অবশেষে প্রেসিডেন্ট নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ও ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী জো বাইডেন। আসছে নভেম্বরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসকে ডেমোক্র্যাট দলের প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দিয়ে সরে দাঁড়ালেন যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের সবচেয়ে বয়স্ক প্রেসিডেন্ট। সরে দাঁড়ানোর মধ্য দিয়ে নতুন এক রেকর্ডও গড়লেন তিনি। বার্তা সংস্থা এএফপি বলেছে, গত ৫৬ বছরের মধ্যে তিনিই যুক্তরাষ্ট্রের প্রথম প্রেসিডেন্ট যিনি দ্বিতীয় দফার দৌড় থেকে সরে গেলেন। এ ছাড়া দেশটির ইতিহাসে তিনিই প্রথম প্রার্থী যিনি এতটা বিলম্ব করে নিজেকে সরিয়ে নিলেন। অবশ্য তার সরে যাওয়া ডেমোক্র্যাটদের জন্য ভালোই হয়েছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। আর বিশ্বনেতারাও বিষয়টি ইতিবাচক হিসেবে আখ্যা দিয়ে বাইডেনকে প্রশংসায় ভাসিয়েছেন। এদিকে ইতিমধ্যে অবস্থান শক্ত করা ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লড়াই করার মতো সামর্থ কমলা হ্যারিসের আছে নাকি অন্য কোনো প্রার্থীকে আনা হবে সে বিষয়ে এখনো অন্ধকারে ডেমোক্রেটিক পার্টি। বিষয়টি স্বীকার করেছেন ডেমোক্রেটিক পার্টির চেয়ারম্যান জিমি হ্যারিসন। তিনি বলেন, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একজন যোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেওয়া হবে। আগামী ১০ আগস্ট পার্টির শিকাগো সম্মেলনের আগেই চূড়ান্ত হবেন প্রার্থী। একই কথা বলেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামাও। গত রবিবার বাইডেনের ঘোষণার পর ওমাবা বলেন, সামনের দিনগুলোতে (ভোটের আগে) জল কোন দিকে গড়াবে তার নিয়ন্ত্রণ আমাদেরই করতে হবে। তিনি বলেন, আমার বিশ্বাস আমাদের দলের নেতারা ট্রাম্পের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য একজন যোগ্য প্রার্থীকেই মনোনয়ন দেবে।
তবে বাইডেনের বদলে কে হবে ডেমোক্র্যাট প্রার্থী সেটা নিয়ে যখন আলোচনা চলছে দলটির ভেতরে তখন বিশ্ব নেতা ও বিশ্লেষকরা তার সরে যাওয়ার সিদ্ধান্তের প্রশংসা করেছেন। তাদের মধ্যে কেউ কেউ বাইডেনের প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছেন। বার্তা সংস্থা এএফপি এমন কয়েকজন বিশ্ব নেতার প্রতিক্রিয়া প্রকাশ করেছে; যাদের বেশিরভাগই বাইডেনকে ধন্যবাদ- জানিয়েছেন। তার সাহসী সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন।
অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবেনিজ বলেছেন, নিজ স্বার্থের চাইতে আমেরিকার স্বার্থ বড় করে দেখেছেন, তাকে ধন্যবাদ।
জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎজ বলেন, আমার বন্ধু প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও তার দেশ ইউরোপ এবং বিশ্বের জন্য অনেক কিছু অর্জন করেছেন। ট্রান্স-আটলান্টিক সম্পর্ককে আরও কাছাকাছি, ন্যাটোকাকে আরও শক্তিশালী এবং আমাদের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে আরও আস্থাভাজন অংশীদার হিসেবে পরিণত করেছেন। তাকে ধন্যবাদ। নির্বাচন থেকে তার সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা সম্মানের দাবি রাখে।
যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার বলেন, বাইডেনের সিদ্ধান্তকে আমি সম্মান জানাই। তার সময়কার সম্পর্ককে আমরা আরও দূরে নিয়ে যেতে চাই। পোল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী ডোনাল্ড টাস্ক পোল্যান্ড ও আমেরিকাসহ সমগ্র বিশ্বকে আরও নিরাপদ করতে এবং বিশ্বজুড়ে গণতন্ত্রকে আরও শক্তিশালী করার ক্ষেত্রেও বাইডেনের ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর মতো কঠিন সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য তিনি বাইডেনের সাহসীকতারও প্রশংসা করেছেন।
অন্যদিকে ইউক্রেনে রাশিয়ার অভিযানের শুরু থেকে অব্যাহতভাবে সমর্থন ও সহযোগিতা দিয়ে যাওয়ায় এবং ইউক্রেনের পক্ষে বিশ্ব মতামতকে দাঁড় করানোর ক্ষেত্রে বিশেষ ভূমিকা রাখার জন্য বাইডেনের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। তিনি বলেছেন, ইউক্রেনে রুশ আগ্রাসন মোকাবিলায় বাইডেন প্রশাসন অনেক জোরালো পদক্ষেপ নিয়েছে, যা আমাদের সাহস ও শক্তি জুগিয়েছে। আমি এবং ইউক্রেনের জনগণ তার প্রতি কৃতজ্ঞ।
ফিলিস্তিনের গাজায় অভিযান চালালোর ক্ষেত্রেও বাইডেনের পুরোপুরি সমর্থন পেয়েছে ইসরায়েল। তার প্রতি কৃতজ্ঞতাও প্রকাশ করেছে দেশটি। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষমন্ত্রী ইয়োপ গ্যালান্ত বন্ধুত্ব ও নেতৃত্বের জন্য বাইডেনকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন।
