উচ্চ ক্ষমতার বৈদ্যুতিক সঞ্চালন লাইনসংলগ্ন ভবন নির্মাণে সরকারি নিষেধাজ্ঞা থাকলেও তা অমান্য করে চট্টগ্রামের ফটিকছড়িতে ভবন নির্মাণ করছেন অনেক জমির মালিক। এতে বিদ্যুৎ লাইন থেকে ভবনের দূরত্ব কমে যাওয়ায় অসাবধানতাবশত : দুর্ঘটনা ঘটছে।
উপজেলা পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ১১ হাজার ভোল্টের লাইনের ক্ষেত্রে ৩ মিটার এবং ৩৩ হাজার ভোল্টের ক্ষেত্রে ৯ মিটার দূরত্ব বজায় রেখে ভবন নির্মাণের বিধান থাকলেও বেশির ভাগ ক্ষেত্রে তা মানা হচ্ছে না।
লাইন সরানোর জটিলতা ও ব্যয় এড়াতে এক শ্রেণির দালালের মাধ্যমে স্থানীয় পল্লী বিদ্যুৎ কার্যালয়ের সংশ্লিষ্ট দায়িত্বে থাকা ব্যক্তিদের যোগসাজশে ঝুঁকি রেখেই ভবন নির্মাণ করেন জমির মালিকরা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত তিন বছরে উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ১০টির বেশি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর অর্ধেকের বেশি ঘটেছে উচ্চ ক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইনঘেঁষা ভবনে। ভবনের পাশ দিয়ে যাওয়া লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে উপজেলায় মৃত্যুর ঘটনা সবচেয়ে বেশি ঘটেছে ফটিকছড়ি ও নাজিরহাট পৌর এলাকায়। এখানে তিন বছরে অন্তত পাঁচটি হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। গত ১৮ জুন উপজেলার সমিতিরহাট ইউনিয়নে বহুতল ভবনের ছাদ থেকে বল আনতে গিয়ে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে তাসিন নামে এক ছাত্র মারা যায়। দুই বছর আগে বিবিরহাটের একটি ভবনে অনুষ্ঠানের মাইক বাঁধতে গিয়ে সঞ্চালন লাইনে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যান এক ডেকোরেটর শ্রমিক।
সরেজমিন দেখা যায়, উপজেলার কাঞ্চননগর ইউনিয়নের তেমুহনী বাজারে দোকানের ভেতরে ১১ হাজার ভোল্টের লাইনের বিদ্যুৎ খুঁটি রেখে মার্কেট নির্মাণ করেছেন স্থানীয় এক ব্যক্তি। একই এলাকায় শোয়ার ঘরের ভেতরে বিদ্যুৎ লাইন রেখে ভবন নির্মাণ করা হয়েছে। বক্তপুর ইউনিয়নের কড়লিয়া পুকুর এলাকায় সঞ্চালন লাইনের পাশে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নির্মাণেরকাজ চলছে। সুয়াবিল ইউনিয়নের বৈদ্যেরহাট এলাকায় বৈদ্যুতের লাইনঘেঁষে নির্মাণ করা হয়েছে বাণিজ্যিক ভবন। এ ছাড়া নানুপুর, আজাদী বাজার, কাজীরহাট ও হেঁয়াকো বাজারে উচ্চ ক্ষমতার বিদ্যুৎ লাইনঘেঁষে দাঁড়িয়ে আছে অর্ধশতাধিক বাণিজ্যিক ও আবাসিক ভবন।
একাধিক ভবন মালিক জানান, ভবন নির্মাণের আগে বিদ্যুৎ সঞ্চালন লাইন সরানোর চেষ্টা করা হলেও প্রক্রিয়াটি জটিল ও সময়সাপেক্ষ। তাই সে পথে না গিয়ে তারা ভবন নির্মাণ শুরু করে দিয়েছেন।
যোগসাজশের অভিযোগ অস্বীকার করে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২ ফটিকছড়ি কার্যালয়ের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার আবদুস ছালাম বলেন, ‘বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আমাদের না জানিয়ে ভবন নির্মাণ করা হয়ে থাকে। এ ব্যাপারে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে চিঠি দিয়ে অবহিত করা হয়েছে। প্রাথমিক পদক্ষেপ হিসেবে ভবনগুলো চিহ্নিত করে অচিরেই সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হবে।’
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোজাম্মেল হক চৌধুরী বলেন, ‘ভবনগুলো পরিদর্শন করে আইনি পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।’
