বছরে ৩০ কোটি শিশু যৌন নিপীড়নের শিকার

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪, ১২:২৫ এএম

ইউরোপে পুলিশের সংস্থা ইউরোপোল সতর্ক করে জানিয়েছে যে, অনলাইনে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে তৈরি শিশুদের যৌন নির্যাতনের ছবির হার অনেক বেড়ে গেছে। গত সোমবার হেগভিত্তিক সংস্থাটি নতুন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সহায়তায় এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি শিশু যৌন নির্যাতনের উপাদানের বিভিন্ন ঘটনা তাদের প্রতিবেদনে জায়গা পেয়েছে।

গত মে মাসে যুক্তরাজ্যের এডিনবরা বিশ্ববিদ্যালয়ের এক গবেষণায় উঠে এসেছে যে বছরে ত্রিশ কোটি শিশু অনলাইনে কোনো না কোনোভাবে যৌন শোষণের শিকার হচ্ছে। গবেষণায় দেখা গেছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা অনলাইনে শিশু নিপীড়নে এক নতুন মাত্রা এনে দিয়েছে আসল মানুষের আদলে নকল কনটেন্ট তৈরির মাধ্যমে। জার্মান সংবাদমাধ্যম ডয়েচে ভেলে জানাচ্ছে, সত্যিকারের ভুক্তভোগী এবং অপরাধীদের ধরা আরও কঠিন করে তুলেছে ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা’। পাশাপাশি আসল মানুষদের আদলে নকল কিছু তৈরিতে ‘ডিপফেক’ প্রযুক্তি ব্যবহারের কথাও জানিয়েছে ইউরোপোল। ইউরোপে ডিজিটাল হুমকি নিয়ে ৩৭ পাতার এক প্রতিবেদনে সংগঠনটি জানিয়েছে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা যা ব্যবহার করে শিশু যৌন নিপীড়করা শিশুদের যৌন নির্যাতনের উপাদান তৈরি বা পরিবর্তন করতে পারছেন সে সবের ব্যবহার ভবিষ্যতে আরও প্রসারিত হতে পারে, প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে যে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা দিয়ে তৈরি ছবির কারণে প্রকৃত ভুক্তভোগীদের শনাক্তও আরও কঠিন হয়ে পড়েছে।

ইউরোপোল জানিয়েছে, যেসব ঘটনায় পুরোপুরি কৃত্রিম কনটেন্ট তৈরি করা হয়েছে এবং সত্যিকারের কোনো ভুক্তভোগী সেখানে নেই, সেসবের ক্ষেত্রেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা শিশুদের অবমাননায় এবং তাদের যৌনবস্তু হিসেবে দেখানোয় ভূমিকা রাখছে।

তবে এই ধরনের ঘটনা প্রতিরোধে নানা পদক্ষেপ নিচ্ছে দেশগুলো। প্রযুক্তির বিকাশকে বাধাগ্রস্ত না করে কীভাবে হয়রানির ঘটনা কমানো যায় তারও পথ খুঁজছে ইউরোপের দেশগুলো। 

ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সম্প্রতি ব্লকের প্রথম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স অ্যাক্টের খসড়া তৈরি করেছে। এই আইনের মূলে রয়েছে, কপিরাইট নিয়ন্ত্রণ। ইউরোপিয়ান ড্যাটা প্রটেকশন বোর্ড এপ্রিলে চ্যাটজিপিটির জন্য একটি টাস্কফোর্স গঠন করেছে। ইতালি মার্চে চ্যাটজিপিটি নিষিদ্ধ করে দিয়েছিল। কিন্তু সেই নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। স্পেনও চ্যাটজিপিটি সীমা লঙ্ঘন করেছে কি না তা খতিয়ে দেখছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত