মা-বাবার সেবা করা ইবাদত

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪, ১২:৩৫ এএম

প্রায় সময় গণমাধ্যমে সন্তান কর্র্তৃক অসুস্থ ও বৃদ্ধ বাবা-মায়ের প্রতি অবহেলার রোমহর্ষক ঘটনার কথা প্রকাশ পায়। এসব ঘটনা যেমন সভ্য সমাজে মেনে নেওয়া যায় না, তেমনি তার পুনরাবৃত্তিও কাম্য নয়। মানুষ হিসেবে এসব অবশ্যই লজ্জার। আর মুসলমান হিসেবে তো এমন ঘটনা কল্পনাও করা যায় না। অবশ্য প্রত্যেক ধর্মেই বাবা-মায়ের সেবাকে পুণ্যের কাজ হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

কোরআনের অনেক জায়গায় আল্লাহতায়ালা মানুষকে বাবা-মায়ের প্রতি সদাচরণের কথা বলেছেন। যেমন সুরা আহকাফের ১৫ নম্বর আয়াতে বাবা-মায়ের প্রতি সদাচার করার এবং তাদের যত্ন নেওয়ার ওপর গুরুত্বারোপ করে ইরশাদ হয়েছে, ‘আমি মানুষকে তার পিতা-মাতার সঙ্গে সদ্ব্যবহারের আদেশ দিয়েছি...।’

ইসলাম মনে করে, বাবা-মায়ের সেবা-যত্ন করা আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতারই সোপান। বর্ণিত আয়াতে সন্তানের ওপর বাবা-মায়ের অধিকার, বিশেষ করে মায়ের অধিকার তুলে ধরা হয়েছে। কারণ, একজন মা গর্ভধারণের সময় ব্যাপক কষ্ট সহ্য করেন। মাতৃগর্ভে ভ্রুণ যতই বড় হতে থাকে ততই তার কষ্ট বাড়তে থাকে। অবস্থা এমন হয় যে, মা ঠিকমতো ঘুমাতে ও খেতে পারেন না। গর্ভবতী মায়ের প্রশান্তি ও স্বচ্ছন্দ্য বলতে কিছুই থাকে না। তারপর পরিণত বয়সে পৌঁছলে সেই সন্তান কর্র্তৃক মাকে অবহেলা কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। যে মা তার গর্ভস্থ সন্তানের জন্য এমন কষ্ট সহ্য করেন। আর সন্তান প্রসবের পর মায়ের জীবন হয়ে পড়ে আরও কঠিন।

দিন-রাত সন্তানের যত্ন নিতে হয় তাকে এবং সন্তানের সব চাহিদা ও ইচ্ছা পূরণ করতে হয় তাকে। শিশু সন্তানের খাদ্যের চাহিদা মেটানো হয় মায়ের দুধ দিয়ে। আর এসবই মায়ের অনন্য ত্যাগের কিছু দৃষ্টান্ত। এভাবেই মায়েরা সন্তানের জন্য সর্বোচ্চ ত্যাগ স্বীকার করেন। সেই সন্তান ক্রমেই বড় হতে থাকে। এক সময় সে পরিণত বয়সে উপনীত হয় এবং তার শারীরিক শক্তি ও ক্ষমতা পূর্ণতা পায়।  এমতাবস্থায় সে যেন বাবা-মায়ের ওই ত্যাগকে ভুলে না যায়, সেজন্য আল্লাহতায়ালা বান্দাকে সতর্ক করে দিয়েছেন। সে সঙ্গে জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত আল্লাহর কাছে কয়েকটি বিষয়ের তওফিক চেয়ে মুনাজাত করতে বলেছেন। সেই মুনাজাত হলো, ‘হে আমার পালনকর্তা! আমাকে এরূপ সৌভাগ্য দান করো, যাতে আমি তোমার সেসব নিয়ামতের শোকর করি যা তুমি দান করেছ আমাকে ও আমার পিতা-মাতাকে এবং যাতে আমি তোমার পছন্দনীয় সৎকাজ করি। আর আমার সন্তান ও বংশধরদের সৎকর্মপরায়ণ করো। আমি তোমার প্রতি তওবা করলাম এবং আমি আজ্ঞাবহদের অন্যতম।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত