লাম্পি স্কিন রোগের টিকা নেই, ১৫ দিনে দুই শতাধিক গরুর মৃত্যু

  • নীলফামারীতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন খামারিরা 
  • আক্রান্ত পশুকে মশারির মধ্যে রাখার পরামর্শ 
আপডেট : ১৫ জুলাই ২০২৪, ০২:৩৩ পিএম

নীলফামারীতে লাম্পি স্কিন (ক্ষুরা) রোগের কার্যকরী টিকা না থাকায় গত ১৫ দিনে দুই শতাধিক গরুর মৃত্যু হয়েছে। এতে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন খামারিরা। রোগ প্রতিরোধে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে প্রাণিসম্পদ বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তারা। 

সরেজমিনে ঘুরে জানা গেছে, জেলার বিভিন্ন এলাকায় বেশির ভাগ কৃষকের গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত। এ রোগে গত ১৫ দিনে ডোমার উপজেলার বাগডোকরা, বামুনিয়া, খাটুরিয়া, হলহলিয়াসহ বিভিন্ন গ্রামে অন্তত দুই শতাধিক গরুর মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে জাহিরুল ইসলামের ৩টি, আবুবক্কর ছিদ্দিকের ২টি, এনামুল হকের ১টি, জয়মদ্দীনের ১টি, সহিদ হোসেনের ২টি, অহেদ আলীর ২টি, সফিকুল ইসলামের ৩টি, দেলোয়ার হোসেন দিলুর ২টি, জয়নাল আবেদীনের ৫টি, কামরুলের ১টি, সুবাহানের ১টি, নজরুল ইসলামের ১টি, উপেন্দ্রনাথ রায়ের ১টি ও অজয় রায়ের ৩টি গরু মারা গেছে। 

খাটুরিয়া গ্রামের জাহিরুল ইসলাম (৫০) বলেন, ‘ব্র্যাক ব্যাংক থেকে ছয় লাখ টাকা ঋণ নিয়ে ১৪টি ছোট-বড় গরু কিনে একটি খামার গড়ে তুলি। কিন্তু হঠাৎ ক্ষুরা রোগে আক্রান্ত হয়ে আমার একটি গাভিসহ তিনটি গরু মারা গেছে। এখন ব্যাংকের টাকা কিভাবে পরিশোধ করবো—তা বুঝতে পারছি না।’   

বাগডোকরা গ্রামের দেলোয়ার হোসেন দিলু (৬০) বলেন, ‘এলাকায় কম-বেশি প্রতিটি বাড়িতে আক্রান্ত গরু আছে। রোগ প্রতিরোধে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের সঙ্গে অনেক যোগাযোগ করেও সাড়া পাইনি। রোগটি ছোঁয়াচে হওয়ায় দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়া না হলে মহামারী আকারে ছড়িয়ে পড়বে।’  

লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত একটি বাছুর | ছবি: সংগৃহীত

সুধেন নাথ রায় নামে এক কৃষক জানান, তার দুটি গরু লাম্পি স্কিন রোগে আক্রান্ত হয়েছে। প্রথমে হোমিওপ্যাথিক চিকিৎসক দিয়ে চিকিৎসা করিয়েছেন। উপকার না হওয়ায় এখন কবিরাজের চিকিৎসা চলছে।

জেলা প্রাণিসম্পদ অফিস সূত্রমতে, লাম্পি স্কিন (ক্ষুরা) গবাদিপশুর নতুন একটি রোগ। আক্রান্ত পশুর প্রথমে সামনের পা ফুলে যায়। তাপমাত্রা বেড়ে গিয়ে শরীরে বড় বড় গুটি দেখা দেয়। এক সপ্তাহ পরে গুটিগুলো ঘায়ে রূপ নেয়। এরপর অল্প দিনেই গরু মারা যায়। এ রোগের শতভাগ কার্যকরী কোনো ভ্যাকসিন নেই। লাম্পি ভাইরাস আর গোট পক্সের ভাইরাসের মধ্যে অনেক মিল থাকায় অনেকে গোট পক্সের ভ্যাকসিন দিয়ে প্রতিরোধের চেষ্টা করছে। তবে এতে শতভাগ প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়।

নীলফামারী জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা (ভারপ্রাপ্ত) ডা. সিরাজুল হক বলেন, ‘এ পর্যন্ত জেলায় কতগুলো গরু আক্রান্ত হয়েছে—এর সঠিক পরিসংখ্যান আমাদের কাছে নেই। এ রোগের ক্ষেত্রে সরকারিভাবে কোনো ভ্যাকসিনের বরাদ্দ নেই। তাছাড়া এ রোগের সঠিক কোনো চিকিৎসাও নেই। মশা ও মাছির মাধ্যমে এ রোগ বেশি ছড়ায় বলে আমরা আক্রান্ত পশুকে মশারির ভেতরে রাখার পরামর্শ দেই।’  

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত