কোটা আন্দোলন 

এক গুলিতেই সব স্বপ্ন শেষ 

আপডেট : ২৭ জুলাই ২০২৪, ০৬:৫০ পিএম

একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে বুক চাপড়াতে চাপড়াতে কান্না করছিলেন কোটা সংস্কার আন্দোলনে গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত রাকিবের মা রাশিদা বেগম। নারায়ণগঞ্জের গার্মেন্টস-কর্মী রাকিব দিনমজুর বাবা, হার্টের রোগী মা, প্রতিবন্ধী বড় ভাই শাকিল ও নবপরিণীতা স্ত্রী জান্নাতকে নিয়ে ফতুল্লায় ভাড়া বাসায় থাকতেন। রাকিবের স্বপ্ন ছিল, নিজ গ্রামে ঘর বানিয়ে পরিবারের সবাইকে নিয়ে থাকার। হতদরিদ্র এই পরিবারটির সব স্বপ্ন যেন মুহূর্তেই গ্রাস করল একটি গুলি।

গত ২১ জুলাই সকালে ফতুল্লার পোস্ট অফিস এলাকার বাজার করতে বেরিয়ে কোটা সংস্কার আন্দোলনকারী ও পুলিশের সংঘর্ষের মধ্যে পড়ে গুলিবিদ্ধ হন রাকিব। ওইদিন দুপুরে নারায়ণগঞ্জ সদর হাসপাতালে গিয়ে ছেলে রাকিবের লাশ শনাক্ত করেন বাবা মোশারেফ হোসেন। রাতেই বরিশাল জেলার বানারীপাড়ার উপজেলার সদর ইউনিয়নের জম্বদ্বীপ গ্রামের বাড়িতে নিয়ে আসা হয় তার মরদেহ। পরের দিন সকালে বাড়ির উঠানে জানাজা শেষে তাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।

গ্রামের বাড়ি বানারীপাড়ার জম্বদ্বীপ গ্রামে রাকিবদের কোনো ঘর নেই। জীর্ণশীর্ণ একটি ঘরে বসবাস করছেন তার চাচা নুরুল হক। ছেলে রাকিবের মরদেহ নিয়ে মোশারেফ হোসেন ও তার পরিবার গ্রামে ফিরে ঠাঁই নিয়েছেন সেই ঘরেই।

রাকিবের মা রাশিদা বেগম বলেন, ‘গ্রামে ঘর বানিয়ে আমাদের রাখার স্বপ্ন ছিল রাকিবের। একটি গুলির আঘাতে সব স্বপ্ন চুরমার হয়ে গেল। অসহায়-এতিম মেয়েটাকে ছেলের বউ করেছিলাম। চোখের সামনে বউটা আজ বিধবা। ওর দিকে আর তাকাতে পারছি না।’

রাকিবের চাচা নুরুল হক জানান, চলতি বছরের মার্চের দিকে রাকিবের সঙ্গে বিয়ে হয় বরগুনার আমতলীর মেয়ে জান্নাতের (১৮)। ছোটবেলায় পিতা-মাতাকে হারিয়ে নানির কাছে বড় হয় অসহায়-এতিম জান্নাত। বিয়ের পর স্বামী ছিল তার বাঁচার একমাত্র অবলম্বন। কিন্তু দু’হাতে আঁকা বিয়ের মেহেদির রঙ মুছে যাওয়ার আগেই সব স্বপ্ন-আশা যেন চুরমার হয়ে গেল তার।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত