বাবার? জীবনে একটা ককটেল মারে নাই, একটা ছুরি হাতে নেয় নাই, মানুষকে ঢিল মারে নাই। রাজনীতি করা যদি অপরাধ হয়ে থাকে, এটা আমার বলার কিছু নাই।’
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপির কেন্দ্রীয় নেতা শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানি, ছাত্রদলের শ্যামল মালুম, আমানউল্লাহ আমান, ঢাকা কলেজ শাখার সভাপতি শাহীনুর রহমান শাহীন, সাধারণ সম্পাদক জুলহাস মিয়াসহ কেন্দ্রীয় নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
