ঢাকায় আটকে পড়া মানুষের দুর্ভোগ

আপডেট : ২৪ জুলাই ২০২৪, ০২:৩০ এএম

শিক্ষার্থীদের কোটা সংস্কার আন্দোলন ঘিরে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন ঢাকায় আটকে পড়েছেন বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ। দেশ জুড়ে চলমান কারফিউ শিথিলের সময় বাড়ছে। স্বাভাবিক হয়ে আসছে সবকিছু। তবে গতকাল মঙ্গলবার পর্যন্ত স্থলপথে দূরপাল্লার বাস-ট্রেন ছেড়ে যায়নি। ফলে বিভিন্ন জেলা থেকে ঢাকায় আসা মানুষ পড়েছে চরম দুর্ভোগে।

নড়াইলের আবদুল কাদের (৪০) কাতার যাওয়ার আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য গত সোমবার ঢাকায় আসেন। ওইদিনই রাজধানীর বাংলা মোটরে একটি মেডিকেল সেন্টারে তার স্বাস্থ্য পরীক্ষার কথা ছিল।

কারফিউর মধ্যে নানা ভোগান্তি পেরিয়ে নির্ধারিত সময়ে হাজির হয়েছিলেন তিনি। তবে ওই মেডিকেল সেন্টারে এসে দেখেন বন্ধ। নিরাপত্তার দায়িত্বে থাকা এক আনসার সদস্য তাকে জানান পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে আবার আসতে হবে।

নিরুপায় আবদুল কাদের বাংলা মোটর মোড়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন। কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানার চেষ্টা করছিলেন কীভাবে বাড়ি ফেরা যায়। অনেকেই তাকে পরামর্শ দেন এ পরিস্থিতিতে বাড়ি যাওয়ার মতো যানবাহন নেই। তিনি যেন ঢাকায় কোনো আত্মীয়র বাড়িতে থাকেন।

কারফিউর মধ্যে কীভাবে ঢাকায় এলেন জানতে চাইলে তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমার ভিসার মেয়াদ বেশি নেই। তাই মেডিকেল সেন্টারের দেওয়া নির্ধারিত তারিখে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করাতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাস্তায় বিভিন্ন গাড়ি বদলে ঢাকায় এসেছি। অনেক জায়গায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তল্লাশি করেছে। এসে শুনি মেডিকেল সেন্টার বন্ধ।

বন্ধের বিষয়টি আমাকে জানানো হয়নি। এখন রাতে কোথায় থাকব তার নিশ্চয়তা নেই। শুনছি রাতে আবাসিক হোটেলে থাকা নিরাপদ নয়। তাই ঢাকায় থাকা পরিচিতজনদের খোঁজার চেষ্টা করছি। যাতে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া পর্যন্ত থাকতে পারি। কবে যে বাড়ি ফিরব।’

কোটাব্যবস্থা সংস্কারের দাবিতে শিক্ষার্থীদের ‘সর্বাত্মক শাডডাউন’ কর্মসূচির শুরুর দিন থেকেই রাজধানীর সঙ্গে সারা দেশের রেল ও সড়ক পথের যোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। ফলে বিভিন্ন কাজে যারা রাজধানীতে এসেছেন, তারা আর বাড়ি ফিরতে পারেননি। দেশের বাইরে থেকে যারা ঢাকায় আসেন তারাও এ পরিস্থিতিতে আটকা পড়েছেন।

রাজধানীর শেওড়াপাড়ায় বন্ধুর মেসে পাঁচ দিন ধরে থাকছেন মাসুদ (২৭) নামে এক চাকরিপ্রার্থী। পঞ্চগড়ে থেকে তিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে ভাইভা দেওয়ার জন্য ঢাকায় আসেন। কিন্তু চলমান পরিস্থিতিতে ভাইভা দিতে পারেননি।

বেসরকারি ওই প্রতিষ্ঠান জানিয়ে দিয়েছে, পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে ভাইভা হবে। গত বৃহস্পতিবার তিনি ঢাকায় আসেন। সেদিন থেকেই বন্ধুর বাসায় থাকছেন। বাড়ি থেকেও বাবা-মা ঝুঁকি নিয়ে বাড়িতে ফিরতে নিষেধ করছেন।

তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘দেশে কারফিউ চলার কারণে বাড়িতে ফিরতে পারছি না। ঢাকা থেকে সরাসরি ট্রেনে যাতায়াত করি। কিন্তু ট্রেন বন্ধ। তাই বন্ধুর বাসায় থাকছি। এদিকে ইন্টারনেট না থাকায় বিপাকে পড়েছি। যে টাকা নিয়ে এসেছিলাম, তা ফুরিয়ে গেছে। বাড়ি থেকে টাকা পাঠাতে পারছে না। এখন বন্ধুর থেকে ধার করে চলতে হচ্ছে।

তবে এখন পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক বলে মনে হচ্ছে। কিছুটা স্বাভাবিক হলেই বাড়িতে যাব।’

শুধু রাজধানী নয়; বিভিন্ন পর্যটন জেলায় গিয়ে আটকা পড়েছে অসংখ্য মানুষ। তবে গতকাল মঙ্গলবার আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তায় কক্সবাজার থেকে ৫৬টি গাড়ি করে পর্যটকরা ফিরতে শুরু করেছেন। আবুল কালাম আজাদ নামে এক পর্যটক গতকাল মোবাইল ফোনে জানান, কারফিউ জারির দিন থেকে গতকাল পর্যন্ত তিনি কক্সবাজারে আটকা ছিলেন। তার সঙ্গে আটকা পড়েন ঘুরতে যাওয়া আরও পাঁচজন। তারা গতকাল বিমানে করে ঢাকায় ফিরেছেন। এরকম অসংখ্য যাত্রী কারফিউ জারির দিন থেকে আটকা পড়েন কক্সবাজারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত