কাল থেকে চলবে স্বল্প দূরত্বের ট্রেন

আপডেট : ৩১ জুলাই ২০২৪, ০৭:২২ এএম

কারফিউ শিথিল থাকার সময়ে আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে স্বল্প দূরত্বে যাত্রীবাহী, মেইল, লোকাল ও কমিউটার ট্রেন চলাচল করবে। পরিস্থিতি স্বাভাবিক থাকলে আগামী সপ্তাহ থেকে দূরপাল্লার আন্তঃনগর ট্রেন চালুর পরিকল্পনা রয়েছে বলে জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।

গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঢাকায় রেল ভবনের সভাকক্ষে বাংলাদেশ রেলওয়ের ট্রেন চলাচল সংক্রান্ত এক বৈঠকে ট্রেন চালুর বিষয়ে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। রেলমন্ত্রী  মো. জিল্লুল হাকিমের সভাপতিত্বে বৈঠকে রেল কর্তৃপক্ষ ছাড়াও পুলিশ ও বিভিন্ন  গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

বিষয়টি নিশ্চিত করে রেলপথ মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা ইফতেকার আলম রাজন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘বৈঠকে বৃহস্পতিবার থেকে বিভিন্ন রুটে স্বল্প দূরত্বের ট্রেন চলাচলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। পরবর্তী সময়ে ধীরে ধীরে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো চালুর পরিকল্পনা রয়েছে কর্তৃপক্ষের।’

কোটা সংস্কার আন্দোলনকারীদের ডাকা ‘কমপ্লিট শাটডাউন’ কর্মসূচির মধ্যে গত ১৮ জুলাই দুপুরে ঢাকার মহাখালী ও নাখালপাড়া এলাকায় রেলপথ অবরোধ করেন শিক্ষার্থীরা। তাদের অবরোধের কারণে সেদিন দুপুর ১২টার পর থেকে ঢাকার সঙ্গে সারা দেশের রেলযোগাযোগ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনার ভিত্তিতে রেল কর্তৃপক্ষ অনির্দিষ্টকালের জন্য সারা দেশে ট্রেন চলাচল বন্ধ  ঘোষণা করে। এভাবে রেল চলাচল বন্ধের ঘটনা দেশে নজিরবিহীন হিসেবে উল্লেখ করেছেন কর্মকর্তারা।

গত বুধবার সীমিত পরিসরে মালবাহী ট্রেন চলেছিল তবে বৃহস্পতিবার থেকে এসব  ট্রেন চলাচল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। শুধু বিজিবি প্রহরায় কয়েকটি তেলবাহী ট্রেন চলাচল করছে। আগামীকাল থেকে কিছু মালবাহী ট্রেনও চলতে পারে বলে সূত্র জানিয়েছে।

 রেলওয়ে সূত্র জানায়, ঢাকা-গাজীপুর, ঢাকা-টাঙ্গাইল এবং ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথের কমিউটার ট্রেনগুলো বেশি চলাচল করবে। কারফিউ শিথিল থাকা সময়ের মধ্যে চার বার থেকে পাঁচ বার যাওয়া-আসা করতে পারে এসব ট্রেন। ঢাকা-নারায়ণগঞ্জ পথে স্বাভাবিক সময়ে ২০ বারের বেশি কমিউটার ট্রেন যাতায়াত করে।

এছাড়া দূরবর্তী যাত্রার মধ্যে ঢাকা থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার মধ্যে চলাচল করবে তিতাস কমিউটার ট্রেন। স্বাভাবিক সময়ে তিতাস ট্রেন দিনে চারবার আসা-যাওয়া করে। বৃহস্পতিবার একবার আসা-যাওয়া করতে পারবে।

রেলের পশ্চিমাঞ্চলে (রাজশাহী, রংপুর ও খুলনা বিভাগ) কয়েকটি পথে ট্রেন চলাচল করতে পারে। এর মধ্যে রাজশাহী থেকে চাঁপাইনবাবগঞ্জ এবং লালমনিরহাট থেকে বুড়িমারী পর্যন্ত চলাচল করবে কমিউটার ট্রেন। এ ছাড়া ঢাকা থেকে পদ্মা সেতু হয়ে রাজবাড়ী পর্যন্ত কমিউটার ট্রেন চালুর পরিকল্পনা আছে। এর বাইরে রাজশাহী থেকে রাজবাড়ী ও ফরিদপুরের পথেও লোকাল ট্রেন চলতে পারে। চট্টগ্রাম থেকে  দোহাজারী পথে ট্রেন চালানোর পরিকল্পনা আছে রেল কর্তৃপক্ষের। 

 রেলওয়ের কর্মকর্তারা জানান, স্বাভাবিক সময়ে গড়ে প্রতিদিন ৪০০টির মতো যাত্রীবাহী ও মালবাহী ট্রেন চলাচল করে। এর মধ্যে ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে চলাচলকারী মৈত্রী, বন্ধন এবং মিতালী এক্সপ্রেসও রয়েছে। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিট বিক্রি হয় ১০ দিন আগে থেকে। গড়ে প্রতিদিন আড়াই লাখ যাত্রী বিভিন্ন গন্তব্যে ট্রেনে যাতায়াত করেন।

এর আগে টানা সাত দিন ট্রেন চলাচল বন্ধ থাকার পর গত বৃহস্পতিবার ঢাকা থেকে স্বল্প দূরত্বে ট্রেন চলাচলের সিদ্ধান্ত নিয়েছিল রেলওয়ে। তবে যাত্রী নিরাপত্তার কথা চিন্তা করে তা আবারও বাতিল করা হয়। এদিন ট্রেন চলাচলের খবরে স্টেশনে আসা যাত্রীরা ক্ষোভ প্রকাশ করেন।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত